Williamson on retiring mid-series: ‘Just feels like the right time’
একটি বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সমাপ্তি
লর্ডসের বারান্দায় বসে টেস্ট ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ১১০তম ম্যাচটি খেলার সময় কেন উইলিয়ামসন বুঝতে পেরেছিলেন যে, এটিই হতে যাচ্ছে তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র অত্যন্ত শান্ত এবং মার্জিত ভঙ্গিতে তার অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তে ক্রিকেট বিশ্বে কিছুটা বিস্ময় তৈরি হলেও, উইলিয়ামসনের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং পেশাদার।
সঠিক সময়ে বিদায়ের সিদ্ধান্ত
কেন উইলিয়ামসন জানিয়েছেন, তিনি তার পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথে আলোচনার পরেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি দলের কোচ রব ওয়াল্টার, ক্যাপ্টেন টম ল্যাথাম এবং দলের ম্যানেজারের কাছে তার মনের কথা খুলে বলেন। উইলিয়ামসনের ভাষায়, ‘আমি দলের ড্রেসিংরুমের দিকে তাকাই এবং সেখানে যে তরুণ প্রতিভা ও সম্ভাবনা দেখি, তাতে আমার মনে হয়েছে এখনই সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময়। আমি বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক বোধ করছি।’
হঠাৎ অবসরের পেছনে কারণ
সিরিজের মাঝপথে কেন এমন বড় সিদ্ধান্ত নিলেন—এই প্রশ্নের উত্তরে উইলিয়ামসন স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি কেবল রেকর্ড বাড়ানোর জন্য দলে থাকতে চান না। যদি তিনি শতভাগ নিবেদিত না থাকেন, তবে দলের ওপর তার বোঝা হয়ে থাকাটা তিনি সমর্থন করেন না। তিনি জানান, ‘আমি দলের সাথে পুরোপুরি কমিটেড থাকতে চাই। যখন দেখি সেই কমিটমেন্টে ঘাটতি পড়ছে, তখনই সরে দাঁড়ানোই শ্রেয়।’
দলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
কোচ রব ওয়াল্টার উইলিয়ামসনের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত সম্মান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কেন উইলিয়ামসন একজন কিংবদন্তি। তার মতো একজন খেলোয়াড়কে হারিয়ে দল কখনোই শক্তিশালী হয় না, তবে তার যুক্তিগুলো শুনলে তার প্রতি শ্রদ্ধাই বাড়ে। তিনি কেবল নিজের কথা ভাবেননি, বরং দলের ভবিষ্যৎ এবং নতুন নেতাদের উঠে আসার সুযোগ করে দেওয়ার কথা ভেবেছেন।’
স্মৃতি ও ক্যারিয়ারের প্রতিফলন
নিজের দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্যারিয়ার নিয়ে উইলিয়ামসন আবেগপ্রবণ। ২০২১ সালে আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়কে তিনি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার প্রথম টেস্ট থেকে শুরু করে আজকের দিন পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তই ছিল অবিশ্বাস্য। আমি কৃতজ্ঞ যে আমি এই দলের অংশ ছিলাম।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বা কোচিংয়ে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি উইলিয়ামসন। সম্প্রতি আইপিএলে কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তিনি উপভোগ করেছেন। আপাতত তিনি পরিবারের সাথে কিছু সময় কাটাতে চান এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে পরে ভাববেন।
ক্রিকেটার হিসেবে নিজের পরিচয়
অবসরের পর তিনি নিজেকে কীভাবে মনে রাখতে চান—এমন প্রশ্নে উইলিয়ামসন মৃদু হেসে বলেন, ‘আমি চাই আমাকে এমন একজন হিসেবে মনে রাখা হোক, যে সবসময় তার দলের কথা ভেবেছে এবং নিজের কাজের প্রতি শতভাগ নিবেদিত ছিল। আমি আমার ক্রিকেট জীবনের জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’ তার এই বিনয়ী আচরণই তাকে বিশ্বের অন্যান্য ক্রিকেটারদের কাছে একজন রোল মডেল করে তুলেছে। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট এখন এক নতুন যুগের সূচনার অপেক্ষায়, যেখানে উইলিয়ামসনের শূন্যতা পূরণ করা নিঃসন্দেহে বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
