Bangladesh Emerging team beat Zimbabwe A by 85 runs
বগুড়ায় জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের দাপুটে জয়
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল তাদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়ে ৮৫ রানের এক বড় ব্যবধানে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলকে পরাজিত করেছে। ব্যাটিং এবং বোলিং—উভয় বিভাগেই স্বাগতিকদের প্রাধান্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
ব্যাটিংয়ে রানের পাহাড়
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরুতেই শাহাদাত হোসেন দিপুর উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও সেই চাপ দীর্ঘস্থায়ী হতে দেননি অধিনায়ক জাকির হাসান এবং ইফতেখার হোসেন ইফতি। তাদের দুর্দান্ত জুটি ম্যাচের মোমেন্টাম বাংলাদেশের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। জাকির হাসান ৯৭ বলে ১১৯ রানের এক ঝকঝকে ইনিংস খেলেন, যা ছিল ইনিংসের মূল ভিত্তি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন ইফতেখার, যিনি ৫৮ বলে ৭০ রান করেন।
মাঝের ওভারে আমিতে হাসান (৩১), ইয়াসির আলি (৩৪) এবং আকবর আলি (২৭) ছোট ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস খেলে স্কোরবোর্ডকে সমৃদ্ধ করেন। শেষদিকে সামিউন বসির রাতুলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ১১ বলে অপরাজিত ২১ রান দলের সংগ্রহকে বড় করতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত খাত থেকে আসা ৩৪ রান সহ নির্ধারিত ৫০ ওভারে বাংলাদেশ ৩টি উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ৩৬৪ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ।
জিম্বাবুয়ের লড়াই ও বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ
৩৬৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল শুরুটা মন্দ করেনি। ওপেনার ইনোসেন্ট কাইয়া (২৬) এবং ম্যাথিউ ক্যাম্পবেল (৫২) দলকে একটি ভিত গড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে তারা চাপে পড়ে যায়।
ওয়েসলি মাধভেরে একপ্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত লড়াই করেন। তিনি ৯৩ বলে ১১৬ রানের একটি সাহসী ইনিংস খেলেন। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ায় তার এই সেঞ্চুরিও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারেনি। রায়ান বার্লের ২০ রান ছাড়া আর কেউ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি। মাত্র ১১৬ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর জিম্বাবুয়ে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
বোলিংয়ে উজ্জ্বল সামিউন ও রোহানাত
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সামিউন বসির রাতুল এবং রোহানাত দৌলা বর্ষণ দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। সামিউন ১০ ওভারে ৫২ রান খরচ করে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন, যার মধ্যে কাইয়া এবং রায়ান বার্লের উইকেট উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে বর্ষণ ১০ ওভারে ৭২ রান দিয়ে সমান ৩টি উইকেট শিকার করেন।
শেষ পর্যন্ত মাধভেরের উইকেট পতনের সাথে সাথে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ইতি ঘটে। ৪৮.৫ ওভারে ২৭৯ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। দলের এই জয় কেবল জয়ই নয়, বরং আসন্ন সিরিজগুলোর জন্য আত্মবিশ্বাসের বড় রসদ যোগাবে। জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে এই জয় বাংলাদেশের উদীয়মান ক্রিকেটারদের সক্ষমতার একটি বড় প্রমাণ।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফলাফল
- বাংলাদেশ ইমার্জিং দল: ৩৬৪/১০ (৫০ ওভার)
- জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল: ২৭৯/১০ (৪৮.৫ ওভার)
- ফলাফল: বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ৮৫ রানে জয়ী।
এই জয় তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য একটি উজ্জ্বল নজির হয়ে থাকবে। ধারাবাহিকভাবে এমন পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারলে আগামীতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের পাইপলাইন আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা যায়।
