Report

Lawrence’s latest hundred not enough for Surrey win – or England call-up: সারে বনাম হ্যাম্পশায়ার ম্যাচ ড্র

Nikhil Rao · · 1 min read

ড্যান লরেন্সের অনন্য কীর্তি এবং সারের ড্র ম্যাচ

ড্যান লরেন্সের ব্যাট থেকে আসা দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও শেষ পর্যন্ত ওভালে সারেকে কাঙ্ক্ষিত জয় এনে দিতে পারেনি। প্রথম ইনিংসে ১৯০ বলে ২১৮ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলার পর, দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৬৪ বলে ১০১ রানের একটি বিধ্বংসী শতক উপহার দেন লরেন্স। কিন্তু প্রকৃতির বৈরিতা এবং হ্যাম্পশায়ারের অনমনীয় ব্যাটিংয়ের কারণে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্রয়ে নিষ্পত্তি হতে বাধ্য হয়। তবে এই দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পরেও লরেন্সের জন্য আরও একটি হতাশার খবর অপেক্ষা করছিল।

বুধবার বিকেলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ইংল্যান্ডের ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়। ঠিক তার কিছুক্ষণ আগেই লরেন্স কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে তার চলতি মৌসুমের পঞ্চম শতকটি পূর্ণ করেছিলেন। তবে নির্বাচকরা অতিরিক্ত ব্যাটসম্যান হিসেবে জর্ডান কক্সকে দলে জায়গা দিলে লরেন্সের জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন আপাতত থমকে যায়। সত্যি বলতে, এই ম্যাচটি তার ব্যক্তিগত যোগ্যতার প্রমাণ দিলেও দলের ভাগ্য বা জাতীয় দলে ফেরার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

আবহাওয়ার কারণে থমকে যাওয়া ম্যাচ

এই ম্যাচের প্রথম তিন দিনে বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রায় ৯২ ওভারের খেলা নষ্ট হয়েছিল। ফলে চতুর্থ তথা শেষ দিনে সারের জন্য জয় তুলে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল। তারা দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে দিন শুরু করেছিল এবং হ্যাম্পশায়ারের চেয়ে ১৪৫ রানে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ড্যান লরেন্সের অসাধারণ ব্যাটিং এবং ডম সিবলির অপরাজিত ১০৫ রানের লড়াকু ইনিংসের ওপর ভর করে লাঞ্চের আগেই সারে ৫ উইকেটে ২৫৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। হ্যাম্পশায়ারের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৬৪ ওভারে ৩৪৮ রান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে হ্যাম্পশায়ার শুরুতেই বড় ধাক্কা খায়। বাঁহাতি পেসার রিস টপলির চমৎকার স্পেলে (৬-৪-১০-২) তারা মাত্র ১৯ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে। তবে এরপর আলী অর এবং জেক লেম্যান প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তারা দুজন মিলে তৃতীয় উইকেটে ৮২ রানের জুটি গড়ে দলের পরাজয় এড়ান। মৌসুমের প্রথম চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ খেলতে নামা অর ১২১ বলে ৫৩ রানে এবং লেম্যান ১০৩ বলে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন। বিকেল ৫টায় ম্যাচ যখন ড্র ঘোষণা করা হয়, তখনো ২০ ওভারের খেলা বাকি ছিল। হ্যাম্পশায়ার শেষ পর্যন্ত ১০১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ম্যাচটি ড্র করতে সক্ষম হয়।

ইতিহাসের পাতায় ড্যান লরেন্স

ম্যাচটি ড্র হলেও ড্যান লরেন্স এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে তিনি মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে একই ম্যাচে একটি ডাবল সেঞ্চুরি এবং বলের চেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেটে একটি সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েছেন। এর আগে ১৯৯০ সালে অ্যাবার্গ্যাভেনিতে গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে ওরচেস্টারশায়ারের হয়ে গ্রায়েম হিক এই রেকর্ড গড়েছিলেন। এছাড়া সারের ক্লাব ইতিহাসে প্রথম-শ্রেণীর ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি এবং সেঞ্চুরি করা মাত্র তৃতীয় ব্যাটসম্যান ড্যান লরেন্স। এর আগে ২০১০ সালে মার্ক রামপ্রকাশ এবং ২০০৫ সালে স্কট নিউম্যান এই গৌরব অর্জন করেছিলেন।

সকালের সেশনে রানের ঝড়

চতুর্থ দিনের সকালে সারে মাত্র ৩২ ওভারে ২০২ রান সংগ্রহ করে হ্যাম্পশায়ারের বোলারদের ওপর রীতিমতো তান্ডব চালায়। হ্যাম্পশায়ারের মূল লক্ষ্য ছিল স্লো ওভার রেটের জন্য পয়েন্ট কর্তন এড়ানো এবং একই সাথে রান তোলার গতি কমিয়ে রাখা। সারে তাদের নাইটওয়াচম্যান ম্যাট ফিশারকে (১২) দ্রুত হারালেও লরেন্স মাঠে নেমে ডম সিবলির সাথে যোগ দিয়ে প্রথম বল থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে শুরু করেন। মাত্র ৩৫ বলে তিনি নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।

ফেলিক্স অর্গানের অফ-স্পিনকে লরেন্স কাউন্টির প্রথম ইনিংসের মতোই সীমানার বাইরে পাঠাতে থাকেন। তবে জেমস ফুলারের মিডিয়াম ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে তিনি যে শটটি খেলেন, তা ছিল দেখার মতো। অফ স্টাম্পের প্রায় দুই ফুট বাইরের একটি বলকে হাঁটু গেড়ে বসে ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কায় পরিণত করেন লরেন্স। এই অবিশ্বাস্য শটের মাধ্যমে তিনি ৮৮ রানে পৌঁছান এবং ওই মুহূর্তে হ্যাম্পশায়ারের বোলারদের জন্য তাকে বল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

সিবলির সেঞ্চুরি এবং ইনিংস ঘোষণা

ডেলানো পটগিটারের বলে লরেন্স যখন আউট হন, ততক্ষণে তিনি ২১ ওভারের ব্যাটিং তান্ডব চালিয়ে গেছেন। এরপর অলি পোপ মাত্র ১ রান করে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। এরপর স্যাম কারান এসে সিবলির সাথে জুটি বাঁধেন। সিবলি তার ইনিংসের সেরা দুটি শট খেলে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। লাঞ্চের আগের ওভারে পটগিটারকে ছক্কা মেরে ৯৬ রানে পৌঁছান এবং পরের বলেই কভার দিয়ে দুর্দান্ত ড্রাইভে চার মেরে শতরান পূর্ণ করেন। স্যাম কারানও এই ওভারে একটি ছক্কা হাঁকান এবং এরপরই সারে তাদের ইনিংস ঘোষণা করে। শেষ পর্যন্ত ড্যান লরেন্সের ব্যক্তিগত অর্জন সারের জয় বা ইংল্যান্ড দলে ডাক পাওয়ার জন্য যথেষ্ট না হলেও, এই ম্যাচটি তার ব্যাটিং প্রতিভার এক উজ্জ্বল প্রমাণ হিসেবে ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় থেকে যাবে।

Avatar photo
Nikhil Rao

Nikhil Rao analyzes fantasy cricket picks, probable XIs, captain choices, and player form ahead of major matches.