“I’ll try to bowl at 200 km/h” – Shaheen on Nahid Rana comparison: পাকিস্তানের গতি তারকা শাহিন আফ্রিদির প্রতিক্রিয়া
নাহিদ রানার গতিতে মুগ্ধ ক্রিকেট বিশ্ব
বাংলাদেশি ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা বর্তমান সময়ে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত নাম। তার সহজাত গতি এবং আক্রমণাত্মক বোলিং শৈলী বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যাটারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিচ্ছে। তরুণ এই গতিদানব তার পারফরম্যান্স দিয়ে ভক্ত এবং বিশেষজ্ঞ—উভয়েরই নজর কেড়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান সফরে বাংলাদেশ দলের ঐতিহাসিক টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজ জয়ে নাহিদ রানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সিরিজজুড়ে তার এক্সপ্রেস পেস পাকিস্তানি ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এর আগেও পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নাহিদ তার গতির ঝলক দেখিয়ে শিরোনামে এসেছিলেন।
শাহিন আফ্রিদির চোখে নাহিদ রানা
নাহিদ রানার উত্থান নিয়ে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানেও বিস্তর আলোচনা চলছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদিকে প্রশ্ন করা হয় নাহিদ রানাকে নিয়ে। পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস বা শোয়েব আখতারের মতো কিংবদন্তি পেসারদের উত্তরসূরি হিসেবে শাহিন নিজেই ফাস্ট বোলিংয়ের গুরুত্ব ভালো বোঝেন।
নাহিদ রানার প্রসঙ্গ টেনে শাহিন আফ্রিদি বলেন, “বাংলাদেশি বোলার নাহিদ রানা এখন পর্যন্ত মাত্র সাত-আটটি ম্যাচ খেলেছে। যেকোনো মেশিনের মতোই মানুষের শরীরও সময়ের সাথে সাথে ক্লান্ত হয়। যখন একজন বোলার টানা খেলতে থাকে, তখন তার শরীর কিছুটা ভেঙে পড়তে পারে। সে সময় সঠিক বিশ্রাম নিয়ে নিজেকে পুনরায় তৈরি করে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসাটা জরুরি। মাঠে নিজের সেরাটা দিতে হলে সঠিক প্রস্তুতির বিকল্প নেই।”
ফাস্ট বোলারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট
একজন ফাস্ট বোলারের ক্যারিয়ার দীর্ঘ করার ক্ষেত্রে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা শাহিনের বক্তব্যে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। তিনি জানান, “আমরা চেষ্টা করছি নিজেদের ফিট রাখতে এবং পাকিস্তানের হয়ে নিষ্ঠার সাথে সেবা দিতে। যদি একজন ফাস্ট বোলারকে তিনটি ফরম্যাটেই খেলতে হয়, তবে তাকে অবশ্যই যথাযথভাবে পরিচালনা করতে হবে। আমাদের ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে এ নিয়ে কাজ চলছে এবং কোচদের সাথে আমরা নিয়মিত আলোচনা করছি।”
আধুনিক ক্রিকেটে ইনজুরি এড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে সার্ভিস দেওয়া যে কোনো পেসারের জন্যই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শাহিন মনে করেন, নাহিদ রানার মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সঠিক তত্ত্বাবধান করলে তারা দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের দলের সম্পদ হয়ে থাকতে পারবে।
শাহিনের সেই রসিকতা
সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে শাহিন শাহ আফ্রিদি কিছুটা হাস্যরসের আশ্রয় নেন। নাহিদ রানার উচ্চগতির বোলিংয়ের প্রসঙ্গ ধরে তাকে যখন প্রশ্ন করা হয় যে, তিনিও কি এমন গতিতে বোলিং করবেন, তখন শাহিন মজার ছলে বলেন, “আমি আপনাদের সবার জন্য ২০০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে বোলিং করার চেষ্টা করব!” তার এই মন্তব্যে সংবাদ সম্মেলন কক্ষে হাসির রোল পড়ে যায়।
উল্লেখ্য যে, পাকিস্তান এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৩০ মে লাহোরে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। শাহিন আফ্রিদির নেতৃত্বে পাকিস্তান দল তাদের ঘরের মাঠে এই সিরিজে ভালো করার প্রত্যাশা রাখছে। নাহিদ রানার মতো তরুণরা যেভাবে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের প্রমাণ করছেন, তা আগামী দিনের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। ক্রিকেটের এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নাহিদ রানার মতো বোলাররা শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের গতির লড়াইকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন।
পরিশেষে বলা যায়, নাহিদ রানা এবং শাহিন আফ্রিদির মতো বোলারদের পারস্পরিক সম্মান এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ খেলার মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলে। ভক্তরা এখন দেখার অপেক্ষায়, নাহিদ রানা তার এই ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কতটা দীর্ঘস্থায়ী করতে পারেন এবং শাহিন আফ্রিদি অজিদের বিপক্ষে কতটা বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারেন।
