‘Disappointing’ – Sangakkara on Sam Curran turning out for Surrey with IPL still – আইপিএলে স্যাম কারানের অনুপস্থিতি নিয়ে হতাশ কুমার সাঙ্গাকারা
আইপিএল ও স্যাম কারানের বিতর্কিত অনুপস্থিতি
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমের মাঝপথে স্যাম কারানের রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে না খেলা এবং পরবর্তীতে সারে দলের হয়ে মাঠে নামার বিষয়টি নিয়ে বেশ সরগরম ক্রিকেট অঙ্গন। রাজস্থান রয়্যালসের প্রধান কোচ কুমার সাঙ্গাকারা এই পুরো ঘটনাটিকে ‘হতাশাজনক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কুঁচকির চোটের কারণে কারান আইপিএল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন, কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার আগেই তাকে ভাইটালিটি ব্লাস্টে সারের জার্সি গায়ে খেলতে দেখা যায়।
সাঙ্গাকারার অসন্তোষের কারণ
আইপিএল থেকে রাজস্থান রয়্যালসের বিদায়ের পর সংবাদ সম্মেলনে সাঙ্গাকারা তার হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল স্যাম কারানের চোটটি মৌসুম শেষ করে দেওয়ার মতো গুরুতর। কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম সে সারের হয়ে ম্যাচ খেলছে। এটা সত্যিই হতাশাজনক কারণ আমরা তাকে আমাদের দলে চেয়েছিলাম।’ সাঙ্গাকারার মতে, খেলোয়াড়দের চুক্তিবদ্ধ দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করা উচিত এবং ইনজুরির অজুহাতে এমন আচরণ পেশাদারিত্বের পরিপন্থী।
কারানের অবস্থান ও বাস্তবতা
স্যাম কারান যখন আইপিএল থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন যে কুঁচকির চোটে তিনি বেশ ভুগছেন এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় থেকেই এটি তাকে সমস্যায় ফেলছিল। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনি মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে সারের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলে ১৪১ রান করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে তিনি ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি ফিট। যদিও তিনি এই ম্যাচগুলোতে বল করেননি, তবুও তার ব্যাটিং পারফরম্যান্স প্রশ্ন তুলেছে তার আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রকৃত কারণ নিয়ে।
বিকল্প খেলোয়াড় এবং দলের ওপর প্রভাব
কারানের অনুপস্থিতিতে রাজস্থান রয়্যালস দাসুন শানাকাকে দলে নেয়। তবে এই বদলি খেলোয়াড় নেওয়া দলের জন্য অন্য সমস্যার জন্ম দেয়। শানাকাকে লাহোর কালান্দার্সের সাথে চুক্তি বাতিল করতে হয়, যার ফলে তাকে এক বছরের জন্য পিএসএল থেকে নিষিদ্ধ হতে হয়। সাঙ্গাকারা মনে করেন, কারান যদি দলের সাথে থাকতেন, তবে দলের রসায়ন ভিন্ন হতে পারত। তিনি উদাহরণ হিসেবে অ্যাডাম মিলনে, শিমরন হেটমায়ার এবং লয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াসের কথা উল্লেখ করেন, যারা নিয়মিত একাদশে সুযোগ না পেলেও দলের সাথে থেকে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং ডাগআউটে দলের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন।
বিসিসিআইয়ের নীতি ও ভবিষ্যৎ
খেলোয়াড়দের এই ধরনের আচরণ রোধে বিসিসিআই বেশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বিসিসিআই নিলামে দল পাওয়ার পর খেলোয়াড়দের সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার নিয়ম জারি করেছে। সাঙ্গাকারা এই কঠোর নীতির সমর্থন করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘চুক্তিবদ্ধ দায়বদ্ধতা পূরণ করা প্রতিটি খেলোয়াড়ের নৈতিক দায়িত্ব। ইনজুরি থাকতেই পারে, কিন্তু তা গুরুতর হলে আমরা বুঝতে পারি। তবে নীতি থাকা আবশ্যক যাতে আইপিএল এবং প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সুরক্ষিত থাকে।’
উপসংহার
স্যাম কারানের মতো একজন প্রতিভাবান অলরাউন্ডারের এমন আচরণ আইপিএলের মতো একটি বড় টুর্নামেন্টের প্রতি খেলোয়াড়দের দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাঙ্গাকারার মতো অভিজ্ঞ কোচ যখন এমন মন্তব্য করেন, তখন তা ক্রিকেট বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই বিবেচিত হয়। ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের চুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন এবং ইনজুরি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাই হতে পারে এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।
