Report

Allison, Benkenstein give Eagles wings before Middlesex implode

Farhan Malik · · 1 min read

এসেক্সের দুর্দান্ত জয়

২০২৬ সালের ভাইটালিটি ব্লাস্টে এসেক্স তাদের দুর্দান্ত ফর্ম বজায় রেখেছে। টুর্নামেন্টে নিজেদের টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়ে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে যে শিরোপার দৌড়ে তারা কতটা সিরিয়াস। অন্যদিকে, মিডলসেক্সের জন্য সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না; এই হারের ফলে তারা টানা তৃতীয়বারের মতো পরাজয়ের স্বাদ পেল। ম্যাচটিতে এসেক্সের জয়ের মূল কারিগর ছিলেন চার্লি অ্যালিসন এবং লুক বেনকেনস্টাইন। তাদের ব্যাটেই মূলত ঘুরে দাঁড়িয়েছিল এসেক্স।

অ্যালিসন ও বেনকেনস্টাইনের জুটি

টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মিডলসেক্স। শুরুতে এসেক্সের দুই উইকেট দ্রুত তুলে নিয়ে তারা চাপে ফেলে দিয়েছিল সফরকারীদের। মাত্র ২৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর এসেক্সের ইনিংস যখন নড়বড়ে অবস্থায়, তখনই ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন লুক বেনকেনস্টাইন এবং চার্লি অ্যালিসন। এই জুটি মাত্র ৯১ বলে ১৩৩ রানের এক অনবদ্য পার্টনারশিপ গড়ে দলকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যান।

বেনকেনস্টাইন ৫৬ বলে ৬৭ রানের একটি ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল দুটি বিশাল ছক্কা। অন্যদিকে, অ্যালিসন তার টানা দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন। তিনি মাত্র ৩৭ বলে ৬১ রান করেন, যেখানে তিনটি ছক্কার মার ছিল। তাদের এই দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের কারণেই এসেক্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয়। মিডলসেক্সের বোলার টম হেলম এবং নোয়া কর্নওয়েল ভালো বোলিং করলেও, অতিরিক্ত ওয়াইড বল তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

মিডলসেক্সের ব্যাটিং বিপর্যয়

১৭৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে মিডলসেক্সের ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। এসেক্সের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে মিডলসেক্সের ব্যাটাররা কোনোভাবেই টিকতে পারেননি। মাত্র ১১৬ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। দলের হয়ে রায়ান হিগিন্স কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন এবং ৩৬ রান করেন, কিন্তু তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

এসেক্সের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন নোয়া থেইন। তিনি ক্যারিয়ারসেরা ৩টি উইকেট শিকার করেন মাত্র ১১ রান খরচ করে। এছাড়া জামান আখতারও দ্রুত দুটি উইকেট তুলে নিয়ে মিডলসেক্সের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। শুরু থেকেই শেন স্নেটার এবং আখতারের তোপের মুখে পড়ে মিডলসেক্স আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

ম্যাচের উল্লেখযোগ্য মুহূর্তসমূহ

  • শুরুটা ছিল নাটকীয়: এসেক্সের হয়ে শেন স্নেটার প্রথম বলেই অ্যাডাম রসিংটনকে বোল্ড করে মিডলসেক্সকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন।
  • আখতারের প্রভাব: জামান আখতার চার বলের ব্যবধানে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ থেকে মিডলসেক্সকে পুরোপুরি ছিটকে দেন।
  • থেইনের স্পেল: নোয়া থেইন তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে মিডলসেক্সের ব্যাটিং ধস নিশ্চিত করেন।
  • হিগিন্সের লড়াই: মিডলসেক্সের হয়ে রায়ান হিগিন্স কিছু সাহসী শট খেললেও শেষ পর্যন্ত তাকে ড্রেসিংরুমে ফিরতে হয়।

পরিশেষে, এই জয় এসেক্সের আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, মিডলসেক্সের জন্য এটি একটি বড় শিক্ষা হয়ে রইল। বোলিং, ফিল্ডিং এবং ব্যাটিং—সব বিভাগেই এদিন এসেক্স তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। বিশেষ করে মিডল অর্ডারের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং শেষ দিকে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের ফলে ৬০ রানের এক বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে এসেক্স। এই পরাজয়ের মাধ্যমে মিডলসেক্সকে এখন তাদের ভুলগুলো শুধরে পরবর্তী ম্যাচের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

Avatar photo
Farhan Malik

Farhan Malik writes tactical T20 cricket analysis with a focus on momentum shifts, batting strategies, and death-over performance.