Understrength Surrey maintain 100% win record
হেডলিতে সারের দুর্দান্ত জয়
উইমেন্স ভাইটালিটি ব্লাস্টের গ্রুপ ম্যাচে ইয়র্কশায়ারকে চার উইকেটে হারিয়ে সারে তাদের মৌসুমের দুর্দান্ত সূচনা ধরে রেখেছে। হেডলিতে অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে সারে কিছুটা দুর্বল দল নিয়ে মাঠে নামলেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার জয় হয়েছে। ১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক সময় সারে ৮৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। তবে অ্যালিস মোনাগান এবং জেমিমা স্পেন্সের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তারা লক্ষ্য স্পর্শ করে ফেলে।
বোলারদের আধিপত্য ও ইয়র্কশায়ারের ব্যাটিং বিপর্যয়
ম্যাচের শুরুতে ইয়র্কশায়ার ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত সূচনা পেয়েছিল। তাদের অধিনায়ক লরেন উইনফিল্ড-হিল এবং এরিন থমাস পাওয়ারপ্লেতে ৬০ রান সংগ্রহ করেন। এরিন থমাস ২৯ বলে ৪২ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তবে পাওয়ারপ্লের শেষ বলে উইনফিল্ড-হিল আউট হওয়ার পর থেকেই ইয়র্কশায়ারের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে।
সারের বোলার রাইয়ানা ম্যাকডোনাল্ড-গে এবং কালিয়া মুর দারুণ বোলিং করে ইয়র্কশায়ারকে ১৩৩ রানে অলআউট করে দেন। কালিয়া মুর মাত্র ২১ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট শিকার করেন। ইয়র্কশায়ারের শেষ ৯টি উইকেট মাত্র ৭৩ রান যোগ করতে সক্ষম হয়। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ হাতছাড়া করে।
সারের ব্যাটিংয়ে নাটকীয় মোড়
১৩৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সারের শুরুটা ছিল ঝোড়ো। ব্রায়োনি স্মিথ ইনিংসের প্রথম চার বলেই চারটি চার মেরে শুভসূচনা করেন। তবে জেসমিন জোনাসেন ইয়র্কশায়ারের হয়ে বল হাতে জ্বলে ওঠেন এবং দ্রুত সারের শীর্ষসারির ব্যাটারদের সাজঘরে পাঠান। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল সারের ১০০% জয়ের রেকর্ড বুঝি আজই ভেঙে যাবে।
জেস জোনাসেন ২৫ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে সারের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিলেন। তবে অ্যালিস মোনাগান এবং জেমিমা স্পেন্সের ধৈর্যশীল জুটি দলকে বিপদমুক্ত করে। তারা সপ্তম উইকেটে অপরাজিত ৪৫ রানের জুটি গড়ে দলকে জয় এনে দেন। মোনাগান ২৯ এবং স্পেন্স ২০ রান করে মাঠ ছাড়েন। ২৭ বল বাকি থাকতেই সারে কাঙ্ক্ষিত জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
ম্যাচের বিশ্লেষণ ও ফলাফল
ইয়র্কশায়ার বোলাররা প্রাণপণ চেষ্টা করলেও সারের নিচের সারির ব্যাটাররা অসাধারণ মানসিক শক্তির পরিচয় দিয়েছেন। এই জয় সারের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সারে আজকের ম্যাচে বেশ চাপে পড়েছিল, তবুও তারা প্রমাণ করেছে কেন তারা এই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট।
- সারসংক্ষেপ: সারে ১৩৪/৬ (মোনাগান ২৯*, জোনাসেন ৩-২৫) ইয়র্কশায়ার ১৩৩ অলআউট (থমাস ৪২, মুর ৩-২১)।
- ফলাফল: সারে ৪ উইকেটে জয়ী।
- ম্যান অব দ্য ম্যাচ: জেসমিন জোনাসেন (ইয়র্কশায়ার)।
এই জয়টি সারের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দলের মূল কয়েকজন খেলোয়াড় না থাকা সত্ত্বেও তারা বড় কোনো ভুল করেনি। নিয়মিত জয়ের ধারা বজায় রাখা তাদের টুর্নামেন্টের পরের ধাপগুলোর জন্য মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে। আগামী ম্যাচগুলোতে সারে তাদের এই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে শিরোপা ধরে রাখার পথ আরও সুগম হবে।
ইয়র্কশায়ারের সমর্থকদের জন্য অবশ্য হতাশার দিন ছিল, কারণ ভালো শুরু পাওয়ার পরেও তারা ম্যাচটি জিততে পারেনি। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা তাদের পরাজয়ের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। হেডলির উইকেটে রান তোলা সহজ হলেও সারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ইয়র্কশায়ারের ব্যাটাররা খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেননি। এখন দেখার পালা, সারে তাদের জয়ের এই ছন্দ পরবর্তী ম্যাচেও বজায় রাখতে পারে কি না।
