Report

Mahmud six sets up Kent for three-day win over Lancashire: হাসানের রেকর্ড বোলিংয়ে জয়ী কেন্ট

Farhan Malik · · 1 min read

অভিষেক ম্যাচেই হাসান মাহমুদের বিশ্বমানের বোলিং প্রদর্শন

কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে নিজের অভিষেক ম্যাচটিকে চিরস্মরণীয় করে রাখলেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ। ব্ল্যাকপুলের লড়াকু পিচে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে কেন্টের হয়ে বল হাতে রীতিমতো আগুন ঝরিয়েছেন তিনি। কেন্টের দেওয়া ৪২৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ল্যাঙ্কাশায়ারের দ্বিতীয় ইনিংস মাত্র ২৮৩ রানে থমকে যায়। হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং স্পেলের ওপর ভর করে কেন্ট ১৪০ রানের এক দাপুটে জয় তুলে নেয় মাত্র তিন দিনের মাথায়। Mahmud six sets up Kent for three-day win over Lancashire – এই ঐতিহাসিক জয়ে হাসান মাহমুদ দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রান খরচায় ৬ উইকেট এবং ম্যাচে মোট ১০১ রানে ৯ উইকেট শিকার করে কেন্টের জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন।

ম্যাচের প্রেক্ষাপট এবং প্রথম ইনিংসের চিত্র

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গিয়েছিল। কেন্ট টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং বেন ডকিন্সের ৫৪ রানের ওপর ভর করে ১৭৮ রান সংগ্রহ করে। ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে লিয়াম লিভিংস্টোন ৫৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে কেন্টকে অল্পতেই আটকে দিয়েছিলেন। তবে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং বিপর্যয় তাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। কেন্টের বোলার ডাজেনের মারাত্মক বোলিংয়ের (৬-২১) সামনে মাত্র ৮৭ রানেই গুটিয়ে যায় ল্যাঙ্কাশায়ারের ইনিংস। প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদও দুর্দান্ত বোলিং করে ৩২ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। প্রথম ইনিংসেই কেন্ট ৯১ রানের এক বিশাল লিড পেয়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।

দ্বিতীয় ইনিংসে কেন্টের লড়াকু ব্যাটিং ও বিশাল টার্গেট

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে কেন্ট এক বিশাল সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যায়। ক্রিস বেঞ্চল্যমিনের লড়াকু ১০৩ রান এবং হ্যারি ফিঞ্চের ৮৩ রানের দুর্দান্ত দুটি ইনিংসের ওপর ভর করে কেন্ট দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৩২ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে কিংবদন্তি পেসার জেমস অ্যান্ডারসন ৪৫ রানে ৩ উইকেট এবং জর্জ বল্ডারসন ৬৫ রানে ৩ উইকেট নেন। তৃতীয় দিনের সকালে অ্যান্ডারসন ও বেইলি কেন্টের শেষ দুটি উইকেট দ্রুত তুলে নিলেও ল্যাঙ্কাশায়ারের সামনে জয়ের জন্য পাহাড়সম ৪২৪ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। কাউন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এত বড় রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই বললেই চলে, তবে ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটাররা হাল ছাড়তে রাজি ছিলেন না।

ল্যাঙ্কাশায়ারের লড়াই এবং জেনিংস-হ্যারিস জুটি

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ল্যাঙ্কাশায়ার প্রথম ইনিংসের তুলনায় অনেক বেশি গোছানো ব্যাটিং শুরু করে। তবে ওপেনার হ্যারি সিংকে ১৫ রানে ফিরিয়ে কেন্টকে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দেন হাসান মাহমুদ। বেন ডকিন্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন হ্যারি। এরপর জশ বোহানন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করলেও ২৬ রানে তাকে স্যাম নর্থইস্টের ক্যাচে পরিণত করে সাজঘরের পথ দেখান হাসান মাহমুদ। মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পর্যন্ত ল্যাঙ্কাশায়ার ৮৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে লড়াইয়ে টিকে ছিল। বিরতির পর কিটন জেনিংস ও মার্কাস হ্যারিস দুর্দান্ত এক জুটি গড়ে তোলেন। এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার কেন্টের স্পিনারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলেন এবং তৃতীয় উইকেটে ১০৪ রানের একটি অসাধারণ পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। জেনিংস ও হ্যারিস দুজনেই তাদের হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং ল্যাঙ্কাশায়ার সমর্থকদের মনে জয়ের আশা জাগিয়ে তোলেন।

হাসান মাহমুদের ম্যাজিক স্পেল ও ল্যাঙ্কাশায়ারের পতন

যখনই ম্যাচটি কেন্টের হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, তখনই আবারও কেন্টের ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন হাসান মাহমুদ। ব্যক্তিগত ৬১ রানে থাকা কিটন জেনিংসকে লেগ সাইডে উইকেটকিপার ক্রিস বেঞ্জামিনের ক্যাচে পরিণত করে এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন হাসান। এর ঠিক দুই বল পরেই বেন ম্যাকডারমট কোনো রান না করেই রানআউটের শিকার হন। স্যাম নর্থইস্টের একটি নিখুঁত থ্রোতে উইকেটকিপার বেল ফেলে দিলে শূন্য রানেই বিদায় নিতে হয় ম্যাকডারমটকে। এই জোড়া ধাক্কার পর ল্যাঙ্কাশায়ারের স্কোর দাঁড়ায় ১৬২ রানে ৪ উইকেট। চা-বিরতি পর্যন্ত লিয়াম লিভিংস্টোন ও হ্যারিস মিলে আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি। চা-বিরতির পর লিভিংস্টোন ৪৭ রানে খেলছিলেন, ঠিক তখনই তাকে ইনসাইড এজের ফাঁদে ফেলে বোল্ড করেন হাসান মাহমুদ। পরের বলেই জো মুরসকে শূন্য রানে আউট করে ম্যাচে নিজের ৫ উইকেট পূর্ণ করেন এই বাংলাদেশি পেসার।

কেন্টের জয় নিশ্চিতকরণ এবং ম্যাচের সমাপ্তি

৫ উইকেট নেওয়ার পরও হাসান মাহমুদের উইকেটের ক্ষুধা মেটেনি। জর্জ বল্ডারসনকে মাত্র ৪ রানে তৃতীয় স্লিপে হ্যারি ফিঞ্চের ক্যাচে পরিণত করে নিজের ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন তিনি। এটি ছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে হাসানের চতুর্থবারের মতো ৫ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি। এরপর কেন্টের স্পিনাররা ম্যাচের বাকি কাজটুকু সম্পন্ন করেন। টম বেইলিকে শূন্য রানে বোল্ড করেন বার্টি ফোরম্যান। টম অ্যাস্পিনওয়াল ১৪ রান করে ম্যাট পার্কিনসনের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন। শেষ উইকেটে জেমস অ্যান্ডারসনকে নিজের ফিরতি ক্যাচে পরিণত করে কেন্টের স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেন ফোরম্যান। অন্য প্রান্তে মার্কাস হ্যারিস ৯১ রানে অপরাজিত থেকে কেবল সতীর্থদের বিদায়ই প্রত্যক্ষ করেন। কেন্ট এই জয়ের মাধ্যমে মূল্যবান ১৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে, যেখানে ল্যাঙ্কাশায়ারকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে মাত্র ৩ পয়েন্ট নিয়ে। হাসানের এই অবিস্মরণীয় অভিষেক স্পেলটি কেন্টের ক্রিকেট ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

Avatar photo
Farhan Malik

Farhan Malik writes tactical T20 cricket analysis with a focus on momentum shifts, batting strategies, and death-over performance.