Leicestershire sneak home after Budinger injured in horror collision – ভাইটালিটি ব্লাস্ট: নাটকীয় জয় পেল লেস্টারশায়ার, মাঠ ছাড়লেন বুডিঙ্গার
একটি রোমাঞ্চকর এবং উদ্বেগজনক ক্রিকেটীয় দুপুর
ভাইটালিটি ব্লাস্টের এবারের আসরে লেস্টারশায়ার ফক্সেস শেষ পর্যন্ত তাদের প্রথম জয়টি তুলে নিয়েছে। এমিরেটস ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে জয়টি যতটা না সহজ ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। তবে ক্রিকেটীয় লড়াইয়ের চেয়েও এদিন বড় হয়ে উঠেছিল মাঠের ভেতরের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
সল বুডিঙ্গারের সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা
ম্যাচের মাঝপথে যখন ল্যাঙ্কাশায়ারের ইনিংস চলছিল, তখন বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ ধরতে গিয়ে সতীর্থ লিয়াম ট্রেভাস্কিসের সাথে সল বুডিঙ্গারের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। মুহূর্তের জন্য মাঠের পরিবেশ থমকে যায়। ট্রেভাস্কিস দ্রুত উঠে দাঁড়াতে পারলেও বুডিঙ্গার গুরুতর আঘাত পান। মেডিকেল স্টাফরা দীর্ঘ দশ মিনিট তাকে চিকিৎসা দেন এবং শেষ পর্যন্ত স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় ম্যানচেস্টারের গ্যালারিতে থাকা দর্শকরাও তাদের সহমর্মিতা জানান। লেস্টারশায়ারের হেড কোচ আলফনসো থমাস জানিয়েছেন, এটি কেবল সাবধানতা হিসেবে করা হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে তার হাঁটুর চোট গুরুতর নয়।
ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটিং বিপর্যয় ও লড়াই
টস জিতে ব্যাট করতে নামা ল্যাঙ্কাশায়ারের শুরুটা ছিল অত্যন্ত নড়বড়ে। প্রথম ওভারেই ম্যাটি হার্স্টকে হারায় তারা। এরপর কিটন জেনিংস ও লিয়াম লিভিংস্টোন দ্রুত সাজঘরে ফিরে গেলে পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই ল্যাঙ্কাশায়ার ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে। তবে জো মুরস এবং ক্রিস গ্রিনের জুটি ল্যাঙ্কাশায়ারকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। মুরস তার ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন এবং দলের সংগ্রহকে ১৪৫ পর্যন্ত নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ট্রেভাস্কিস ও ডেভি লেস্টারশায়ারের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন।
লেস্টারশায়ারের নাটকীয় রান তাড়া
১৪৬ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে লেস্টারশায়ার ফক্সেস বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছিল। রিষি প্যাটেল (৪০) এবং নিক কেলি (২৯) দলের জয়ের পথ সুগম করেছিলেন। ১৯ বল বাকি থাকতে জয় যখন প্রায় হাতের মুঠোয়, ঠিক তখনই শুরু হয় নাটক। ক্রিস গ্রিন ও সাকিব মাহমুদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে লেস্টারশায়ার দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে। শেষের দিকে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১০ রানের প্রয়োজন হয়। সল বুডিঙ্গার ব্যাট করতে নামতে না পারায় বাড়তি চাপ ছিল লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের ওপর। তবে ইয়ান হল্যান্ড এবং জশ ডেভি দারুণ বুদ্ধিমত্তার সাথে প্রয়োজনীয় বাউন্ডারি ও সিঙ্গেলস নিয়ে এক বল বাকি থাকতেই দলকে জয়ী করেন।
ম্যাচের সংক্ষিপ্তসার
ল্যাঙ্কাশায়ার ১৪৫/৯ (২০ ওভার) এবং লেস্টারশায়ার ১৪৬/৮ (১৯.৫ ওভার)। লেস্টারশায়ার দুই উইকেটে জয়ী। ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে সাকিব মাহমুদ ৩টি উইকেট নিলেও দিন শেষে সেটি পরাজয় এড়াতে যথেষ্ট ছিল না। অন্যদিকে, লেস্টারশায়ারের বোলাররা শুরু থেকেই চাপ বজায় রাখায় ল্যাঙ্কাশায়ার বড় স্কোর করতে ব্যর্থ হয়। এই জয় লেস্টারশায়ার দলের মনোবল অনেক বাড়িয়ে দেবে, যদিও বুডিঙ্গারের সুস্থতা নিয়ে এখন পুরো দলের প্রার্থনা।
উপসংহার
ক্রিকেটের মাঠে জয়-পরাজয় থাকেই, কিন্তু খেলোয়াড়দের সুরক্ষা সবার আগে। বুডিঙ্গারের সেই মুহূর্তটি আবারও মনে করিয়ে দিল মাঠের লড়াই কতটা কঠোর হতে পারে। লেস্টারশায়ার ফক্সেস আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জিতল ঠিকই, কিন্তু ক্রিকেটপ্রেমীদের মন এখন বুডিঙ্গারের সুস্থ হওয়ার খবর শোনার অপেক্ষায়। আশা করা যায়, তিনি দ্রুত মাঠে ফিরবেন এবং নিজের ফর্ম পুনরায় খুঁজে পাবেন।
