Tanzid, Dipu centuries power Prime Bank to 155-run DLS win over Brothers Union
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রাইম ব্যাংকের রাজকীয় জয়
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) বর্তমান ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব তাদের শক্তির জানান দিল আরও একবার। বিকেএসপি গ্রাউন্ড নম্বর ২-এ অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে প্রাইম ব্যাংক শুধু জয়ই পায়নি, বরং দাপট দেখিয়ে ১৫৫ রানের বিশাল ব্যবধানে (ডিএলএস পদ্ধতিতে) জয় তুলে নিয়েছে। এই জয়ের মূল কারিগর ছিলেন দলের দুই ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম এবং শাহাদাত হোসেন দিপু। তাদের জোড়া সেঞ্চুরি ব্রাদার্স ইউনিয়নের বোলারদের কার্যত কোণঠাসা করে ফেলেছিল।
তানজিদ ও দিপুর রেকর্ড জুটি
ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল টস জয়ের মাধ্যমে, যেখানে ব্রাদার্স ইউনিয়ন প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। প্রাইম ব্যাংকের দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং শাহাদাত হোসেন দিপু শুরু থেকেই ব্রাদার্স ইউনিয়নের বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরাতে থাকেন। তাদের দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠা ২১০ রানের উদ্বোধনী জুটিই ছিল ম্যাচের মূল টার্নিং পয়েন্ট।
তানজিদ হাসান তামিম মাত্র ৯৩ বলে ১১৯ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তার ব্যাটিংয়ের ধরণ ছিল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক। অন্যদিকে শাহাদাত হোসেন দিপু ১১১ বলে ১০৫ রানের এক পরিপক্ক ইনিংস উপহার দেন। দুই ওপেনারের এমন ব্যাটিং দৃঢ়তায় প্রাইম ব্যাংক বড় সংগ্রহের পথ খুঁজে পায়।
নির্ধারিত লক্ষ্য ও শেষ দিকের ঝোড়ো ব্যাটিং
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর প্রাইম ব্যাংকের রান তোলার গতি আরও বেড়ে যায়। শামিম হোসেন মাত্র ৩১ বলে ৫১ রান করে দলের স্কোরকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যান। এরপর অধিনায়ক আকবর আলী ২৪ বলে ৩৫ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে প্রাইম ব্যাংককে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৬৯ রানের বিশাল উচ্চতায় পৌঁছে দেন। ব্রাদার্স ইউনিয়নের পক্ষে বোলার হোসেন আলী কিছুটা চেষ্টা করে দুটি উইকেট শিকার করলেও তা প্রাইম ব্যাংকের রানের চাকা থামাতে যথেষ্ট ছিল না।
বৃষ্টির বাধা ও ডিএলএস পদ্ধতিতে জয়
৩৬৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্রাদার্স ইউনিয়নের শুরু থেকেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। এর মাঝেই বাগড়া দেয় বৃষ্টি। খেলা বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ডিএলএস পদ্ধতিতে ব্রাদার্স ইউনিয়নের লক্ষ্য সংশোধন করে ২১ ওভারে ২৪২ রান নির্ধারণ করা হয়।
নতুন লক্ষ্য পাওয়ার পরও ব্রাদার্স ইউনিয়ন লড়াই করার মতো কোনো ছন্দ খুঁজে পায়নি। ২১ ওভার শেষে তারা ৫ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৮৬ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। ফলে ১৫৫ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় প্রাইম ব্যাংকের।
বোলারদের দাপট
ব্যাটিংয়ে জোড়া সেঞ্চুরির পাশাপাশি প্রাইম ব্যাংকের বোলাররাও ছিলেন সমান উজ্জ্বল। আলিস আল ইসলাম ব্রাদার্স ইউনিয়নের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। এছাড়াও আবু হাসিম এবং মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয়কে সুনিশ্চিত করেন। সামগ্রিকভাবে, এটি ছিল প্রাইম ব্যাংকের এক নিখুঁত দলীয় পারফরম্যান্স। এই জয় প্রাইম ব্যাংককে পয়েন্ট তালিকায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেল এবং তাদের শিরোপা জয়ের দৌড়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে রাখল। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের এই মৌসুমে এমন দাপুটে ক্রিকেট উপহার দিয়ে প্রাইম ব্যাংক প্রমাণ করল কেন তারা টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট।
