Maia Bouchier 87, Amanda-Jade Wellington hat-trick keep Hawks on the rise
ম্যাচের সংক্ষিপ্তসার: হ্যাম্পশায়ার হকসের দাপুটে জয়
ভাইটালিটি ব্লাস্টের চলতি আসরে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে হ্যাম্পশায়ার হকস ৫৫ রানের বড় ব্যবধানে এসকে পরাজিত করেছে। এই ম্যাচে হ্যাম্পশায়ার হকস ১৫৫ রান সংগ্রহ করে ৪ উইকেটে, যার জবাবে এসেক্স মাত্র ১০০ রান করতে সক্ষম হয় ৯ উইকেট হারিয়ে। ম্যাচে মায়া বাউচারের বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং আমান্ডা-জেড ওয়েলিংটনের জাদুকরী স্পিন বোলিং ছিল মূল আকর্ষণ।
মায়া বাউচারের বীরত্বপূর্ণ ইনিংস
ম্যাচের শুরুটা খুব একটা সুবিধাজনক ছিল না হ্যাম্পশায়ার হকসের জন্য। মেঘলা আবহাওয়ায় প্রথম তিন ওভারে মাত্র ১১ রান তুলতে সক্ষম হয়েছিল তারা, সেইসাথে হারিয়েছিল এলা ম্যাককাহানকে। তবে এরপরই ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন মায়া বাউচার। তিনি ৫৫ বলে ৮৭ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন, যা এই বছরের ভাইটালিটি ব্লাস্টের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। ইংল্যান্ডের হয়ে নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়া বাউচার যেন আজ নিজের জাত চেনালেন। তার ইনিংসে ছিল ৮টি চার এবং ২টি নজরকাড়া ছক্কা। কেট কোপাকের এক ওভারে ১৭ রান নিয়ে তিনি খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন। ক্যাপ্টেন জর্জিয়া অ্যাডামসের সাথে তার জুটি দলকে ১৫৫ রানের লড়াকু পুঁজি এনে দেয়। শেষের দিকে ফ্রান্সেসকা সুইটের ৩০ বলে ৩৫ রানের ইনিংসটিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
আমান্ডা-জেড ওয়েলিংটনের হ্যাটট্রিক ও বোলিং জাদু
১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এসেক্স শুরু থেকেই হ্যাম্পশায়ার হকসের স্পিনারদের তোপের মুখে পড়ে। ক্যাপ্টেন জর্জিয়া অ্যাডামস ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। তবে ম্যাচের সেরা মুহূর্তটি আসে আমান্ডা-জেড ওয়েলিংটনের হাত ধরে। ১৪তম ওভারে তিনি টানা তিন বলে জোডি গ্রিউকক, ফ্লো মিলার এবং সোফিয়া স্মেলকে আউট করে হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন। এই লেগ স্পিনার সব মিলিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন মাত্র ১৮ রান দিয়ে, যা তার এই মৌসুমের সেরা পারফরম্যান্স।
এসেক্সের ব্যর্থতা ও হকসের জয়
এসেক্সের ব্যাটসম্যানরা হ্যাম্পশায়ারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে কখনোই থিতু হতে পারেননি। গ্রিউকক কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করলেও (৩০ রান) বাকিরা ব্যর্থ ছিলেন। ওয়েলিংটন এবং অ্যাডামসের বোলিং দাপটে এসেক্সের রানের গতি শুরু থেকেই ছিল মন্থর। পাওয়ারপ্লে শেষে মাত্র ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তারা গভীর সংকটে পড়ে। যদিও গ্রিউকক ও জো গার্ডনার কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বাউন্ডারি মারার ব্যর্থতায় তারা প্রয়োজনীয় রানরেটের চেয়ে অনেক পিছিয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত ৫৫ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে হ্যাম্পশায়ার হকস।
ম্যাচের মূল পরিসংখ্যান
- হ্যাম্পশায়ার হকস: ১৫৫/৪ (মায়া বাউচার ৮৭)
- এসেক্স: ১০০/৯ (আমান্ডা-জেড ওয়েলিংটন ৫/১৮)
- ফলাফল: হ্যাম্পশায়ার হকস ৫৫ রানে জয়ী।
এই জয় হ্যাম্পশায়ার হকসকে পয়েন্ট টেবিলের উপরের দিকে নিয়ে আসতে দারুণ ভূমিকা রাখবে। মায়া বাউচারের ব্যাটিং এবং ওয়েলিংটনের বোলিং পারফরম্যান্স দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী ম্যাচগুলোতেও হকস এই ধারা বজায় রাখতে চাইবে।
