‘High-quality’ Saleem limits damage despite extreme heat and unhelpful pitch
চণ্ডীগড়ে সেলিমের লড়াকু পারফরম্যান্স
নতুন চণ্ডীগড়ে অনুষ্ঠিত ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্টে মোহাম্মদ সেলিমের বোলিং নৈপুণ্য ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রচণ্ড দাবদাহ এবং বোলারদের জন্য একেবারেই সহায়তা না থাকা একটি পিচে তিনি ৬টি উইকেট শিকার করে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। যদিও আফগান ব্যাটারদের ব্যর্থতায় দল এখন বেশ চাপে রয়েছে। দিনের শেষে আফগানিস্তান ৫ উইকেট হারিয়ে ১১৩ রান সংগ্রহ করতে পেরেছে, যা ভারতের প্রথম ইনিংসের স্কোরের চেয়ে এখনো অনেক দূরে।
সেলিমের দায়িত্বশীল বোলিং
১৪০ কিলোমিটার গতির আশেপাশে টানা বোলিং করে সেলিম ভারতের ব্যাটারদের পরীক্ষায় ফেলেছিলেন। বিশেষ করে শুভমান গিলের মতো সেট ব্যাটারকে আউট করা এবং ধ্রুব জুরেলের স্টাম্প উপড়ে ফেলা তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়। তিনি মানভ সুথার এবং মোহাম্মদ সিরাজকেও আউট করে ভারতের রানের গতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করেন। ভারতের ইনিংস ৫৬৪ রানে শেষ হওয়ার পেছনে সেলিমের অবদান ছিল অসামান্য।
কোচ ও সতীর্থদের প্রশংসা
আফগানিস্তানের প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাস সেলিমের প্রশংসা করে বলেন, ‘সে দারুণ ছিল। প্রচণ্ড গরমে এই ধরনের হাই-কোয়ালিটি ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে ছয় উইকেট নেওয়া মোটেও সহজ নয়। সে ধারাবাহিকভাবে লেন্থ বজায় রেখে বল করেছে, যা তাকে সারাক্ষণ খেলার মধ্যে রেখেছে।’ ভারতীয় অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দরও তার বোলিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সুন্দর বলেন, ‘পিচে পেসারদের জন্য কিছুই ছিল না। এরপরেও টানা সেমের ওপর বল করা অনেক দক্ষতা ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয়।’
ডিআরএস নিয়ে আফগানিস্তানের আক্ষেপ
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো সুযোগ থাকলেও আফগানিস্তান ডিআরএস বা ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম ব্যবহারে বড় ধরনের ভুল করেছে। বেশ কয়েকবার আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ না নেওয়ায় শুভমান গিল এবং ঋষভ পন্তের মতো ব্যাটাররা জীবন পেয়েছেন। রিপ্লেতে দেখা গেছে, সেই সিদ্ধান্তগুলো আফগানিস্তানের পক্ষে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কোচ পাইবাস স্বীকার করেছেন যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের দলে বড় ধরনের জড়তা ছিল। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মাঠের ভেতরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। ক্যাপ্টেন বা উইকেটরক্ষকের সমন্বয়ের অভাবে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারিয়েছি।’
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
প্রথম দুই দিনের খেলা শেষে আফগানিস্তান ৪৫১ রানে পিছিয়ে রয়েছে। সেলিমের লড়াইয়ের পর এখন তাদের ব্যাটারদের ওপর দায়িত্ব বর্তাচ্ছে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার। যদিও বর্তমান পরিস্থিতি বেশ কঠিন, তবুও সেলিমের মতো একজন বোলার যখন দলের হয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন, তখন পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। তবে কেবল বোলিং নয়, ব্যাটিংয়েও তাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে যদি তারা ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এই টেস্টে টিকে থাকতে চায়।
ক্রিকেটের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে সেলিমের বোলিংয়ের লড়াই নিঃসন্দেহে অনেক তরুণ পেসারের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। প্রচণ্ড গরম এবং বিরূপ পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধরে বল করে যাওয়ার ক্ষমতা তাকে বর্তমান আফগান ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পেসারে রূপান্তরিত করেছে। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী দিনগুলোতে আফগানিস্তান তাদের ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পারে কি না।
