Report

Jack fells Sussex as Hampshire claim vital victory – একটি গুরুত্বপূর্ণ জয় হ্যাম্পশায়ারের!

Nikhil Rao · · 1 min read

ক্রিকেট মাঠে একটি উত্তেজনাপূর্ণ এবং নাটকীয় লড়াইয়ের পর হ্যাম্পশায়ার চলতি চ্যাম্পিয়নশিপ মৌসুমে তাদের দ্বিতীয় জয় নথিভুক্ত করেছে। হোভে অনুষ্ঠিত তিন দিনের এই ম্যাচে তারা শিরোপা প্রত্যাশী সাসেক্সকে ১১৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। এই জয় হ্যাম্পশায়ারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে যখন তারা মৌসুমে ধারাবাহিকতা খুঁজছিল। ম্যাচের ফলাফল ছিল: হ্যাম্পশায়ার ১৯১ (গাবিন্স ৫২, প্রাইস ৩-২৭) এবং ২২০ (পোটগিটার ৫৫, কার্সন ৩-৩৭, উনাদকাত ৩-৪০, প্রাইস ৩-৪১) বনাম সাসেক্স ১৫৯ (অ্যাবট ৬-৪৯) এবং ১৩৪ (জ্যাক ৪-৩৬) – হ্যাম্পশায়ার ১১৮ রানে জয়ী।

হ্যাম্পশায়ারের প্রথম ইনিংস ও সাসেক্সের জবাব

ম্যাচের শুরু থেকেই পিচ বোলারদের জন্য কিছু সুবিধা দিচ্ছিল, যা ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। হ্যাম্পশায়ার তাদের প্রথম ইনিংসে সব উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে টম গাবিন্স ৫২ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন, যা দলকে একটি সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছাতে সাহায্য করে। সাসেক্সের পক্ষে টম প্রাইস ২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন, যা হ্যাম্পশায়ারের ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল। জবাবে, সাসেক্স তাদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৫৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। হ্যাম্পশায়ারের অভিজ্ঞ ফাস্ট বোলার কাইল অ্যাবট ছিলেন অপ্রতিরোধ্য; মাত্র ৪৯ রান খরচায় তিনি ৬টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন, যা সাসেক্সকে চাপে ফেলে দেয় এবং হ্যাম্পশায়ারকে প্রথম ইনিংসে ৩২ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড এনে দেয়।

হ্যাম্পশায়ারের দ্বিতীয় ইনিংস এবং লক্ষ্য নির্ধারণ

দ্বিতীয় ইনিংসে হ্যাম্পশায়ার আরও ভালো পারফর্ম করার চেষ্টা করে, তবে সাসেক্সের বোলাররাও ছেড়ে কথা বলেননি। হ্যাম্পশায়ার ২২০ রানে অলআউট হয়। দলের পক্ষে পোটগিটার ৫৫ রানের একটি মূল্যবান ইনিংস খেলেন, যা দলকে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক স্কোর গড়তে সাহায্য করে। সাসেক্সের বোলারদের মধ্যে জ্যাক কার্সন ৩৭ রানে ৩ উইকেট, জয়দেব উনাদকাত ৪০ রানে ৩ উইকেট এবং টম প্রাইস ৪১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন, যা হ্যাম্পশায়ারকে বড় স্কোর গড়ার সুযোগ দেয়নি। তৃতীয় দিনের শুরুতে হ্যাম্পশায়ার ৯ উইকেটে ২০৬ রানে ছিল, যেখানে কাইল অ্যাবট এবং এডি জ্যাক শেষ উইকেটে ৩৩ রান যোগ করে দলকে ২৩৮ রানের লিডে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তারা আরও ১৪ রান যোগ করে, যা সাসেক্সকে ২৫৩ রানের জয়ের লক্ষ্য দেয়। সাসেক্সের অধিনায়ক টম হেইনস নতুন বল নিয়েছিলেন, কিন্তু জয়দেব উনাদকাত বা টম প্রাইস কেউই তেমন সুইং বা সিম মুভমেন্ট খুঁজে পাননি। জ্যাক কার্সন তার পঞ্চম বলেই জ্যাককে লং-অন বাউন্ডারির ঠিক ভিতরে শন হান্টের হাতে ক্যাচ আউট করিয়ে হ্যাম্পশায়ারের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান।

সাসেক্সের জয়ের প্রচেষ্টা এবং প্রাথমিক ধাক্কা

২৫৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সাসেক্সকে প্রথম দিকে আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল। তারা তাদের আট ম্যাচের মধ্যে পঞ্চম জয়ের সন্ধানে ছিল এবং মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে ১ উইকেটে ৬৪ রান তোলার পর তাদের জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল মনে হচ্ছিল। একটি বিশাল জনসমাগম হয়েছিল, কারণ দর্শকদের বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে প্রতিটি রান হাততালি দিয়ে উদযাপিত হচ্ছিল। হ্যাম্পশায়ারেরও প্রচুর সমর্থক উপস্থিত ছিলেন, যারা তাদের দলের প্রতিটি সাফল্যে উল্লাস করছিলেন। সাসেক্স তাদের ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় যখন অধিনায়ক টম হেইনস তৃতীয় ওভারেই কাইল অ্যাবটের বলে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ হন। কিন্তু বামহাতি ব্যাটসম্যান ড্যান হিউজ এবং প্রাক্তন হ্যাম্পশায়ার খেলোয়াড় টম অ্যালসোপ পরিস্থিতি কিছুটা সাসেক্সের দিকে নিয়ে যান। রান তোলা কঠিন হলেও হিউজ এডি জ্যাকের এক ওভারে কভার, সোজা এবং মিডউইকেটের মধ্যে দিয়ে তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন, যা দর্শকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছিল এবং সাসেক্সের জয়ের স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছিল।

এডি জ্যাকের বিধ্বংসী স্পেল: ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত

মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় সাসেক্স তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় ছিল এবং হ্যাম্পশায়ারের আশা মূলত কাইল অ্যাবটের উপর নির্ভর করছিল। কিন্তু এদিন নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন ফাস্ট বোলার এডি জ্যাক। সি এন্ড থেকে বল করতে এসে পরপর দুই ওভারে তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ৬৭ রানে হিউজকে এলবিডব্লিউ করেন জ্যাক, যখন হিউজ একটি ফুল লেন্থ ডেলিভারি মিডউইকেটের দিকে ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন। এর মাধ্যমে ৫৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভেঙে যায় এবং সাসেক্স বড় ধাক্কা খায়। এরপর, কোনো রান যোগ না করেই, তিনি জ্যাক লিনিংকে শূন্য রানে উইকেটের পিছনে প্রাক্তন সাসেক্স অধিনায়ক বেন ব্রাউনের হাতে ক্যাচ আউট করিয়ে দেন। জ্যাকের এই স্পেলটি ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট, যা সাসেক্সের ব্যাটিং লাইনআপের পতন শুরু করে। তার ১৩তম প্রথম-শ্রেণীর ম্যাচে ৪ উইকেটে ৩৬ রান ছিল তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স, যা হ্যাম্পশায়ারের জয়ের ভিত্তি স্থাপন করে।

অর্গান ও অ্যাবটের সমর্থন: সাসেক্সের পতন

অন্যদিকে, টম অ্যালসোপ শান্তভাবে খেলছিলেন এবং দলের হাল ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু ৩৭ রান করার পর তিনি ফেলিক্স অর্গানের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে স্কট কারির হাতে ক্যাচ তুলে দেন। তবে স্কয়ার-লেগ আম্পায়ার তাকে নট আউট ঘোষণা করায় মনে হয়েছিল এটি সাসেক্সের জন্য একটি সুযোগ। এই সিদ্ধান্তের পর অ্যালসোপ আরও ছয় রান যোগ করেন, কিন্তু এরপরই একই বোলারের বলে প্রথম স্লিপে টবি অ্যালবার্টের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন। এর পরের ওভারেই জেমস কোলসের উইকেট পড়ে, যখন তিনি জ্যাকের একটি শর্ট, ওয়াইড ডেলিভারি কাট করতে গিয়ে উইকেটের পিছনে ক্যাচ আউট হন। এটি হ্যাম্পশায়ারের জয়ের পথকে আরও প্রশস্ত করে। জ্যাক তার পরের ওভারেই আবার আঘাত হানেন, টম প্রাইসকে লেগ সাইডে ক্যাচ আউট করান। এরপর ফেলিক্স অর্গান পরপর দুই বলে দুটি উইকেট তুলে নেন। তিনি জ্যাক কার্সনকে শর্ট লেগে এবং ডোম গুডম্যানকে উইকেটের পিছনে ক্যাচ আউট করান। চা বিরতির সময় সাসেক্সের স্কোর ছিল ৮ উইকেটে ১৩৪ রান, যা তাদের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত করে দিয়েছিল।

শেষ উইকেটের পতন ও হ্যাম্পশায়ারের জয়

চা বিরতির পর সাসেক্সের পতন দ্রুত সম্পন্ন হয়। কোনো রান যোগ না করেই জন সিম্পসন কাইল অ্যাবটের বলে মিড-অনে ক্যাচ আউট হন। এরপরের বলেই জয়দেব উনাদকাত গালিতে ক্যাচ আউট হলে সাসেক্স তাদের শেষ উইকেট হারায়। মধ্যাহ্নভোজের পর সাসেক্স তাদের শেষ ৯ উইকেট হারায় মাত্র ৭০ রানের বিনিময়ে, যা তাদের ব্যাটিং বিপর্যয়ের চরম উদাহরণ। হ্যাম্পশায়ারের বোলাররা, বিশেষ করে এডি জ্যাক এবং ফেলিক্স অর্গান, দুর্দান্ত বোলিং করে সাসেক্সের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেন। এই জয় হ্যাম্পশায়ারকে মৌসুমে একটি নতুন উদ্দীপনা দিয়েছে এবং তাদের চ্যাম্পিয়নশিপের অবস্থানে উন্নতি ঘটিয়েছে। অন্যদিকে, সাসেক্সের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন এই পরাজয়ের ফলে কিছুটা হলেও ধাক্কা খেয়েছে। একটি দলগত প্রচেষ্টা এবং বিশেষ করে এডি জ্যাকের নায়কোচিত পারফরম্যান্স এই ম্যাচে হ্যাম্পশায়ারকে একটি স্মরণীয় জয় এনে দিয়েছে।

Avatar photo
Nikhil Rao

Nikhil Rao analyzes fantasy cricket picks, probable XIs, captain choices, and player form ahead of major matches.