Hasan, Tye fireworks deny Derbyshire as Yorkshire go two from two – হাসান ও টাইয়ের অবিশ্বাস্য ব্যাটিং তাণ্ডব, ডার্বিশায়ারকে হারিয়ে ইয়র্কশায়ারের রোমাঞ্চকর জয়
হেডিংলিতে রূপকথার জয় ইয়র্কশায়ারের
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে এর অনিশ্চয়তায়। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকে। ভাইটালিটি ব্লাস্টে হেডিংলির মাঠে ডার্বিশায়ার বনাম ইয়র্কশায়ারের ম্যাচটি তেমনই এক অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চের জন্ম দিল। একপর্যায়ে যখন মনে হচ্ছিল ইয়র্কশায়ারের হার কেবল সময়ের ব্যাপার, তখনই দৃশ্যপটে হাজির হলেন দুই বোলার—হাসান আলী ও অ্যান্ড্রু টাই। তবে বল হাতে নয়, এবার ব্যাট হাতে রুদ্রমূর্তি ধারণ করলেন তারা। এই দুজনের শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য ব্যাটিং তাণ্ডবে ডার্বিশায়ারের হাত থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল ইয়র্কশায়ার।
ডার্বিশায়ারের চ্যালেঞ্জিং স্কোর ও অ্যান্ডারসনের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস
ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ডার্বিশায়ার। পাওয়ারপ্লেতে তারা বেশ আক্রমণাত্মক শুরু করে। তবে দলীয় ৫৭ রানের মাথায় প্রথম ধাক্কা খায় তারা, যখন অ্যানুরিন ডোনাল্ডকে (১০) অ্যান্ড্রু টাইয়ের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান পাকিস্তানি পেসার হাসান আলী। পাওয়ারপ্লের ঠিক পরেই ডার্বিশায়ারের ইনিংসে কিছুটা ধস নামে। সপ্তম ওভারে ক্যালেব জুয়েল ২০ রান করে রিভিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন টাইয়ের বলে। এর মাত্র পাঁচ বল পরেই অভিজ্ঞ ওয়েইন ম্যাডসেনকে মাত্র ২ রানে ফিরিয়ে দেন ম্যাথিউ রিভিস। ডার্বিশায়ারের স্কোর তখন ৩ উইকেটে ৬৩ রান।
তবে এই বিপর্যয় কাটিয়ে দলকে টেনে তোলেন মার্টিন অ্যান্ডারসন ও ম্যাথিউ মন্টগোমারি। ইয়র্কশায়ারের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে তারা রানের গতি সচল রাখেন। মাত্র ১২তম ওভারেই ডার্বিশায়ারের দলীয় শতরান পূর্ণ হয়। অ্যান্ডারসন মাত্র ৩৬ বলে নিজের অর্ধশতক তুলে নেন, যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস। ইনিংসের বাকি ৫ ওভার যখন বাকি, তখন ডার্বিশায়ারের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ১৩১ রান। এই জুটির ৭৩ রানের দুর্দান্ত পার্টনারশিপ ভাঙেন জাফর চৌহান, যখন তিনি ৩৫ রান করা মন্টগোমারিকে বোল্ড করেন। তবে আউট হওয়ার আগে এই জুটি ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ডার্বিশায়ারের চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড গড়ে যান।
মন্টগোমারি বিদায় নেওয়ার পর ক্রিজে আসেন রস হোয়াইটলি। শেষ ওভারে তিনি অ্যান্ড্রু টাইয়ের ওপর চড়াও হয়ে দুটি বিশাল ছক্কা হাঁকান। শেষ ওভার থেকে আসে ২৪ রান, যার ফলে ডার্বিশায়ারের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৯৪ রান। অ্যান্ডারসন ৮১ রানে অপরাজিত থাকেন। ইয়র্কশায়ারের পক্ষে চারজন বোলার একটি করে উইকেট নেন, যার মধ্যে স্পিনার জাফর চৌহান ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন।
ইয়র্কশায়ারের ঝড়ো শুরু ও ব্যাটিং বিপর্যয়
১৯৫ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইয়র্কশায়ারের শুরুটা হয়েছিল ঝড়ের বেগে। ওপেনার অ্যাডাম লিথ মাত্র ১১ বলে ৩১ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল তিনটি ছক্কা ও দুটি চার। তবে তৃতীয় ওভারে আকিফ জাভেদের বলে মন্টগোমারির হাতে ধরা পড়েন তিনি। এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ইয়র্কশায়ারের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান স্পিনার জ্যাক মরলি। জনি বেয়ারস্টোকে মাত্র ৮ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। পাওয়ারপ্লের ঠিক শেষ মুহূর্তে জেমস ওয়ার্টন ৫ রান করে মরলির হাতেই ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলে6 ওভার শেষে ইয়র্কশায়ারের স্কোর দাঁড়ায় ৫২ রানে ৩ উইকেট।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে ক্রিজে এসে দলের হাল ধরেন মঈন আলী। তিনি মরলির এক ওভারে দুটি ছক্কা মেরে রান তোলার গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু অন্য প্রান্তে উইকেট পতনের ধারা অব্যাহত ছিল। উইল লাক্সটনকে ৫ রানে বোল্ড করেন মরলি। ১০ ওভার শেষে ইয়র্কশায়ারের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১০ রান। কিন্তু মরলির স্পিন ঘূর্ণি থামানো যাচ্ছিল না। তিনি ম্যাথিউ রিভিসকে ১৩ রানে আউট করার পর জর্জ হিলকে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরান। একপ্রান্তে উইকেট পড়তে থাকলেও মঈন আলী তার স্বভাবসুলভ ব্যাটিং চালিয়ে যান এবং মাত্র ৩৩ বলে ৫টি ছক্কার সাহায্যে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। কিন্তু ফিফটি ছোঁয়ার পরপরই নিক পটসকে ওড়াতে গিয়ে সীমানায় অমৃত বসরার হাতে ধরা পড়েন মঈন।
হাসান আলী ও অ্যান্ড্রু টাইয়ের অবিশ্বাস্য রূপকথা
মঈন আলী যখন আউট হন, তখন ইয়র্কশায়ারের স্কোর ছিল ৭ উইকেটে ১৩৩ রান। জয়ের জন্য শেষ ৫ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৬২ রান। এর কিছুক্ষণ পরেই ডম বেসকে আউট করে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন জ্যাক মরলি। ইয়র্কশায়ারের স্কোর তখন ৮ উইকেটে ১৩৯ রান, জয়ের জন্য তখনও প্রয়োজন ২৭ বলে ৫৬ রান। মাঠে তখন ইয়র্কশায়ারের শেষ স্বীকৃত জুটি, যা মূলত বোলার হিসেবেই পরিচিত—হাসান আলী এবং অ্যান্ড্রু টাই।
সবাই যখন ধরে নিয়েছিল ডার্বিশায়ারের জয় নিশ্চিত, তখনই শুরু হলো আসল নাটক। হাসান আলী ও অ্যান্ড্রু টাই ডার্বিশায়ারের বোলারদের ওপর অমানুষিক আক্রমণ শুরু করেন। টাই মাত্র ১৩ বলে ৩২ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল মাঠের চারপাশে ছক্কার প্রদর্শনী। অন্য প্রান্তে হাসান আলীও কম যাননি। তিনি মাত্র ১৩ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন। এই দুই বোলারের অনবদ্য ব্যাটিং নৈপুণ্যে শেষ ৩ ওভারে প্রয়োজনীয় ৩২ রান খুব সহজেই তুলে নেয় ইয়র্কশায়ার। ৪ বল বাকি থাকতেই নাটকীয়ভাবে ৮ উইকেটের অবিস্মরণীয় জয় নিশ্চিত করে তারা।
ম্যাচের সারসংক্ষেপ ও পরবর্তী ভাবনা
ডার্বিশায়ারের পক্ষে জ্যাক মরলি ৪৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করলেও শেষ পর্যন্ত দলের পরাজয় আটকাতে পারেননি। অন্যদিকে, ইয়র্কশায়ার এই অভাবনীয় জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে নিজেদের টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল। বল হাতে উইকেট পাওয়ার পর ব্যাট হাতে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলে হাসান আলী ও অ্যান্ড্রু টাই ক্রিকেট প্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছেন। এই জয়টি ইয়র্কশায়ারকে টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য দারুণ আত্মবিশ্বাস জোগাবে, তা বলাই বাহুল্য।
