Spencer Johnson: Walking away 3-0 in T20Is makes us very happy
অস্ট্রেলিয়ার জয়ে স্পেন্সার জনসনের দারুণ প্রত্যাবর্তন
অস্ট্রেলিয়ার পেসার স্পেন্সার জনসন বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা তার মধ্যে প্রবল। সিরিজের আগের ম্যাচেই তিনি সবচেয়ে খরুচে বোলার হিসেবে আলোচিত হয়েছিলেন, তবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি রেকর্ড গড়েছেন নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কিপটে বোলিং স্পেল দিয়ে। ৪-০-৬-২ পরিসংখ্যান নিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন তাকে অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যতের অন্যতম ভরসা হিসেবে দেখা হয়।
খারাপ সময় থেকে সাফল্যের পথে
ম্যাচ শেষে জনসন তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, Spencer Johnson: Walking away 3-0 in T20Is makes us very happy। তিনি আরও যোগ করেন, আগের ম্যাচে বোলিং ভালো না হলেও, দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। সিরিজের ৩-০ ব্যবধানে জয় অস্ট্রেলিয়ান শিবিরের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। জনসন জানান, তিনি তার পেস বা কৌশলে খুব একটা পরিবর্তন আনেননি, বরং লাইন এবং লেংথ বজায় রেখে বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে চাপে ফেলার দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন।
নতুনদের উত্থান ও দলের গভীরতা
বাংলাদেশ সফর থেকে অস্ট্রেলিয়া অনেক কিছু অর্জন করেছে। দলের প্রধান খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে জোয়েল ডেভিস এবং নিখিল চৌধুরীর মতো তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। জনসন তাদের প্রশংসা করে বলেন, দলের মূল খেলোয়াড়দের অভাব তারা খুব সুন্দরভাবে পূরণ করেছেন এবং অভিষেক ম্যাচেই তাদের পারফরম্যান্স ছিল সত্যিই প্রশংসনীয়।
বোলিং আক্রমণের সমন্বয়
অস্ট্রেলিয়ার এই সিরিজে বোলিং আক্রমণে অ্যাডাম জাম্পা এবং নাথান এলিসের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। জনসন স্বীকার করেছেন যে, এই দুই অভিজ্ঞ বোলারের কাছ থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন এবং তাদের সাথে বোলিং করে তিনি নিজের ছন্দ ফিরে পেয়েছেন। বিশেষ করে লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা এবং এলিসের ধারাবাহিকতা অস্ট্রেলিয়াকে বারবার ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে। এছাড়া ম্যাট রেনশর বোলিং পারফরম্যান্স ছিল এই সিরিজের অন্যতম সারপ্রাইজ প্যাকেজ, যিনি সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হিসেবে সিরিজ শেষ করেছেন।
বাংলাদেশের কন্ডিশন ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে জনসন বলেন, এখানকার উইকেটগুলো বেশ বৈচিত্র্যময়। ওয়ানডে সিরিজের চেয়ে টি-টোয়েন্টিতে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন, তবে দল হিসেবে তারা মানিয়ে নিয়েছে। বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানার গতি এবং দক্ষতার প্রশংসা করতেও ভোলেননি এই অজি পেসার। জনসন জানান, নাহিদ রানা যেভাবে ১৫০ কিমি গতির আশেপাশে বোলিং করেছেন, তা যেকোনো ব্যাটারের জন্যই চ্যালেঞ্জিং। আগস্ট মাসে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টেস্ট সিরিজের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। জনসনের মতে, বাংলাদেশ দল বর্তমানে বেশ শক্তিশালী এবং তাদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজটি বেশ প্রতিযোগিতামূলক হবে।
উপসংহার
সিরিজের শুরুটা যেমনই হোক না কেন, অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সিরিজটি নিজেদের করে নিয়েছে। স্পেন্সার জনসনের মতো খেলোয়াড়দের উত্থান এবং দলের সম্মিলিত প্রয়াস অস্ট্রেলিয়াকে এই সফরে সাফল্য এনে দিয়েছে। মাঠের বাইরের কঠিন চ্যালেঞ্জ এবং পিচের বৈচিত্র্য মোকাবেলা করে যেভাবে তারা ৩-০ ব্যবধানে জয়ী হয়েছে, তা বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের আধিপত্যের আরেকটি উদাহরণ। এখন ক্রিকেট ভক্তদের নজর আগস্ট মাসের টেস্ট সিরিজের দিকে, যেখানে আবার দেখা হবে এই দুই দলের।
