ভাইটালিটি ব্লাস্ট: লিসেস্টারশায়ার ফক্সেসকে হারিয়ে শুভসূচনা উস্টারশায়ার র্যাপিডস-এর
ভাইটালিটি ব্লাস্টে উস্টারশায়ার র্যাপিডস-এর দুর্দান্ত জয়
ভাইটালিটি ব্লাস্টের এবারের আসরের উদ্বোধনী ম্যাচটি ছিল বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। আপটনস্টিল গ্রেস রোডে লিসেস্টারশায়ার ফক্সেসের বিপক্ষে ১৮ রানের জয় তুলে নিয়েছে উস্টারশায়ার র্যাপিডস। ব্যাট ও বল—উভয় ক্ষেত্রেই সম্মিলিত প্রচেষ্টার ছাপ রেখে টুর্নামেন্টে নিজেদের যাত্রা শুরু করল সফরকারীরা। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় উস্টারশায়ার র্যাপিডস এবং নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৮৮ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা।
ব্যাটিংয়ে ছোট ছোট ক্যামিওতে বড় সংগ্রহ
উস্টারশায়ার র্যাপিডসের ইনিংসটি ছিল মূলত ছোট ছোট কার্যকরী অবদানের সমষ্টি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ রান আসে ইসাক মোহাম্মদের ব্যাট থেকে। তিনি ২৬ বল মোকাবেলা করে এই রান সংগ্রহ করেন, যা তার ক্যারিয়ারের সেরা টি-টোয়েন্টি স্কোর। ইনিংসের শুরুটা ভালো করেছিলেন ব্রেট ডি’অলিভেরা, যিনি ২৩ বলে ৪৩ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন। মোহাম্মদ ৬টি চার এবং ২টি ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন। তবে পাওয়ারপ্লের শেষ বলে জশ ডেভির বলে মিড-অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
এরপর কাশেফ আলি এবং অ্যাডাম হোস চেষ্টা করলেও বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। তবে শেষ দিকে ইথান ব্রুকস এবং অভিষিক্ত সিকান্দার রাজা ৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের সংগ্রহকে শক্তিশালী করেন। উসামা মির তার প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে লিসেস্টারশায়ারের বোলারদের বিপক্ষে উস্টারশায়ার র্যাপিডস নিয়মিত বিরতিতে বাউন্ডারি আদায় করে নিতে সক্ষম হয়। জশ ডেভি লিসেস্টারশায়ারের পক্ষে ৩২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সফল বোলার ছিলেন।
লিসেস্টারশায়ারের হতাশাজনক শুরু ও অসম্পূর্ণ লড়াই
১৮৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে লিসেস্টারশায়ার ফক্সেসের শুরুটা ছিল অত্যন্ত ধীরগতির। প্রথম ৫ ওভারে মাত্র ৩০ রান তুলতেই তারা হারিয়ে ফেলে স্টিভ এস্টিনাজিকে। টম টেলরের বলে মিডল স্টাম্প হারিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। ষষ্ঠ ওভারে অ্যাডাম ফিঞ্চের দুর্দান্ত বোলিংয়ে চাপের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। সল বুডিংগার এবং ঋষি প্যাটেল দুজনেই ডি’অলিভেরার হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। দশ বলের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩২ রানে ৩ উইকেটে পরিণত হওয়া ফক্সেস এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
নিক কেলি এবং বেন কক্স জুটি বেঁধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কেলি ৪২ বলে অপরাজিত ৬১ এবং কক্স ৩২ বলে অপরাজিত ৫১ রান করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষের দিকে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান রেট অনেক বেড়ে গিয়েছিল। শেষ তিন ওভারে জয়ের জন্য ৫৯ রান প্রয়োজন ছিল, যা এই পিচে বেশ কঠিন ছিল। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত লিসেস্টারশায়ার ১৭০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তাদের ইনিংস থামায়।
উপসংহার
লিসেস্টারশায়ারের পক্ষে কেলি এবং কক্সের ব্যাটিং প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় হলেও উস্টারশায়ার র্যাপিডস-এর বোলাররা তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করে গেছেন। ম্যাচটিতে জয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল দলের প্রতিটি ক্রিকেটারের ছোট ছোট অবদান। ব্যাটিংয়ে যেমন ইসাক মোহাম্মদ বা ডি’অলিভেরা দলকে এগিয়ে নিয়েছেন, তেমনি বোলিংয়ে উস্টারশায়ারের বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে লিসেস্টারশায়ারকে চাপে রেখেছিলেন। প্রথম ম্যাচেই জয় পেয়ে পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান মজবুত করল র্যাপিডস। এবারের ভাইটালিটি ব্লাস্টে উস্টারশায়ার র্যাপিডস যে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই এসেছে, তা তাদের এই পারফরম্যান্স থেকেই স্পষ্ট।
