Mustafizur opens up on injury struggles after match-winning performance
ইনজুরির লড়াইকে সঙ্গী করেই মোস্তাফিজের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
দ্রুতগতির বোলারদের জীবনে চোট যেন নিত্যসঙ্গী। মাঠের লড়াইয়ে ব্যথার সাথে লড়াই করেই তাদের এগিয়ে যেতে হয়। এই যন্ত্রণার সাথে মানিয়ে নিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করে যাওয়াটাই একজন পেশাদার ক্রিকেটারের আসল পরীক্ষা। বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান এই লড়াইয়ের এক অনন্য উদাহরণ।
চোটকেও হার মানালেন কাটার মাস্টার
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইনজুরি নিয়ে বেশ ভুগছিলেন মোস্তাফিজ। তবে তার বোলিংয়ের ধার যে কমেনি, তা তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন বারবার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আবারও নিজের জাত চিনিয়েছেন এই অভিজ্ঞ পেসার। ১১ জুন মিরপুরে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে টাইগারদের সিরিজ জয়ে তিনি রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
ম্যাচের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার ধসে পড়েছিল মোস্তাফিজ এবং তাসকিনের বোলিং তোপে। স্কোর বোর্ডে কোনো রান ওঠার আগেই অস্ট্রেলিয়া হারিয়েছিল তিনটি উইকেট। তাসকিন আহমেদ ইনিংসের প্রথম ওভারেই ম্যাথিউ শর্টকে সাজঘরে ফেরান। পরের ওভারে মোস্তাফিজ এসে জোড়া আঘাত হানেন। কুপার কনোলি এবং ম্যাট রেনশকে কোনো রান না দিয়েই ফিরিয়ে দিয়ে অজিদের চাপে ফেলে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সাত ওভারে ২৭ রান খরচ করে তিন উইকেট তুলে নেন তিনি, যার মধ্যে ছিল দুটি মেইডেন ওভার। তার এই দুর্দান্ত বোলিংয়ের সুবাদেই পাঁচ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
ফিটনেস ও ক্যারিয়ারের বাস্তবতা
ম্যাচ শেষে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গ্রহণ করার সময় মোস্তাফিজুর রহমান তার বোলিং কৌশলের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘নতুন বলে আমি সব সময় সুইং করানোর চেষ্টা করি। সাধারণত পুরনো বলে বল করতে আমি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি, তবে দলের প্রয়োজনে আমি আমার দক্ষতা অনুযায়ী সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থাপক আতহার আলী খান মোস্তাফিজকে তার সাম্প্রতিক ইনজুরি ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করেন। উত্তরে মোস্তাফিজের সাবলীল জবাব ছিল, ‘ফিটনেস ঠিক আছে। ফাস্ট বোলারদের জন্য শরীরে ব্যথা থাকাটা খুবই স্বাভাবিক, এটি খেলারই অংশ।’
কেন মোস্তাফিজ এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী?
মোস্তাফিজের এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, একজন আন্তর্জাতিক মানের বোলারের মানসিক শক্তি কতটা প্রবল। চোট নিয়ে মাঠের বাইরে না থেকে বরং সেই ব্যথাকে মেনে নিয়েই কীভাবে দলের জয়ে অবদান রাখা যায়, তা তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তার এই পারফরম্যান্স কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো দলের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে মোস্তাফিজের অবদান অনস্বীকার্য। তার কাটার, স্লোয়ার এবং সঠিক লাইন-লেন্থ বিপক্ষ দলের ব্যাটারদের জন্য সবসময়ই মাথাব্যথার কারণ। চোটের কারণে তিনি হয়তো নিয়মিত খেলতে পারছেন না, কিন্তু যখনই মাঠে নেমেছেন, তখনই নিজের কাজটা নিখুঁতভাবে শেষ করেছেন।
সামনের পথচলা
বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা মোস্তাফিজের কাছ থেকে আরও এমন অনেক জয়ের প্রত্যাশা করেন। যদিও ইনজুরি ক্যারিয়ারের একটি বড় বাধা, তবে তার এই ইতিবাচক মানসিকতা প্রমাণ করে যে তিনি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ দলকে সার্ভিস দিতে প্রস্তুত। সামনের সিরিজগুলোতে মোস্তাফিজের ফিটনেস বজায় রাখা বিসিবির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। আশা করা যায়, যথাযথ যত্ন এবং সচেতনতায় তিনি আরও অনেকদিন বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের আধিপত্য বজায় রাখবেন।
পরিশেষে, মোস্তাফিজুর রহমানের এই লড়াই আমাদের শেখায় যে প্রতিকূলতা থাকলেও লক্ষ্যে অবিচল থাকলে জয় সম্ভব। তিনি কেবল একজন বোলার নন, তিনি লড়াইয়ের প্রতীক।
