India march ahead despite Saleem’s strikes, Pant misses out on century – ভারত বনাম আফগানিস্তান
নিউজ চণ্ডীগড় টেস্ট: দ্বিতীয় দিনে ভারতের আধিপত্য বনাম আফগান পেসার সেলিমের লড়াই
নিউজ চণ্ডীগড়ের সবুজ উইকেটে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচের দ্বিতীয় দিনটি অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে শুরু হয়েছে। ভারতীয় দল প্রথম দিনের চমৎকার পারফরম্যান্সের পর আজ সকালে আরও বড় স্কোরের লক্ষ্যে মাঠে নামে। তবে আফগান বোলাররা, বিশেষ করে তরুণ পেসার মহম্মদ সেলিম আজ ভারতীয় শিবিরে একের পর এক আঘাত হানেন। তবে এই সেশনে আফগানিস্তানের পাল্টা আক্রমণ সত্ত্বেও ভারতীয় দল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছে। দিনের প্রথম সেশনের শেষে ভারতের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৪৭৫ রান।
আজকের সেশনের মূল আকর্ষণ ছিল ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের রান তোলার গতি এবং আফগান বোলারদের উইকেটের খোঁজ। এই সেশনে ২৫ ওভার খেলা হয়েছে যেখানে ভারত ৪.২৮ রান রেটে ১০৭ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে উইকেট হারানোর পরেও ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা রানের গতি সচল রেখেছিলেন। তবে ক্রিকেটের মাঠে আজকের সকালে সবচেয়ে বড় শিরোনাম ছিল: “India march ahead despite Saleem’s strikes, Pant misses out on century”। ঋষভ পন্ত অত্যন্ত দুর্দান্ত খেলছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি নিজের শতরানটি পূর্ণ করতে পারেননি।
দ্বিতীয় নতুন বলের প্রভাব ও আফগানিস্তানের হাতছাড়া হওয়া সুযোগ
দিনের খেলা শুরু হওয়ার মাত্র দ্বিতীয় ওভারেই আফগানিস্তানের অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদি দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল কারণ সকালের আর্দ্রতা এবং নতুন বলের সুইং কাজে লাগিয়ে আফগান পেসাররা ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বেশ সমস্যায় ফেলেছিলেন। আজমতউল্লাহ ওমরজাই নতুন বল হাতে চমৎকার স্পেল করেন। ৮৯তম ওভারে তিনি প্রথমে শুভমান গিলকে একটি ইনসুইঙ্গারে পরাস্ত করেন, যা সরাসরি গিলের প্যাডে আঘাত হানে। কিন্তু আম্পায়ার এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। ঠিক তার পরের বলেই ওমরজাইয়ের একটি দুর্দান্ত ডেলিভারি ঋষভ পন্তের ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে উইকেটরক্ষকের দস্তানায় জমা পড়ে। কিন্তু আম্পায়ার এটিও আউট দেননি।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, আফগানিস্তান দলের কাছে একটি ডিআরএস (DRS) রিভিউ বাকি থাকলেও তারা আম্পায়ারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেনি। পরে টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায় যে, যদি আফগানিস্তান রিভিউ গ্রহণ করত, তবে ভারত শুরুতেই পন্ত ও গিলের মূল্যবান উইকেট দুটি হারিয়ে বড় বিপদে পড়তে পারত। এই জীবনদান পাওয়ার পর দুই ব্যাটসম্যানই হাত খুলে খেলতে শুরু করেন।
পন্ত ও গিলের পাল্টা আক্রমণ
আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর ঋষভ পন্ত তাঁর চেনা আগ্রাসী মেজাজে ফিরে আসেন। বাঁহাতি স্পিনার জিয়াউর রহমানের ওভারে পন্ত পরপর দুটি চমৎকার বাউন্ডারি মেরে আফগানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। অন্য প্রান্তে শুভমান গিলও অত্যন্ত সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন। সেলিমের একটি বলকে দুর্দান্ত কাট শটের মাধ্যমে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে গিল ভারতের স্কোর ৪০০-এর ঘরে নিয়ে যান। এরপর সেলিমের ওভারের ভুল লেংথকে কাজে লাগিয়ে গিল আরও দুটি চার মারেন। গিলের এই aggression দেখে মনে হচ্ছিল তিনি আজ একটি বড় ইনিংস খেলতে চলেছেন।
মহম্মদ সেলিমের প্রত্যাবর্তন ও গিলের বিদায়
মার খেলেও আফগান পেসার মহম্মদ সেলিম হাল ছেড়ে দেননি। তিনি তাঁর বোলিংয়ের লাইন ও লেংথ পরিবর্তন করেন। ৯৬তম ওভারে তিনি কিছুটা শর্ট অফ লেংথ বল করতে শুরু করেন এবং এটিই গিলের উইকেট এনে দেয়। গিলের ডিফেন্সকে পরাস্ত করে বল তাঁর ব্যাটের কোণায় লেগে উইকেটরক্ষকের হাতে চলে যায়। গিল তাঁর আগের দিনের স্কোরের সাথে আর ২৩ রান যোগ করে ব্যক্তিগত স্কোরে সাজঘরে ফেরেন। গিলের বিদায়ের পর ধ্রুব জুরেল ক্রিজে আসেন এবং পন্তের সাথে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন।
সেলিম তাঁর পরবর্তী ওভারেও ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ বজায় রাখেন। ধ্রুব জুরেল সেলিমের একটি শর্ট বলকে পুল করে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ভারতের স্কোর ৪৫০ রানে নিয়ে যান। কিন্তু ঠিক তার পরের বলেই সেলিম অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বলটিকে অফ-স্ট্যাম্প লাইনে পিচ করান। জুরেল বলটি খেলার চেষ্টা না করে ছেড়ে দেন, কিন্তু বলটি সামান্য ভেতরে ঢুকে অফ-স্ট্যাম্পের বেল উড়িয়ে দেয়। সেলিম সকালে ৭ ওভার বল করে ৪২ রান দিলেও ভারতের সেট দুই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে ম্যাচকে জমিয়ে তোলেন।
ঋষভ পন্তের শতরান হাতছাড়া হওয়ার ট্র্যাজেডি
পন্ত ৮১ রানে পৌঁছানোর পর বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল। তবে ১০১তম ওভারে তাঁর একটি অলসেমির কারণে রান-আউটের একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে আফগানিস্তান। তবে এই সুযোগের সুবিধা পন্ত বেশিদূর নিয়ে যেতে পারেননি। সেশনের শেষ দিকে অধিনায়ক শাহিদি স্পিন আক্রমণ নিয়ে আসেন। স্পিনের বিরুদ্ধে বড় শট খেলার প্রলোভন সামলাতে না পেরে পন্ত লং-অফে বড় শট মারতে যান। কিন্তু বলটি ব্যাটের ঠিক মাঝখানে না লাগায় সরাসরি বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়ানো ফিল্ডারের হাতে চলে যায়। ফলে মাত্র ১৯ রানের জন্য তাঁর শতক হাতছাড়া হয় এবং ৮১ রানে আউট হয়ে পন্ত প্যাভিলিয়নে ফেরেন।
মধ্যাহ্নভোজের আগে সুন্দর ও সুথারের ধৈর্যশীল ব্যাটিং
পন্ত ও জুরেলের দ্রুত বিদায়ের পর ভারতীয় দলের ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পড়ে ওয়াশিংটন সুন্দর ও অভিষেককারী মানব সুথারের ওপর। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা সুথার শুরুতে শাহিদির বলে একটি আলগা শট খেলেছিলেন, তবে ভাগ্য সহায় থাকায় বলটি ফিল্ডারের নাগালের বাইরে দিয়ে চলে যায়। এরপর থেকে সুথার অত্যন্ত পরিপক্ক ব্যাটিং প্রদর্শন করেন। সুন্দরও অপর প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং করতে থাকেন। লাঞ্চের বিরতি পর্যন্ত এই জুটি ভারতের আর কোনো ক্ষতি হতে দেয়নি। সুন্দর ১৪ রানে এবং সুথার ৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, দ্বিতীয় সেশনে ভারত তাদের এই বিশাল স্কোরকে কত দূর নিয়ে যেতে পারে।
