Kiran Carlson ton hands Glamorgan victory – ভাইটালিটি ব্লাস্ট: কিরণ কার্লসনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে সমারসেটকে হারাল গ্ল্যামারগন
কিরণ কার্লসনের ব্যাট ও নাথান ম্যাকঅ্যান্ড্রুর বোলিং দাপটে গ্ল্যামারগনের জয়
সোফিয়া গার্ডেন্সে ভাইটালিটি ব্লাস্টের ম্যাচে সমারসেটের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে গ্ল্যামারগন। অধিনায়ক কিরণ কার্লসনের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি এবং নাথান ম্যাকঅ্যান্ড্রুর দুর্দান্ত বোলিংয়ে সাত উইকেটের ব্যবধানে জয় পায় স্বাগতিকরা। সমারসেট নির্ধারিত ওভারে ১৭৯ রান সংগ্রহ করলেও কার্লসনের ঝোড়ো ইনিংসে সহজেই লক্ষ্য টপকে যায় গ্ল্যামারগন।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফলাফল
- সমারসেট: ১৭৯/৯ (২০ ওভার) – টম ব্যান্টন ৫৯, নাথান ম্যাকঅ্যান্ড্রু ৪/১৫।
- গ্ল্যামারগন: ১৮২/৩ (১৬.৫ ওভার) – কিরণ কার্লসন ১০৯।
- ফলাফল: গ্ল্যামারগন ৭ উইকেটে জয়ী।
টম ব্যান্টনের ঝড় ও গ্ল্যামারগনের ঘুরে দাঁড়ানো
ম্যাচের শুরুটা ছিল সমারসেটের পক্ষে। ওপেনার টম ব্যান্টন রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ২৫ বলে ৫৯ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। পাওয়ারপ্লেতে সমারসেটকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন তিনি। তবে গ্ল্যামারগনের বোলাররা হাল ছাড়েননি। নতুন বোলার নাথান ম্যাকঅ্যান্ড্রু দারুণ কৌশলে সমারসেটের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। তিনি মাত্র ১৫ রান খরচ করে ৪টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া লেগ-স্পিনার ম্যাসন ক্রেন ৩টি উইকেট নিয়ে সমারসেটকে বড় সংগ্রহের পথে বাধা দেন। অর্ধেক পথ অর্থাৎ ১০ ওভার শেষে সমারসেট ১০০ রানে থাকলেও, শেষ দিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে তারা বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয়।
কিরণ কার্লসনের সেঞ্চুরি মহাকাব্য
১৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গ্ল্যামারগনের অধিনায়ক কিরণ কার্লসন যেন ব্যাট হাতে এক রূপকথা লিখেছিলেন। যদিও ইনিংসের শুরুতে কিছুটা ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছিলেন তিনি, তবে ক্রিজে থিতু হওয়ার পর কার্লসন হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য। মাত্র ৪২ বলে শতক পূর্ণ করা কার্লসন প্রমাণ করেন কেন তিনি এই ফরম্যাটের অন্যতম সেরা ব্যাটার। দুই বছর আগে ঠিক একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ১৩৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি, সেই স্মৃতি যেন এদিন নতুন করে ফিরে এল সোফিয়া গার্ডেন্সে।
কার্লসনের ইনিংসে ছিল পাওয়ার হিটিংয়ের প্রদর্শনী। লুইস গোল্ডসওয়ার্দি ও জশ শ’র বলে ছক্কা মেরে যথাক্রমে হাফ-সেঞ্চুরি ও সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। মজার বিষয় হলো, মাত্র ১৪ রানের মাথায় কার্লসনের একটি রান আউটের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছিল সমারসেট, যা পরে তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ইনিংসের শেষ দিকে শন ডিকসন দলের জয় নিশ্চিত করেন এবং তার সাবেক দলের বিপক্ষে জয় উদযাপনে মাতেন।
অধিনায়কের প্রশংসা ও ভবিষ্যৎ
ম্যাচ জয়ের পর গ্ল্যামারগন শিবিরে স্বস্তির সুবাতাস বইছে। নতুন খেলোয়াড় জিমি নিশামসহ দলের সমন্বয় এদিন বেশ কার্যকর ছিল। বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং কার্লসনের একক নৈপুণ্য গ্ল্যামারগনকে ভাইটালিটি ব্লাস্টের পয়েন্ট টেবিলে লড়াইয়ে ফিরিয়ে এনেছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সমারসেটের বিপক্ষে এই জয় দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আসন্ন ম্যাচগুলোতেও কার্লসনের ব্যাটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইবে গ্ল্যামারগন।
এই জয় গ্ল্যামারগনের জন্য কেবল দুটি পয়েন্ট নয়, বরং টুর্নামেন্টে নিজেদের সক্ষমতার জানান দেওয়ার একটি বড় মাধ্যম। মাঠের লড়াইয়ে সমারসেট লড়াই করলেও, কার্লসনের সেঞ্চুরি তাদের সমস্ত পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়। ভক্তরা এখন দেখার অপেক্ষায়, গ্ল্যামারগন এই জয়ের ধারা পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও ধরে রাখতে পারে কি না।
