Usama Mir helps Worcestershire claim midlands bragging rights – ভাইটালিটি ব্লাস্ট: ওয়ারউইকশায়ারকে হারিয়ে ওয়ারচেস্টারশায়ারের দাপুটে জয়
ওয়ারচেস্টারশায়ারের দাপুটে পারফরম্যান্স
ভাইটালিটি ব্লাস্টের হাই-ভোল্টেজ ডার্বি ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ওয়ারউইকশায়ার বিয়ার্সকে পাত্তাই দিল না ওয়ারচেস্টারশায়ার র্যাপিডস। নিউ রোডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ওয়ারচেস্টারশায়ার জয় পেয়েছে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে। এই পরাজয়ের ফলে টানা তিনটি ম্যাচে হারের মুখ দেখল ওয়ারউইকশায়ার, যা তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্নকে কঠিন করে তুলেছে।
বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দিশেহারা বিয়ার্স
টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া ওয়ারচেস্টারশায়ারের বোলাররা শুরু থেকেই ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ইনিংসের প্রথম বলেই টম টেলর বোল্ড করেন অ্যালেক্স ডেভিসকে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বিয়ার্স। দলের হয়ে রব ইয়েটস ৪৫ রান এবং জর্ডান থম্পসন ৩৭ রান করলেও দলের বাকি ব্যাটাররা সুবিধা করতে পারেননি। ১৯.৫ ওভারে মাত্র ১৪১ রানেই অলআউট হয়ে যায় ওয়ারউইকশায়ার। ওয়ারচেস্টারশায়ারের বোলারদের মধ্যে ওসামা মির ৩টি এবং টম টেলর ২টি উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। ফিল্ডিংয়েও র্যাপিডস ছিল বেশ তৎপর, যা বিয়ার্সকে বড় সংগ্রহের পথে এগোতে দেয়নি।
রান তাড়া করতে নেমে র্যাপিডদের বুদ্ধিমত্তার পরিচয়
১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়ারচেস্টারশায়ার শুরু থেকেই ছিল বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে। পাওয়ার প্লে চলাকালীন একটি উইকেট হারালেও দলের ব্যাটাররা ছিলেন বেশ শান্ত। ব্রেট ডি’অলিভিয়া আউট হওয়ার পর কাশিপ আলী এবং অ্যাডাম হোস দারুণ বোঝাপড়ায় ৪৭ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। কাশিপ আলী ৩০ বলে ৩৬ রান করে জয়ের ভিত গড়ে দেন। শেষদিকে সিকান্দার রাজা এবং ইথান ব্রুকসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৭ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ওয়ারচেস্টারশায়ার। ৪ উইকেটে ১৪২ রান তুলে তারা মাঠ ছাড়ে।
পয়েন্ট টেবিলে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই জয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান বেশ ভালো জায়গায় নিয়ে গেল ওয়ারচেস্টারশায়ার। প্রথম তিন ম্যাচের দুটিতেই জয় পেয়েছে তারা। অন্যদিকে, ওয়ারউইকশায়ারের জন্য পরিস্থিতি এখন বেশ উদ্বেগজনক। টানা তিন হারে তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলো এখন কার্যত ‘মাস্ট উইন’ বা জয় ছাড়া উপায় নেই এমন অবস্থায় দাঁড়িয়ে। আগামী রোববারে নর্দাম্পটনশায়ার স্টিলব্যাকসের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য ডু-অর-ডাই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ম্যাচের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান
- ওয়ারচেস্টারশায়ার র্যাপিডস: ১৪২/৪ (কাশিপ আলী ৩৬, অ্যাডাম হোস ২৪)
- ওয়ারউইকশায়ার বিয়ার্স: ১৪১ অলআউট (রব ইয়েটস ৪৫, জর্ডান থম্পসন ৩৭; ওসামা মির ৩/২৭, টম টেলর ২/১৭)
নিউ রোডে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক দর্শক র্যাপিডদের এই জয় উপভোগ করেছেন। দলের টপ অর্ডারের চার ব্যাটারই ২০ রানের কোটা পার করায় কোনো একক ব্যাটারের ওপর চাপ পড়েনি, যা ছিল দলের জয়ের অন্যতম মূল কারণ। ওসামা মিরের ঘূর্ণি জাদুতে বিয়ার্সের ইনিংস ধসে পড়ার পর থেকে ওয়ারচেস্টারশায়ার আর পিছু ফিরে তাকায়নি। এই জয়টি তাদের আত্মবিশ্বাস আগামী ম্যাচগুলোতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
