Bangladesh aim for 3-0 against Australia in ODI series – ঐতিহাসিক হোয়াইটওয়াশের সামনে বাংলাদেশ
মহা-ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ: লক্ষ্য এবার ৩-০
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের গৌরব আগেই নিশ্চিত হয়েছে। তবে শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল এখানেই থেমে থাকতে রাজি নয়। আগামী রবিবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে Bangladesh aim for 3-0 against Australia in ODI series লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে স্বাগতিক দল। কয়েক মাস আগেও এমন একটি পরিস্থিতি চিন্তা করাও হয়তো অসম্ভব ছিল, কিন্তু ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দল নিজেদের যেভাবে মেলে ধরেছে এবং পারফরম্যান্সে যে উন্নতি দেখিয়েছে, তাতে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় এখন আর কোনো অলীক কল্পনা নয়।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে বেশ কিছু কঠিন মুহূর্ত পার করে ৫ উইকেটের দারুণ জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। ১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই তানজিদ হাসানের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল দল। তবে সেই চাপ সামাল দিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৮৬ রানের চমৎকার জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকার। মিডল অর্ডারে দ্রুত ৫ উইকেট হারিয়ে আবারও কিছুটা শঙ্কায় পড়েছিল বাংলাদেশ, কিন্তু তাওহীদ হৃদয় এবং মেহেদী হাসান মিরাজ অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দেন। ১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৮ রান বাকি থাকতেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা।
বল হাতে শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের অবদানও ছিল অনস্বীকার্য। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শেষ দিকে পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে তিনি বড় ভূমিকা পালন করেন। দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে যখন বৃষ্টি নামল, তখন তাসকিনের এই জোড়া আঘাতের কারণে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১৯২ রান। যদি অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেট না হারিয়ে কম উইকেট হারাত, তবে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের জয়ের লক্ষ্য দাঁড়াত ২২০ রান। ফলে তাসকিনের ওই স্পেলটি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল ম্যাচের শুরুতেই বল হাতে তাদের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মাত্র ০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি মাত্র চতুর্থ ঘটনা, যেখানে কোনো দল শূন্য রানেই প্রথম ৩টি উইকেট হারিয়েছে। প্রথম পাওয়ারপ্লেতেই তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন মোস্তাফিজুর রহমান। ২০১৬ সালের পর থেকে মোস্তাফিজ যেভাবে নিজের চেনা ছнде ফিরেছেন, তা দলের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
অস্ট্রেলিয়ার দুর্দশা ও বোলিং ব্যর্থতা
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার আসলে কী হয়েছে, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে জোর আলোচনা চলছে। সফরকারীদের টপ-অর্ডার ব্যাটাররা ক্রিজে এতটাই কম সময় টিকছেন যে, তাদের ফর্ম নিয়ে কোনো বিশ্লেষণ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। মিডল অর্ডারও প্রত্যাশা পূরণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। গত ম্যাচে মার্নাস লাবুশেনকে ৭ নম্বরে নামানো হয়েছিল, যেখানে টানা ১৪ ইনিংস পর অবশেষে তিনি একটি অর্ধশতকের দেখা পান। এছাড়া জেভিয়ার বার্টলেট আট নম্বরে নেমে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেন।
অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণও এই সিরিজে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। নতুন বলে বার্টলেট ও নাথান এলিস কিছুটা ভীতি ছড়ালেও বাংলাদেশের কাউন্টার-অ্যাটাকিং ব্যাটিং শৈলীর কাছে তারা বারবার পরাস্ত হয়েছেন। ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক বাজে পারফরম্যান্সের পর যেভাবে দলটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সবচেয়ে বড় কথা, স্পোর্টিং উইকেটে খেলে এই জয় এসেছে, যা দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। দ্বিতীয় ওয়ানডের পর তাসকিন আহমেদ যেমনটি বলেছিলেন, বাংলাদেশ এখন আর কোনো “ধানক্ষেতে” (প্যাডি ফিল্ড) খেলছে না, বরং সত্যিকারের ক্রিকেটীয় উইকেটে লড়াই করে জিতছে।
সাম্প্রতিক ফর্ম (Form Guide)
বাংলাদেশ: জয়, জয়, জয়, জয়, হার (সর্বশেষ ৫টি ম্যাচ, সাম্প্রতিক ম্যাচটি আগে)
অস্ট্রেলিয়া: হার, হার, হার, জয়, হার
লাইমলাইটে যারা: তাসকিন আহমেদ এবং জেভিয়ার বার্টলেট
তাসকিন আহমেদ: বাংলাদেশ দল এই সিরিজে তাসকিন আহমেদের কাছ থেকে সেরা সার্ভিসটি পাচ্ছে। নতুন এবং পুরোনো দুই বলেই তিনি দারুণ কার্যকরী ভূমিকা রাখছেন। বেলা ১১টায় খেলা শুরু হওয়ার সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রথম ওভারেই সুইং আদায় করে নিচ্ছেন তাসকিন। দুই ম্যাচেই তিনি ওপেনার ম্যাথু শর্টকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন। এছাড়া পুরোনো বলেও তিনি দুর্দান্ত বোলিং করছেন, যা পাকিস্তান সিরিজের টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ স্পেলে বল করার অভিজ্ঞতা থেকে এসেছে বলে মনে করেন তাসকিন। ম্যাচ শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ একটি দুর্দান্ত ফিনিশ উপহার দেবে।
জেভিয়ার বার্টলেট: অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিপর্যয়ের সময়, মাত্র ৮১ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর আট নম্বরে নেমে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন জেভিয়ার বার্টলেট। মাত্র ৪৪ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। স্পিন ও পেস উভয় বলের বিপক্ষেই তার শটগুলো ছিল বেশ সাবলীল। ফুটের ব্যবহার কিছুটা দুর্বল হলেও আট নম্বরে নেমে তার কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা কঠিন ছিল। পরে বল হাতেও নতুন বলে বাংলাদেশি ব্যাটারদের বেশ ভুগিয়েছেন তিনি। তৃতীয় ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ভরসা হতে পারেন এই অলরাউন্ডার।
দলীয় খবর: একাদশে পরিবর্তনের হাওয়া?
মেহেদী হাসান মিরাজের ইনজুরি (কনকাশন) থাকায় একাদশে ফিরতে পারেন রিশাদ হোসেন। উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান খেলবেন মূলত একজন ব্যাটার হিসেবে। এছাড়া পেস বোলারদের বিশ্রাম দেওয়া হলে একাদশে দেখা যেতে পারে শরিফুল ইসলামকে।
বাংলাদেশ সম্ভাব্য একাদশ: ১. তানজিদ হাসান, ২. সাইফ হাসান, ৩. নাজমুল হোসেন শান্ত, ৪. তাওহীদ হৃদয়, ৫. লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), ৬. মোসাদ্দেক হোসেন, ৭. নুরুল হাসান, ৮. রিশাদ হোসেন, ৯. তাসকিন আহমেদ, ১০. মোস্তাফিজুর রহমান, ১১. নাহিদ রানা/শরিফুল ইসলাম।
সাধারণত অস্ট্রেলিয়া দলে হুট করে বড় পরিবর্তন আনে না, তবে সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া সম্ভাব্য একাদশ: ১. ম্যাট শর্ট, ২. কুপার কনোলি, ৩. জশ ইংলিশ (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), ৪. ম্যাট রেনশ, ৫. অ্যালেক্স ক্যারি, ৬. ক্যামেরন গ্রিন, ৭. মার্নাস লাবুশেন, 8. জেভিয়ার বার্টলেট, ৯. নাথান এলিস, ১০. রাইলি মেরেডিথ, ১১. অ্যাডাম জাম্পা।
পিচ ও কন্ডিশন এবং কিছু পরিসংখ্যান
সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডেতেই দেখা গেছে উইকেট ব্যাটিং এবং বোলিং উভয়ের জন্যই চমৎকার আচরণ করেছে। বাউন্স ও গতি বুঝতে পারলে ব্যাটার ও বোলার উভয়েই এখানে সুবিধা পাচ্ছেন। তবে একমাত্র চিন্তার বিষয় হচ্ছে আবহাওয়া। রবিবার ম্যাচের দিনও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, যা খেলায় বিঘ্ন ঘটকাতে পারে।
পরিসংখ্যান ও টুকিটাকি:
- জেভিয়ার বার্টলেট অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের প্রথম ব্যাটার, যিনি ৮ নম্বর বা তার নিচে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে হাফ-সেঞ্চুরি করেছেন।
- মোস্তাফিজুর রহমান দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রথম পাওয়ারপ্লেতেই তিন উইকেট শিকার করেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি মোস্তাফিজের মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা।
