Taskin, Mustafizur set up famous series win for Bangladesh – তাসকিন, মোস্তাফিজুর বাংলাদেশের বিখ্যাত সিরিজ জয়ের পথ তৈরি করলেন
ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাদের প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জন করেছে। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে পাঁচ উইকেটে পরাজিত করার মাধ্যমে তাসকিন, মোস্তাফিজুর বাংলাদেশের বিখ্যাত সিরিজ জয়ের পথ তৈরি করলেন। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি সংক্ষিপ্ত হলেও, টানটান উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে টাইগাররা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস: টাস্কিন-মোস্তাফিজুরের বিধ্বংসী শুরু
ম্যাচের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের বোলারদের জন্য স্বপ্নের মতো। টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। পেসার তাসকিন আহমেদ এবং মোস্তাফিজুর রহমান দ্রুত অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। অস্ট্রেলিয়া ০ রানেই তাদের প্রথম তিনটি উইকেট হারায়, যা ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো এমন ঘটনা। তাসকিন আহমেদ, যিনি আগের ম্যাচেও ম্যাথু শর্টকে আউট করেছিলেন, এবারও তাকে ক্লিন বোল্ড করেন। শর্ট পরপর তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছেন।
এরপর মোস্তাফিজুর রহমানের পালা। তিনি পরপর দুই বলে কুপার কনোলি এবং ম্যাট রেনশাকে আউট করে অস্ট্রেলিয়াকে আরও কোণঠাসা করে ফেলেন। পাওয়ারপ্লেতে মোস্তাফিজুর এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো তিন উইকেট শিকার করেন। অ্যালেক্স ক্যারিও দ্রুত ফিরে যান শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে। অস্ট্রেলিয়া মাত্র ৮ ওভারে ২৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল।
তবে, মার্নাস লাবুশেন এবং জেভিয়ার বার্টলেট অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের হাল ধরেন। এই দুই ব্যাটসম্যান সপ্তম উইকেটে ১০৩ রানের এক দুর্দান্ত জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে সম্মানজনক স্কোরের দিকে নিয়ে যান। লাবুশেন ৮৫ বলে অপরাজিত ৫৫ রান করেন, যা তার বিশ্বকাপ ফাইনালের পর দ্বিতীয় ওয়ানডে ফিফটি। বার্টলেট ৪৮ বলে ৬টি চার এবং ২টি ছক্কা মেরে ৫২ রান করে দলের স্কোর বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখেন। তানভীর ইসলাম এবং নাহিদ রানার বোলিংও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তানভীর ৩৫ রানে ২ উইকেট নেন, যার মধ্যে জশ ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিনের উইকেট উল্লেখযোগ্য। বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়া ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান সংগ্রহ করে।
বাংলাদেশের রান তাড়া: সৌম্য-শান্তোর আক্রমণাত্মক সূচনা
বৃষ্টির পর বাংলাদেশের সামনে পরিবর্তিত লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪২ ওভারে ১৯২ রান। বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ছিল আক্রমণাত্মক। সৌম্য সরকার এবং নাজমুল হোসেন শান্ত উদ্বোধনী জুটিতে দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন। সৌম্য সরকার তার পুরোনো ফর্মের ঝলক দেখিয়েছেন, দুর্দান্ত কিছু শট খেলে তিনি ৪২ রান করেন। নাথান এলিস এবং জেভিয়ার বার্টলেটের বোলিংকে সহজেই সামলেছেন তিনি। শান্তও তার যোগ্য সঙ্গ দেন, তিনি ৪২ রান করেন।
সৌম্য সরকার অ্যাডাম জাম্পার বলে একটি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে তার আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রকাশ করেন। তবে, ম্যাট রেনশর বলে বার্টলেটের হাতে ক্যাচ দিয়ে তার ৪২ রানের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। এরপর শান্তও রাইলি মেরেডিথের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন। লিটন দাস ২১ রান করে গ্রিনের বলে আউট হন এবং প্রথম ম্যাচের নায়ক মোসাদ্দেক হোসেন কুপার কনোলির হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ কিছুটা চাপে পড়ে।
হৃদয় ও মিরাজের অবিস্মরণীয় পার্টনারশিপ এবং ঐতিহাসিক জয়
১৪৪ রানে ৫ উইকেট পতনের পর যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি হয়তো অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঝুঁকতে পারে, তখনই ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন তৌহিদ হৃদয় এবং অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। এই জুটি বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যান। মিরাজ মাথায় আঘাত পেলেও দৃঢ়তার সাথে খেলেছেন।
তৌহিদ হৃদয় ছিলেন অসাধারণ। তিনি মেরেডিথের বলে একটি দর্শনীয় ছক্কা মেরে এবং একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেন। এরপর মিরাজও আরেকটি ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশ ৫ উইকেট হাতে রেখেই ৪১.৫ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্য অর্জন করে। হৃদয় অপরাজিত ৪০ রান করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, আর মিরাজ অপরাজিত ১৩ রান করেন।
সিরিজ জয়ের তাৎপর্য
অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটি বিশাল অর্জন। এই জয় শুধু খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসই বাড়াবে না, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও উন্নত করবে। তাসকিন আহমেদ এবং মোস্তাফিজুর রহমানের নিয়ন্ত্রিত এবং বিধ্বংসী বোলিং, সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্তর দৃঢ় ব্যাটিং এবং তৌহিদ হৃদয় ও মেহেদি হাসান মিরাজের অসাধারণ ফিনিশিং এই ঐতিহাসিক জয়ের মূল কারণ। এই সিরিজ জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে এবং দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এই অর্জন নিঃসন্দেহে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করবে এবং বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
