Grace Scrivens fifty sets up Essex in Headingley thriller – হেডিংলি থ্রিলারে এসেক্সের জয়: স্ক্রাইভেনসের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স
হেডিংলিতে রোমাঞ্চকর লড়াই: ৩ রানের নাটকীয় জয়ে উল্লাস এসেক্সের
সংক্ষিপ্ত স্কোর: এসেক্স ১৪৬/৭ (স্ক্রাইভেনস ৫৩, জোনাসেন ২-২৩) বনাম ইয়র্কশায়ার ১৪৩ (গ্রে ৩-২৫, স্ক্রাইভেনস ২-২৭, স্মেল ২-২০)। এসেক্স ৩ রানে জয়ী।
হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত ভাইটালিটি ব্লাস্টের অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ইয়র্কশায়ারকে মাত্র ৩ রানে পরাজিত করেছে এসেক্স। ম্যাচের একেবারে শেষ ওভারের শেষ বল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়ে এসেক্স টুর্নামেন্টে তাদের দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে। অন্যদিকে, চার ম্যাচ খেলার পরও এখনও প্রথম জয়ের খোঁজে থাকা ইয়র্কশায়ারের জন্য এই হারটি অত্যন্ত হতাশার। জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও ম্যাচটি তাদের হাত থেকে ফসকে যায়, যা তাদের টুর্নামেন্টের পয়েন্ট টেবিলে আরও ব্যাকফুটে ঠেলে দিল।
গ্রেস স্ক্রাইভেনসের তাণ্ডব এবং এসেক্সের উড়ন্ত সূচনা
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে এসেক্স শুরুটা করেছিল দুর্দান্তভাবে। ওপেনার গ্রেস স্ক্রাইভেনস এবং অ্যালিস ম্যাকলিওডের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ভর করে কোনো উইকেট না হারিয়েই ৪৮ রান সংগ্রহ করে তারা। বিশেষ করে স্ক্রাইভেনস ছিলেন দারুণ ফর্মে। মাঠের চারদিকে চমৎকার সব শট খেলে মাত্র ৩৮ বলে নিজের অর্ধশতক পূরণ করেন তিনি। তার এই ইনিংসে ছিল পাঁচটি চমৎকার বাউন্ডারি, যা ইয়র্কশায়ারের বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করেছিল। শক্তিশালী গ্রাউন্ড শট খেলে তিনি এসেক্সকে এক বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন।
ইয়র্কশায়ারের কোনো বোলারই এসেক্সের এই উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে পারছিলেন না। অবশেষে অষ্টম ওভারে লেগ-স্পিনার হলি গার্টনের হাত ধরে ব্রেকথ্রু পায় ইয়র্কশায়ার। দারুণ এক লেগ-স্পিন ডেলিভারিতে ২২ রান করা অ্যালিস ম্যাকলিওডকে লেগ সাইডে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান গার্টন। এক উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে এসেক্সের। পরের ওভারেই জেস জোনাসেন তার প্রথম বলেই কর্ডেলিয়া গ্রিফিথকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন। ফলে ৬১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে সফরকারীরা।
মাঝারি অর্ডারের বিপর্যয় ও স্মেলের লড়াই
উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলছিলেন হাফ-সেঞ্চুরিয়ান স্ক্রাইভেনস। তবে ১২তম ওভারে এসেক্সের স্কোর যখন ৮৩, তখন উইকেটরক্ষক লরেন উইনফিল্ড-হিলের একটি দুর্দান্ত ক্যাচ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। রিয়া ফ্যাকরেলের বলে স্ক্রাইভেনসের ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে যাওয়া নিচু ক্যাচটি অসাধারণ দক্ষতায় তালুবন্দী করেন অধিনায়ক উইনফিল্ড-হিল। ৫৩ রান করে স্ক্রাইভেনস বিদায় নিলে এসেক্সের রানের গতি কিছুটা থমকে যায়।
৮৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর এসেক্সের বড় সংগ্রহের আশা ধাক্কা খায় যখন জোয়ান গার্ডনার মাত্র ১ রান করে ম্যাডি ওয়ার্ডের বলে আমি ক্যাম্পবেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ইয়র্কশায়ারের ফিল্ডাররা তখন দারুণ উজ্জীবিত। ফ্লোরেন্স মিলার একটি ঝুঁকিপূর্ণ রান নিতে গিয়ে ক্যাম্পবেলের সরাসরি থ্রোতে ব্যক্তিগত ২ রানে রান আউট হয়ে যান। একের পর এক উইকেট হারিয়ে এসেক্স যখন কাঁপছিল, তখন সোফিয়া স্মেল এসে দলকে কিছুটা স্বস্তি দেন। ১৬তম ওভারে গার্টনের বলে দুটি বাউন্ডারি মেরে রানের গতি সচল রাখেন তিনি। তবে অন্য প্রান্তে ২৫ রান করা জোডি গ্রিউকক, ইনেস ব্ল্যাকওয়েলের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলে আবারও ধাক্কা খায় তারা। শেষ ওভারে অভিজ্ঞ জেস জোনাসেন স্মেলকে (২১ রান) এলবিডব্লিউ করে এসেক্সকে ১৪৬ রানে আটকে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করেন。
ইয়র্কশায়ারের তাড়া ও স্ক্রাইভেনসের অলরাউন্ড জাদু
১৪৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ইয়র্কশায়ারের প্রয়োজন ছিল একটি ভালো শুরুর। অধিনায়ক লরেন উইনফিল্ড-হিল এবং এরিন থমাস শুরুটাও করেছিলেন ঝোড়ো গতিতে। উদ্বোধনী জুটিতে ২৫ রান যোগ করার পর থমাস (১৭) সোফিয়া স্মেলের বলে ম্যাকলিওডের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। দলের সেরা দুই ব্যাটার ক্রিজে থাকায় ইয়র্কশায়ার ভক্তদের আশা তখনও বেঁচে ছিল। কিন্তু উইনফিল্ড-হিল ১৮ রান করে স্ক্রাইভেনসের একটি নিচু হয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে গেলে বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা।
এরপর জেস জোনাসেন এবং স্টেরে কালিসের ওপর দলের দায়িত্ব বর্তায়। তবে জোনাসেন বেশি দূর এগোতে পারেননি। দলীয় ৬৬ রানের মাথায় তাকে ১০ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন স্ক্রাইভেনস। চতুর্থ উইকেটের জুটিটি ইয়র্কশায়ারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু কালিস (২৩) স্ক্রাইভেনসের হাতে ক্যাচ দিয়ে স্মেলের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হলে তাদের জয়ের পথ কঠিন হয়ে পড়ে। ম্যাডি ওয়ার্ড ১৯ রান করে দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় আউট হন, যখন দলের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪৩ রান।
শেষ ওভারের চরম নাটকীয়তা এবং এসেক্সের জয়োৎসব
এক পর্যায়ে ইয়র্কশায়ারের জয়ের জন্য শেষ ৩ ওভারে ২৬ রান এবং পরে ২ ওভারে ১৪ রানের প্রয়োজন ছিল। ম্যাচের পেনাল্টিমেট বা শেষ ওভারের আগের ওভারে বল করতে আসেন ইভা গ্রে। প্রথম বলেই তিনি বিপজ্জনক আমি ক্যাম্পবেলকে (২১) সাজঘরে ফেরত পাঠান। দুই বল পর ল্যাংস্টনকেও আউট করে ম্যাচ এসেক্সের দিকে ঘুরিয়ে দেন গ্রে। শেষ ওভারে ইয়র্কশায়ারের প্রয়োজন ছিল ৯ রান। ওভারের দ্বিতীয় বলেই রান আউট হয়ে যান এক ব্যাটার। পরের বলেই রিয়া ফ্যাকরেল একটি চার মেরে আশা জাগালেও, তার পরের ডেলিভারিতেই তিনি স্টাম্পড হয়ে যান। ফলে মাত্র ১৪৩ রানে অলআউট হয়ে যায় ইয়র্কশায়ার এবং এসেক্স ৩ রানের এক অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করে। এসেক্সের পক্ষে ইভা গ্রে ২৫ রানে ৩টি উইকেট নেন।
ম্যাচের বিশ্লেষণ ও দুই দলের ভবিষ্যৎ
এই জয়টি এসেক্সের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক এবং এটি তাদের টুর্নামেন্টে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। গ্রেস স্ক্রাইভেনসের ব্যাটিং এবং বোলিং উভয় বিভাগেই চমৎকার পারফরম্যান্স এবং শেষ মুহূর্তে বোলারদের মাথা ঠান্ডা রেখে বল করার দক্ষতাই এসেক্সকে এই শ্বাসরুদ্ধকর জয় এনে দিয়েছে। অন্যদিকে, ইয়র্কশায়ারের জন্য এটি অত্যন্ত হতাশাজনক একটি ম্যাচ ছিল। ফিল্ডিংয়ের কিছু ভুল এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারানোর খেসারত দিতে হলো তাদের। চার ম্যাচের সবকটিতে হেরে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই এখন তাদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াল।
