Robinson double-strike moves England closer between showers
লর্ডসে বৃষ্টির দাপট ও রবিনসনের দাপট
লর্ডসে চলমান প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে খেলা হয়েছে মাত্র ৯.৪ ওভার। কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই ইংল্যান্ড তাদের জয়ের পথে অনেকখানি এগিয়ে গেছে। পেসার ওলি রবিনসনের দুর্দান্ত ডাবল-স্ট্রাইক নিউজিল্যান্ডকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। সফরকারীরা এখন ৫৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্য থেকে ১৯৯ রান দূরে দাঁড়িয়ে আছে।
রবিনসনের জাদুকরী প্রত্যাবর্তন
ওলি রবিনসন যেন নতুন এক জীবন পেয়েছেন। ২৪ টেস্টের দীর্ঘ বিরতির পর দলে ফিরে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন দারুণভাবে। প্রথম ইনিংসে ৫টি উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনি কিউই ব্যাটারদের জন্য আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। রাচিন রবীন্দ্র এবং ড্যারিল মিচেলকে সাজঘরে ফিরিয়ে তিনি ম্যাচে এখন পর্যন্ত ৭টি উইকেট শিকার করেছেন। তার এই অসাধারণ পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডকে চালকের আসনে বসিয়ে দিয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের করুণ দশা
২৫৪ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের শুরু থেকেই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। লর্ডসের পিচ এবং আকাশ ভাঙা মেঘের কারণে বল সুইং করছিল দারুণভাবে, যার সুবিধা পুরোপুরি নিয়েছেন ইংলিশ বোলাররা। ডেভন কনওয়ে ১৯ রানে অপরাজিত থাকলেও দলের বাকি ব্যাটাররা ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে টিকতে পারেননি। রাচিন রবীন্দ্র এবং ড্যারিল মিচেলকে দ্রুত হারানোর ফলে কিউইদের জয়ের আশা প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
বৃষ্টির বাধা ও মাঠের পরিস্থিতি
তৃতীয় দিনটি ছিল পুরোপুরি প্রকৃতির খেয়ালের ওপর নির্ভরশীল। বারবার বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতার কারণে আম্পায়ারদের বারবার খেলা বন্ধ করতে হয়েছে। ১২.২০ মিনিটে লাঞ্চের পর বিকেলে পুনরায় খেলা শুরু হলেও বৃষ্টির কারণে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৫.২৯ মিনিটে দিনের খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে এই অল্প সময়ের খেলাতেই ইংল্যান্ড বুঝিয়ে দিয়েছে তারা কেন এই ম্যাচে ফেভারিট।
স্কোরবোর্ড বিশ্লেষণ
ম্যাচের বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
- ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ১৪০ রান (ব্রুক ৫৬, জেমিসন ৫-৬২)
- নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ১১৩ রান (রবিনসন ৫-৩৯)
- ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস: ২২৬ রান (গে ৫৭, স্মিথ ৬-৭০)
- নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৫/৫ (কনওয়ে ১৯*)
নিউজিল্যান্ডকে জিততে হলে এখনও ১৯ হাতে থাকা উইকেট নিয়ে আরও ১৯৯ রান করতে হবে। হাতে দুই দিন সময় থাকলেও লর্ডসের এই পিচে ইংলিশ পেসারদের বিরুদ্ধে রান তোলা প্রায় অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ। ওলি রবিনসন যেভাবে বল করছেন, তাতে কিউইদের পরাজয় এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
আগামীর সম্ভাবনা
চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তবে ইংল্যান্ড খুব দ্রুতই বাকি ৫ উইকেট তুলে নিতে চাইবে। রবিনসন তার ক্যারিয়ারের সেরা ১০ উইকেট শিকারের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবেন না। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের জন্য এখন লক্ষ্য হবে কেবল টিকে থাকা এবং বিপর্যয় কমানো। তবে কনওয়ে ও ব্লান্ডেল যদি কোনো মিরাকল ঘটাতে না পারেন, তবে প্রথম টেস্টের জয় ইংল্যান্ডের পক্ষেই যাবে।
ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক বেন স্টোকস শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজিয়েছেন, যা তাদের জয়ের ক্ষুধাকেই তুলে ধরছে। লর্ডসের গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের জন্য এটি একটি রোমাঞ্চকর টেস্ট হতে পারত, কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ধস ম্যাচটিকে একপেশে করে ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে চতুর্থ দিনে খেলা কত দ্রুত শেষ হয়।
