Holder completes heist for West Indies after Joseph picks up five
একটি অবিস্মরণীয় জয়ের গল্প
ক্রিকেট মাঠে নাটকীয়তার শেষ নেই, তবে সাবিনা পার্কের রোববারের ম্যাচটি সমর্থকদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এক সময় ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপ জয় করে অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নেয় ক্যারিবীয়রা। এই ম্যাচে Holder completes heist for West Indies after Joseph picks up five শিরোনামে যা ঘটেছে, তা যেকোনো ক্রিকেটপ্রেমীর জন্য এক দারুণ অভিজ্ঞতা।
শমার জোসেফের বোলিং তোপ
শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপকে শুরু থেকেই চাপে রেখেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা। দলের মূল ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন শমার জোসেফ। তিনি তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার ৫-৩৩ তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংসকে ১৬৯ রানে গুটিয়ে দেন। বিশেষ করে ইনিংসের পাওয়ারপ্লের শেষ ওভার এবং ইনিংসের শেষ ওভারে তার বোলিং ছিল অসাধারণ। দুনিথ ভেল্লালাগের ৪৩ রানের ইনিংসটি শ্রীলঙ্কাকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিলেও জোসেফের তোপের সামনে শেষ পর্যন্ত তারা বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেনি।
লক্ষ্য তাড়া ও হোল্ডারের বীরত্ব
১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুতেই বিপদে পড়ে। অধিনায়ক শাই হোপ ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই সাজঘরে ফেরেন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এক সময় বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার ঘূর্ণি জাদুর সামনে ক্যারিবীয় ব্যাটাররা অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। তবে শেরফেন রাদারফোর্ড এবং রোভম্যান পাওয়েলের জুটি ম্যাচে প্রাণ ফেরায়। রাদারফোর্ড অপরাজিত ৫৪ রান এবং পাওয়েল ৩৩ রান করে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন।
শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা
ম্যাচের শেষ দিকে যখন জয় অসম্ভব মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন জেসন হোল্ডার। দীর্ঘ বিরতির পর দলে ফিরে তিনি ব্যাট হাতে যে তাণ্ডব চালিয়েছেন, তা ছিল দেখার মতো। মাত্র ৫ বলে ২১ রান করে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় নিশ্চিত করেন। হাতে মাত্র দুই বল বাকি থাকতে এই জয় ক্যারিবীয় শিবিরে আনন্দের বন্যা বইয়ে দেয়।
শ্রীলঙ্কার হতাশাজনক হার
এই হারের ফলে শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘ হলো। মহেশ থিকসানা এবং ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার মতো স্পিনাররা বল হাতে ভালো করলেও, শেষ রক্ষা হয়নি। কৌশলগত দিক থেকে শ্রীলঙ্কা ভালো পরিকল্পনা সাজালেও, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়দের স্নায়বিক দৃঢ়তা ও পাওয়ার হিটিংয়ের কাছে তাদের হার মানতে হয়।
- শমার জোসেফ: ৫ উইকেট (ক্যারিয়ার সেরা)
- শেরফেন রাদারফোর্ড: অপরাজিত ৫৪ রান
- জেসন হোল্ডার: শেষ ওভারে ২০+ রান করে জয় নিশ্চিত
এই ম্যাচটি আবারও প্রমাণ করল যে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলে যেকোনো সমীকরণ মেলানো সম্ভব। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই জয় কেবল একটি সিরিজ জয় নয়, বরং চাপের মুখে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয় তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
