কার্তিক শর্মার ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ অম্বাতি রাইডু, চেন্নাইয়ের তরুণকে দেখছেন ভবিষ্যতের তারকা হিসেবে
কার্তিক শর্মার উত্থান: চেন্নাইয়ের ভরসার নতুন নাম
আইপিএল ২০২৬-এর নিলামে ১৪.২ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কে কার্তিক শর্মাকে দলে নিয়েছিল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস। সেই আস্থার প্রতিদান যে তরুণ এই ব্যাটার দিচ্ছেন, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে চাপের মুখে দাঁড়িয়ে কার্তিক যে পরিপক্কতা দেখিয়েছেন, তা ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।
চাপের মুখে কার্তিকের অবিশ্বাস্য ব্যাটিং
ম্যাচের শুরুর দিকে যখন সিএসকে বিপর্যয়ের মুখে, তখন কার্তিকের ব্যাটেই যেন ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ খুঁজে পেয়েছিল হলুদ জার্সিধারীরা। ষষ্ঠ ওভারে মাত্র ৩৬ রানে দুই উইকেট হারানোর পর উর্বিল প্যাটেলের দ্রুত বিদায়ে সিএসকে ড্রেসিংরুমে তখন চরম অস্বস্তি। কিন্তু কার্তিক শর্মা সেই চাপকে জয় করলেন অত্যন্ত ধৈর্য ও পরিকল্পনার সাথে। প্রাথমিক পর্যায়ে ২৬ বলে ২৯ রান সংগ্রহ করে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এরপরই শুরু হয় আসল লড়াই। শেষ ১৬ বলে ঝোড়ো গতিতে ৪২ রান তুলে লখনউয়ের বোলারদের নাস্তানাবুদ করে ছাড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৭১ রানের এক ঝকঝকে ইনিংস খেলেন কার্তিক, যা সাজানো ছিল ছয়টি বিশাল ছক্কা ও পাঁচটি চারের মার দিয়ে।
অম্বাতি রাইডুর চোখে আগামীর তারকা
কার্তিকের এই ইনিংসের পর উচ্ছ্বসিত প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটার অম্বাতি রাইডু। তিনি মনে করেন, পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে এই তরুণ ক্রিকেটারের। ইএসপিএনক্রিকইনফোর ‘টাইমআউট’ শো-তে রাইডু বলেন, ‘আমি মনে করি ও অসাধারণ খেলেছে। বিশেষ করে শর্ট পিচ বলের বিরুদ্ধে ওর প্রস্তুতি ছিল দেখার মতো। লখনউয়ের মতো শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিরুদ্ধে যেভাবে ও নিজেকে তৈরি করেছে, তা প্রশংসনীয়। স্পিনের বিরুদ্ধেও ওর ফুটওয়ার্ক এবং লেংথ রিডিং দারুণ। আমার মতে, ও একজন পরিপূর্ণ মিডল-অর্ডার ব্যাটার হয়ে উঠছে।’
কেন কার্তিক আলাদা?
অনেকের মতে, বর্তমান আইপিএলের আবহে কার্তিকের স্ট্রাইক রেট খুব একটা আহামরি নয়। তবে রাইডু এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি মনে করেন, এটি কার্তিকের প্রথম আইপিএল মরশুম এবং এই বয়সে চাপের মুখে যেভাবে সে নিজেকে সামলাচ্ছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। রাইডুর কথায়, ‘ও দ্রুত শিখছে। প্রথম দিকে ৬ বা ৭ নম্বরে ব্যাট করা সহজ নয়, কিন্তু ৪ বা ৫ নম্বরে উঠে আসার পর থেকেই সে অসাধারণ খেলছে। সময়ের সাথে সাথে অভিজ্ঞতা বাড়লে তার স্ট্রাইক রেটও আরও বাড়বে। পিচের চরিত্র বুঝে কখন সিঙ্গেল নিতে হবে বা কখন আক্রমণ করতে হবে—এই বিষয়গুলো সে দ্রুত আয়ত্ত করে নিচ্ছে।’
ভবিষ্যতের পথচলা
এবারের আইপিএলে ৯ ম্যাচ খেলে কার্তিক ৩৪.৮৫ গড়ে ২৪৪ রান সংগ্রহ করেছেন। যদিও পরিসংখ্যান হয়তো অনেকের চোখে কম মনে হতে পারে, কিন্তু পরিস্থিতির বিচারে তার প্রতিটি ইনিংসই ছিল সিএসকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কার্তিকের এই দ্রুত উন্নতি এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ব্যাট করার সক্ষমতা তাকে চেন্নাই সুপার কিংসের পরবর্তী বড় তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
একজন ফাস্ট লার্নার হিসেবে কার্তিক শর্মা প্রমাণ করেছেন যে, আধুনিক ক্রিকেটে পাওয়ার হিটিংয়ের পাশাপাশি ধৈর্য এবং কৌশলী ব্যাটিংয়ের গুরুত্ব আজও অপরিসীম। অম্বাতি রাইডুর মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সার্টিফিকেট পাওয়ার পর, এখন দেখার বিষয় কার্তিক আগামী ম্যাচগুলোতে কতটা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন। ক্রিকেট মহল এখন তাকিয়ে আছে এই তরুণ তুর্কির আরও বড় ইনিংসের অপেক্ষায়।
