Hasan Mahmud included in Zimbabwe Test plans after County stint
কাউন্টি অভিজ্ঞতা শেষে জিম্বাবুয়ে সিরিজের টেস্ট স্কোয়াডে হাসান মাহমুদ
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফাস্ট বোলার হাসান মাহমুদ বর্তমানে ইংল্যান্ডে অবস্থান করছেন। সেখানে কেন্ট কাউন্টি ক্লাবের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই অভিজ্ঞতা তাকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কাউন্টি ক্রিকেটে প্রস্তুতির গুরুত্ব
২৬ বছর বয়সী এই পেসার গত বছরের নভেম্বর মাসে শেষবারের মতো বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও তাকে লাল বলের ক্রিকেটে দেখা যাবে। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন নিশ্চিত করেছেন যে, জিম্বাবুয়ে সফরের আগে হাসান মাহমুদ কেন্টের হয়ে দুটি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচে অংশ নেবেন। এই ম্যাচগুলো শুরু হবে ১২ জুন এবং ১৯ জুন।
হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘হাসান আমাদের সব ফরম্যাটের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। এই মুহূর্তে সে সাদা বলের ক্রিকেটে না থাকলেও, টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আমরা সবসময় তাকে বিবেচনায় রাখি। এটি তার জন্য একটি দারুণ সুযোগ। সে খুব ভালো বোলিং করছে এবং কাউন্টির দুটি ম্যাচ খেলে সরাসরি জিম্বাবুয়েতে দলের সঙ্গে যোগ দেবে।’
পেস আক্রমণের নতুন পরিকল্পনা ও ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট
জিম্বাবুয়ে সিরিজের স্কোয়াডে হাসান মাহমুদের অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি দলের পেস আক্রমণ নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচক প্যানেল। দলের নিয়মিত পেসার নাহিদ রানাকে এই টেস্ট সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। তবে এটি কোনো ফর্ম বা পারফরম্যান্সজনিত কারণে নয়, বরং বাংলাদেশ দলের সুপরিকল্পিত ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’ পরিকল্পনার অংশ।
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচক বাশার আরও যোগ করেন, ‘নাহিদ রানা তিন ফরম্যাটেই সমানভাবে খেলছে। তাকে বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কারণ সে একজন চ্যাম্পিয়ন বোলার। কিন্তু যখন কোনো খেলোয়াড় সব ফরম্যাটে খেলে, তখন ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট খুবই জরুরি হয়ে পড়ে। কোনো খেলোয়াড় ভালো ফর্মে থাকলে তাকে খেলানো উচিত, তবে শারীরিক ধকলের বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হয়।’
অন্যান্য পেসারদের বিশ্রাম ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
কেবল নাহিদ রানাই নন, জিম্বাবুয়ে টেস্টে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে তাসকিন আহমেদ এবং শরিফুল ইসলামকেও। ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কথা মাথায় রেখে নির্বাচকরা তাদের পেস বোলারদের শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখার দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছেন। তাসকিন ও শরিফুলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বোলারদের বিশ্রাম দেওয়া প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
হাসান মাহমুদের কাউন্টি অভিজ্ঞতা তাকে জিম্বাবুয়েতে কতটা কার্যকর করে তোলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। অভিজ্ঞ কন্ডিশনে বল করার সুযোগ এবং নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা নিশ্চিতভাবেই তার বোলিংয়ে বাড়তি ধার যোগাবে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই নতুন পথচলায় হাসান মাহমুদের ফিরে আসাটা দলের জন্য নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ তাদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট ও নতুন খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে কেমন ফলাফল নিয়ে আসে, তা জানতে আগ্রহী ক্রিকেট ভক্তরা।
আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ দলের এই রোটেশন পলিসি কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে ক্রিকেট বিশ্ব। তবে আপাতত হাসান মাহমুদের দিকেই সবার চোখ, যিনি কাউন্টি ক্রিকেট শেষ করে লাল বলের ক্রিকেটে নিজের জাত চেনাতে প্রস্তুত।
