Solanki banks on Gill-Sai Sudharsan’s ‘immense appetite for run-scoring’ – শুভমান গিল ও সাই সুদর্শন: আইপিএলে রান করার অদম্য ক্ষুধা
শুভমান গিল ও সাই সুদর্শন: গুজরাট টাইটানসের ব্যাটিং স্তম্ভ
আইপিএলের মঞ্চে শুভমান গিল এবং বি সাই সুদর্শনের জুটি যেন এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। যদিও অতীতে তাদের স্ট্রাইক রেট নিয়ে কিছুটা সমালোচনা ছিল, কিন্তু বড় ম্যাচে তারা বারবার নিজেদের প্রমাণ করেছেন। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ২১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তাদের ১৬৭ রানের পার্টনারশিপ গুজরাট টাইটানসকে ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে দলের ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট বিক্রম সোলাঙ্কি তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
বিক্রম সোলাঙ্কির বিশ্লেষণ
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সোলাঙ্কি জানান, এই জুটির খেলার মধ্যে এক ধরণের পরিপক্কতা রয়েছে। তিনি বলেন, শুভমান গিল একজন অসাধারণ তরুণ ক্রিকেটার। তার ক্যারিয়ারের প্রতিটি মুহূর্ত সে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জন করেছে। অন্যদিকে, সাই সুদর্শনও তার থেকে কোনো অংশে কম নয়। সাই সুদর্শন মূলত একজন ট্রেডিশনাল ব্যাটার, তবে পরিস্থিতির প্রয়োজনে তারা দুজনেই যে নিজেদের খেলার গতি পরিবর্তন করতে পারেন, সেটিই তাদের সেরা গুণ। সোলাঙ্কির মতে, তাদের প্রধান শক্তি হলো যেকোনো উইকেট বা বিপক্ষ দলের বিপক্ষে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রচুর রান করার প্রবল আকাঙ্ক্ষা।
রানের পাহাড় ও অনন্য পরিসংখ্যান
তথ্য অনুযায়ী, গিল এবং সাই সুদর্শন আইপিএলে এখন পর্যন্ত একত্রে ২৯৪৪ রান সংগ্রহ করেছেন। আইপিএলের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি, যার সামনে কেবল বিরাট কোহলি এবং এবি ডি ভিলিয়ার্সের ৩১২৩ রানের রেকর্ডটি রয়েছে। উল্লেখ্য যে, গিল এবং সুদর্শন ২০২২ সাল থেকে একসাথে খেলছেন। গত মৌসুমে সুদর্শন ৭৫৯ রান করে অরেঞ্জ ক্যাপ জিতেছিলেন এবং গিল করেছিলেন ৬৫০ রান। এবারের মৌসুমেও তাদের ফর্ম বজায় রয়েছে; গিল করেছেন ৭২২ রান এবং সুদর্শন করেছেন ৭১০ রান।
সাই সুদর্শনের কাজের প্রতি একাগ্রতা
সাই সুদর্শনের কাজের নৈতিকতা বা ‘ওয়ার্ক এথিক’ নিয়ে সোলাঙ্কি বলেন, সে খেলার একজন প্রকৃত ছাত্র। সে সবসময় প্রতিপক্ষ এবং নিজের খেলা নিয়ে পড়াশোনা করে। তাকে অনেক সময় অনুশীলন থেকে কিছুটা বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দিতে হয়, কারণ সে এত বেশি পরিশ্রম করতে চায় যে মাঝে মাঝে তাকে থামিয়ে রাখাটাই কঠিন হয়ে পড়ে। এই ধরণের ক্ষুধার্ত মনোভাব তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।
গিলের মানসিক দৃঢ়তা
শুভমান গিলের মানসিকতা নিয়েও সোলাঙ্কি অত্যন্ত ইতিবাচক। ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়ার পরেও গিলের প্রস্তুতির মধ্যে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে সাফল্য এবং ব্যর্থতাকে কীভাবে সামলাতে হয়, তা গিল খুব ভালোভাবেই জানেন। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ১০৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটি তার ক্লাস এবং কোয়ালিটিরই বহিঃপ্রকাশ।
ফাইনালের পথে দৃষ্টি
এখন গুজরাট টাইটানসের লক্ষ্য ফাইনাল। আহমেদাবাদের নিজেদের হোম গ্রাউন্ডে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে নামবে গিল-সুদর্শন বাহিনী। বৈভব সূর্যবংশীর রান সংখ্যাকে টপকে যাওয়ার একটি বাস্তব সুযোগও এখন তাদের সামনে রয়েছে। পুরো ক্রিকেট বিশ্ব তাকিয়ে আছে এই দুই ব্যাটারের দিকে, যারা তাদের ব্যাটিং শৈলী দিয়ে জয় করে নিয়েছেন অগণিত ভক্তের হৃদয়।
