‘Not looking to defend anything’ – Melie Kerr wants New Zealand to start again
একটি নতুন শুরুর অপেক্ষায় মেলি কার
নতুন করে পথচলার প্রত্যয় নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করতে যাচ্ছেন নিউ জিল্যান্ডের অধিনায়ক মেলি কার। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবারের টুর্নামেন্টে খেলতে নামলেও, পুরোনো শিরোপা ধরে রাখার কোনো বাড়তি চাপ নিতে নারাজ তিনি। শনিবার সাউদাম্পটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে কার স্পষ্ট জানালেন, তারা কোনো কিছু ‘ডিফেন্ড’ বা রক্ষা করতে মাঠে নামছেন না।
অতীতের সাফল্য নিয়ে ভাবছেন না অধিনায়ক
সোফি ডিভাইন থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর এই প্রথম কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে নিউ জিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেলি কার। মাত্র ২৫ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার জানান, দুই বছর আগে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ তাদের শক্তি জোগালেও, সেটি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার কোনো সুযোগ নেই। কার বলেন, ‘আমরা কোনো কিছু রক্ষা করতে চাইছি না। আমরা ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে চাই এবং এমন এক ব্র্যান্ড তৈরি করতে চাই যা বিশ্বজয়ের জন্য যথেষ্ট।’
শক্তিশালী ফর্মে কিউইরা
২০২৪ সালের বিশ্বকাপের আগে টানা নয়টি ম্যাচ হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল নিউ জিল্যান্ডের। তবে এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। চলতি বছর ১১টি টি-টোয়েন্টির মধ্যে ৮টিতেই জয় পেয়েছে তারা। প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে নিজেদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে নিয়েছে দলটি। তবে মেলি কার কোনো কিছুকেই হালকাভাবে দেখছেন না। তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচই নতুন শুরু এবং মাঠে নেমে নিজের দক্ষতার ওপর আস্থা রাখাই আসল।
তরুণদের অনুপ্রেরণা কার ও ম্যাথিউস
মেলি কারের জন্য এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটি তার ক্যারিয়ারের ১০০তম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। নিজের দল নিয়ে কার বেশ আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমি এমন একটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছি যেখানে অনেক তরুণ প্রতিভা রয়েছে। তাদের কাজের নৈতিকতা এবং জয়ের ক্ষুধা আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে।’
অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক হেইলি ম্যাথিউসও তরুণদের সামলানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি নিজে ২০১৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জয় করেছিলেন। এখন তার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হওয়া। ম্যাথিউস বলেন, ‘তরুণরা দলে প্রচুর শক্তি নিয়ে আসে। তাদের শেখার আগ্রহ দেখে আমি মুগ্ধ। আমাদের লক্ষ্য হলো বড় মঞ্চে নিজেদের সেরাটা দিয়ে আবারও শিরোপা জেতার স্বপ্ন পূরণ করা।’
চ্যালেঞ্জের মুখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফর্ম খুব একটা ভালো নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ম্যাচে হারের মুখ দেখতে হয়েছে তাদের। তবে ম্যাথিউস মনে করেন, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে তার দল সবসময়ই ভালো খেলে। ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে দলের ব্যাটিং গভীরতা ও ইতিবাচক দিকগুলোই তাদের মূল ভরসা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জানান, বড় ম্যাচে তারা জ্বলে উঠতে প্রস্তুত।
নতুন লক্ষ্যের পথে
শনিবারের ম্যাচটি গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি। সেই ম্যাচে নিউ জিল্যান্ড জয়লাভ করেছিল। তবে দুই অধিনায়কের চোখ এখন বর্তমানের ওপর। মেলি কার মনে করেন, অতিরিক্ত প্রতিশোধের মানসিকতা বা অতীতের হিসাব মেলাতে গেলে খেলার মনোযোগ নষ্ট হয়। অন্যদিকে ম্যাথিউস একে প্রতিশোধ হিসেবে না দেখে, টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ হিসেবে দেখছেন।
নারী ক্রিকেটের অগ্রযাত্রা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে মেলি কার তার ১৬ বছর বয়সের সেই দিনের কথা স্মরণ করেন, যখন তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেছিলেন। আজ তিনি বিশ্ব মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দুতে। ঠিক একইভাবে, হেইলি ম্যাথিউসও মনে করেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আবারও বিশ্বকাপ জয় করাটা তাদের জন্য বড় প্রেরণা। দুই দলের লড়াই এখন কেবল মাঠের ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এক নতুন প্রজন্মের আগমণবার্তাও বয়ে আনছে।
