Bairstow leads charge as Yorkshire hand out Roses hammering – বেয়ারস্টো ইয়র্কশায়ারকে নেতৃত্ব দিলেন রোজ হ্যামারিংয়ে: ভাইটালিটি ব্লাস্টে ল্যাঙ্কাশায়ারের রেকর্ড হার
ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যে অন্যতম ভাইটালিটি ব্লাস্টে ইয়র্কশায়ার ও ল্যাঙ্কাশায়ারের মধ্যকার ‘রোজ ডার্বি’ সবসময়ই বিশেষ আবেদন তৈরি করে। হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত এবারের ম্যাচে সেই উত্তেজনা ছিল চরমে, যেখানে ইয়র্কশায়ার তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ল্যাঙ্কাশায়ার লাইটনিংকে ১০৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে এক স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে। এই ফলাফল কেবল ইয়র্কশায়ারকে উত্তর গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে নিয়ে যায়নি, বরং ল্যাঙ্কাশায়ারের জন্য টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এটি ছিল রানের হিসাবে তাদের সবচেয়ে বড় পরাজয়, যা তাদের হতাশাজনক মৌসুমের চিত্র আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। অধিনায়ক জনি বেয়ারস্টোর অসাধারণ ব্যাটিং এবং বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইয়র্কশায়ার এই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে।
ইয়র্কশায়ারের বিস্ফোরক ব্যাটিং: বেয়ারস্টোর ঝলক
ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইয়র্কশায়ার তাদের ইনিংসে রানের পাহাড় গড়ে তোলে। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা ৭ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। এই রানের পেছনে মূল কারিগর ছিলেন অধিনায়ক জনি বেয়ারস্টো। ওপেনিংয়ে নেমে তিনি মাত্র ৪৪ বলে ৭৩ রানের এক বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন, যেখানে তার ব্যাট থেকে আসে চারটি বিশাল ছক্কা এবং বেশ কিছু চোখ ধাঁধানো বাউন্ডারি। পিচের অবস্থা এবং প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণকে মাথায় রেখে বেয়ারস্টো শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করেন, যা ইয়র্কশায়ারের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।
বেয়ারস্টো শুরুতেই ওপেনার অ্যাডাম লিথের সাথে একটি দ্রুত গতির জুটি গড়ে তোলেন, যদিও লিথ খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। টম অ্যাসপিনওয়ালের বলে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন তিনি। এরপর উইলেক্সেন লুস্টনের সাথে বেয়ারস্টোর জুটি জমে ওঠে। এই দুজন দ্বিতীয় উইকেটে ১০৫ রানের এক চমৎকার পার্টনারশিপ গড়েন, যা ল্যাঙ্কাশায়ারের বোলারদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। উইল লুস্টনও তার ব্যাট হাতে ঝলক দেখান, সাকিব মাহমুদকে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি নিজের ফর্মের জানান দেন। তাদের এই জুটি ইয়র্কশায়ারের ইনিংসকে মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করায় এবং স্কোরবোর্ডকে সচল রাখে। বেয়ারস্টো মাত্র ৩২ বলে তার অর্ধশতক পূর্ণ করেন, যা তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের প্রমাণ।
ল্যাঙ্কাশায়ারের বোলিং সংগ্রাম
ল্যাঙ্কাশায়ারের বোলিং আক্রমণ এদিন ইয়র্কশায়ারের ব্যাটসম্যানদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। বিশেষ করে সাকিব মাহমুদ তার চার ওভারে ৬০ রান খরচ করে ল্যাঙ্কাশায়ারের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল বোলিং স্পেলের রেকর্ড গড়েন। টম অ্যাসপিনওয়াল অবশ্য কিছুটা সফল ছিলেন, ৩ উইকেট নিয়ে তিনি ইয়র্কশায়ারের রান তোলার গতিকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। তবে বেয়ারস্টো এবং লুস্টনের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের সামনে তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। লিয়াম লিভিংস্টোন এবং টম হার্টলি কিছু গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিলেও, ততক্ষণে ইয়র্কশায়ার একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে গিয়েছিল।
১৩তম ওভারে লিয়াম লিভিংস্টোনের স্পিনে বেয়ারস্টো ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে আউট হলে তাদের শতরানের জুটি ভাঙে। পরের ওভারেই টম হার্টলির বাঁহাতি স্পিনে লুস্টনও ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন এবং মঈন আলী শূন্য রানে বোল্ড হয়ে ফিরে যান। মাত্র দুই বলের ব্যবধানে ১৩৫/১ থেকে ১৩৭/৪ হয়ে যাওয়ায় ইয়র্কশায়ার কিছুটা চাপে পড়েছিল। তবে জেমস হোয়ার্টনের ১৬ বলে অপরাজিত ৩৫ রানের ঝড়ো ইনিংস ইয়র্কশায়ারকে আবার ম্যাচে ফিরিয়ে আনে এবং তাদের ২১০ পার করতে সাহায্য করে। তার এই ছোট কিন্তু কার্যকরী ইনিংস দলের মোট স্কোরকে আরও বাড়িয়ে দেয়, যা প্রতিপক্ষের জন্য একটি বিশাল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।
ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটিং বিপর্যয়: রেকর্ড পরাজয়
২১৩ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ল্যাঙ্কাশায়ার লাইটনিং শুরু থেকেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। তাদের ইনিংস ১৫ ওভারের মধ্যেই মাত্র ১০৭ রানে গুটিয়ে যায়, যা ভাইটালিটি ব্লাস্টের ইতিহাসে তাদের সবচেয়ে বড় রানের ব্যবধানে পরাজয়। ইয়র্কশায়ারের বোলাররা শুরু থেকেই ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিতে থাকেন।
ল্যাঙ্কাশায়ারের ইনিংসের ১৯ বলের মধ্যেই তারা ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসেছিল। পাকিস্তানি বিদেশি তারকা হাসান আলী তার প্রথম ওভারেই কেইটন জেনিংসের অফ স্টাম্প উপড়ে ফেলেন, যা এক অসাধারণ ডেলিভারি ছিল। এরপর ফাহিম আশরাফ ম্যাটি হার্সটকে বোল্ড করেন এবং মঈন আলী তার অফস্পিনে মার্কাস হ্যারিসকে বোল্ড করে ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। এই তিন দ্রুত উইকেট পতনে ল্যাঙ্কাশায়ারের জয়ের আশা প্রায় শেষ হয়ে যায়।
চোহান ও মঈনের ঘূর্ণি জাদু
ইয়র্কশায়ারের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন লেগ স্পিনার জাফার চোহান এবং অভিজ্ঞ অফ স্পিনার মঈন আলী। চোহান তার ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন, যা ছিল এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। তার বলে ম্যাথিউ রেভিসের অসাধারণ ক্যাচে বেন ম্যাকডার্মট আউট হন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মঈন আলীও তার অফস্পিনে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের মিডল অর্ডারকে ধসিয়ে দেন। তিনি জো মুরেসকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন।
ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে একমাত্র লিয়াম লিভিংস্টোন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তিনি ৩০ বলে ৪৪ রানের একটি সাহসী ইনিংস খেলেন, কিন্তু তার একার পক্ষে ২১৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করা সম্ভব ছিল না। ৯৭ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর তার বিদায় ল্যাঙ্কাশায়ারের পরাজয়কে নিশ্চিত করে দেয়। চোহান শেষ দুটি উইকেট তুলে নিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের ইনিংসের যবনিকাপাত ঘটান। অ্যাসপিনওয়াল এবং মাহমুদকে পরপর বলে আউট করে তিনি ইয়র্কশায়ারের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন।
উপসংহার
এই বিশাল জয় ইয়র্কশায়ারের ভাইটালিটি ব্লাস্টে তাদের চতুর্থ জয়, যা তাদের উত্তর গ্রুপের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে। দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, বিশেষ করে অধিনায়কের দায়িত্বশীল ও বিস্ফোরক ইনিংস এবং বোলারদের সম্মিলিত আক্রমণাত্মক বোলিং তাদের এই সাফল্য এনে দিয়েছে। অন্যদিকে, ল্যাঙ্কাশায়ার তাদের চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটি হেরে এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখে। এই রেকর্ড পরাজয় তাদের মনোবলকে নিঃসন্দেহে আঘাত করবে এবং তাদের টুর্নামেন্টে টিকে থাকার জন্য আগামী ম্যাচগুলোতে আরও ভালো পারফর্ম করতে হবে। হেডিংলির এই ‘রোজ ডার্বি’ ক্রিকেট অনুরাগীদের মনে দীর্ঘদিন ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, যেখানে Bairstow leads charge as Yorkshire hand out Roses hammering এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্ম দিয়েছিল।
