Prabhsimran, Gaikwad, Tilak score fifties in DLS loss to Afghanistan A
ভারত এ দলের লড়াই ও আফগানিস্তান এ-র জয়
ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত ভারত এ এবং আফগানিস্তান এ দলের মধ্যকার ম্যাচটি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। যদিও ভারত এ দল প্রথম ইনিংসে বিশাল সংগ্রহ গড়েছিল, কিন্তু বৃষ্টির কারণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় ডিএলএস পদ্ধতিতে। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৪ রানে জয়ী হয় আফগানিস্তান এ। প্রভসিমরান, গায়কওয়াদ এবং তিলক ভার্মা তাদের অর্ধশতকের মাধ্যমে দলের ভিত গড়ে দিলেও বোলাররা আফগানিস্তানকে আটকাতে ব্যর্থ হন।
বৈভবের দুর্দান্ত সূচনা
তরুণ বৈভব সূর্যবংশী আবারও তার প্রতিভার ঝলক দেখালেন। শ্রীলঙ্কা এ দলের বিপক্ষে দুর্দান্ত শুরুর পর এবার আফগানিস্তান এ দলের বিপক্ষে তিনি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। মাত্র ২২ বলে ৪৪ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল নয়টি চারের মার। তিনি মূলত অফ সাইডের বাউন্ডারিগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাটিং করেন, যা দলকে দ্রুত পঞ্চাশ রানের গণ্ডি পার করতে সাহায্য করে।
প্রভসিমরানের ব্যাটিং দক্ষতা
সূর্যবংশীর বিদায়ের পর প্রভসিমরান সিং ইনিংসের হাল ধরেন। তিনি অত্যন্ত পরিপক্কতার সাথে ব্যাটিং করে ৩৯ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। জহির খানের বলে মিড-অফ দিয়ে ড্রাইভ করে তিনি মাইলফলক স্পর্শ করেন। প্রভসিমরান মোট ৮৪ রান করেন এবং গায়কোয়াডের সাথে একটি শক্তিশালী জুটি গড়ে তোলেন। তার ব্যাটিং শৈলী ছিল মূলত অফ সাইড কেন্দ্রিক, তবে শেষের দিকে তিনি লেগ সাইডেও সফল হন।
গায়কওয়াদ ও তিলকের নিয়ন্ত্রণ
রুতুরাজ গায়কওয়াদ এবং তিলক ভার্মা ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতে খেলা নিয়ন্ত্রণ করেন। শ্রীলঙ্কা এ দলের বিপক্ষে সেঞ্চুরির আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামা গায়কওয়াদ এদিনও বেশ ছন্দময় ছিলেন। তাদের দুজনের মধ্যে ৭৮ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি তৈরি হয়। গায়কওয়াদ অর্ধশতক পূর্ণ করেন এবং তিলক ভার্মাও পরপর দ্বিতীয়বারের মতো হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন। সূর্যংশ শেডগে এবং অনুকূল রায়ের শেষ মুহূর্তের ব্যাটিংয়ে ভারত এ দল নির্ধারিত ৪৯ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৪৯ রানের বিশাল সংগ্রহ পায়।
আফগানিস্তান এ-র জবাব ও ডিএলএস জটিলতা
বৃষ্টির কারণে আফগানিস্তান এ দলের জন্য লক্ষ্য দাঁড়িয়েছিল ৩৮ ওভারে ২৯৪ রান। ভারত এ দলের বোলাররা শুরুতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। আরশাদ খান প্রতিপক্ষের উইকেট তুলে নিলেও রান আটকানো কঠিন হয়ে পড়ে। অনুকূল রায় স্পিন বোলিংয়ে কিছুটা ভীতি ছড়ালেও অন্য বোলাররা ছিলেন নিষ্প্রভ। আফগানিস্তানের হয়ে ইমরান ৭৫ এবং বাহির শাহ ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন। আবহাওয়া ও আলোকস্বল্পতার কারণে যখন খেলা থামানো হয়, তখন ডিএলএস পদ্ধতিতে আফগানিস্তান এ দল ভারত এ দলের চেয়ে ৪ রানে এগিয়ে ছিল। এটি ছিল ভারতের জন্য একটি শিক্ষা, যেখানে বিশাল সংগ্রহ করেও শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে হলো পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে।
উপসংহার
এই ম্যাচ থেকে ভারত এ দলের ব্যাটসম্যানরা দারুণ আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে, তবে বোলারদের আরও নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের প্রয়োজন ছিল। ডিএলএস পদ্ধতির মারপ্যাঁচে ম্যাচ হাতছাড়া হলেও, প্রভসিমরান, গায়কওয়াদ এবং তিলকের ব্যাটে রান পাওয়া দলের জন্য ইতিবাচক দিক। এখন পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয় পেতে হলে বোলিং লাইনআপে আরও বৈচিত্র্য ও কার্যকারিতা যোগ করতে হবে ভারতকে।
