Bangladesh Cricket

Nigar Sultana Joty stars as Bangladesh women defeat Scotland in tri-series: টাইগ্রেসদের দুর্দান্ত জয়

Nikhil Rao · · 1 min read

এডিনবার্গের কঠিন কন্ডিশনে বাংলাদেশের দুর্দান্ত ঘুরে দাঁড়ানো

ক্রিকেট মাঠে যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখনই আসল চ্যাম্পিয়নদের চেনা যায়। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ঠিক এই কাজটিই করে দেখিয়েছে স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে। টুর্নামেন্টের শুরুটা আশানুরূপ না হলেও, দ্বিতীয় ম্যাচে এসে নিজেদের জাত চিনিয়েছে টাইগ্রেসরা। স্বাগতিক স্কটল্যান্ড নারী দলকে ৩৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে নিজেদের টিকিয়ে রাখল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই জয় কেবল টেবিলের সমীকরণেই বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রাখেনি, বরং দলের ক্রিকেটারদের মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এডিনবার্গের প্রতিকূল আবহাওয়া এবং উইকেটের আচরণ জয় করে টাইগ্রেসদের এই পারফরম্যান্স সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

শুরুর ব্যাটিং বিপর্যয় ও অধিনায়কের প্রতিরোধ

ম্যাচের শুরুতে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তবে শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না। মাত্র ২৩ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরে যান দলের টপ অর্ডারের ৩ জন প্রধান ব্যাটার। স্কটিশ বোলারদের চমৎকার সুইং এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটাররা যখন দিশেহারা, তখন ক্রিজে আসেন অধিনায়ক নিজে।

চাপের মুখে কীভাবে ঠাণ্ডা মাথায় ইনিংস গড়তে হয়, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। তিনি মাত্র ৪৭ বলে খেলেন ৫৮ রানের একটি নান্দনিক ও অধিনায়কোচিত ইনিংস। তাঁর এই ইনিংসে ছিল পরিস্থিতির দাবি মেনে বাউন্ডারি হাঁকানো এবং সিঙ্গেলস-ডাবলসের মাধ্যমে স্ট্রাইক রোটেট করার দারুণ সমন্বয়। জ্যোতিকে যোগ্য সঙ্গ দেন মিডল অর্ডারের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার শোভনা মোস্তারি। শোভনা ৩১ বলে ৩৯ রানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। চতুর্থ উইকেটে তাদের চমৎকার পার্টনারশিপই মূলত বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে এবং বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেয়।

মধ্য ও শেষ ওভারের আক্রমণ

জ্যোতি ও শোভনার বিদায়ের পরও রানের গতি সচল রাখার দায়িত্ব নেন স্বর্ণা আক্তার। তিনি ২৩ বলে ২০ রানের একটি কার্যকরী ইনিংস খেলেন, যা দলের স্কোরকে ১৫০-এর কোটা পার করতে সাহায্য করে। শেষ মুহূর্তে অলরাউন্ডার ঋতু মণি ৪ বলে ৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে বাংলাদেশ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫২ রানের একটি চ্যালেঞ্জিং ও লড়াকু স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়। শুরুর বিপর্যয় বিবেচনা করলে এই স্কোরটি ছিল অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক।

স্কটল্যান্ডের জবাব এবং টাইগ্রেস বোলারদের দাপট

১৫৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্কটল্যান্ড দল শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত এবং লাইন-লেন্থ বজায় রাখা বোলিংয়ের সামনে স্কটিশ ওপেনাররা হাত খুলে খেলতেই পারেননি। পাওয়ার প্লের মধ্যেই মাত্র ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় স্বাগতিকরা।

স্কটল্যান্ডের হয়ে একমাত্র ব্যতিক্রমী লড়াই করেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার সারাহ ব্রাইস। তিনি এক প্রান্ত আগলে রেখে ৪১ বলে ৪০ রানের একটি ইনিংস খেলেন। তবে অন্য প্রান্ত থেকে কোনো ব্যাটার তাঁকে যোগ্য সহায়তা দিতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের কারণে স্কটল্যান্ডের ইনিংসের গতি কখনোই লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত স্কটল্যান্ড দল মাত্র ১১৮ রানেই অলআউট হয়ে যায়, যার ফলে বাংলাদেশ দল ৩৪ রানের একটি বিশাল ও স্বস্তিদায়ক জয় নিশ্চিত করে।

ঋতু মণির জাদুকরী বোলিং স্পেল

বাংলাদেশের এই জয়ে বল হাতে মূল ভূমিকা পালন করেছেন অভিজ্ঞ মিডিয়াম পেসার ঋতু মণি। তিনি তাঁর বোলিংয়ের বৈচিত্র্য দিয়ে স্কটিশ ব্যাটারদের প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করেছেন। চমৎকার স্পেলে মাত্র কয়েক ওভারের ব্যবধানে তিনি একাই তুলে নেন ৪টি উইকেট, যা স্কটল্যান্ডের মিডল অর্ডারকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়।

ঋতু মণির পাশাপাশি অন্য বোলাররাও ছিলেন সমান উজ্জ্বল। তরুণ বোলিং সেনসেশন মারুফা আক্তার এবং বাঁহাতি স্পিনার সানজিদা আক্তার মেঘলা প্রত্যেকেই শিকার করেন ২টি করে উইকেট। এছাড়া রাবেয়া খান এবং শোভনা মোস্তারি ১টি করে উইকেট নিয়ে স্কটল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে সম্পূর্ণ ভেঙে দেন। বোলারদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই বাংলাদেশকে এত বড় ব্যবধানে জয় এনে দিতে সাহায্য করেছে।

ম্যাচের মূল টার্নিং পয়েন্ট এবং ভবিষ্যতের পথচলা

ম্যাচের মূল টার্নিং পয়েন্ট ছিল দুটি। প্রথমত, ২৩ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর জ্যোতি এবং শোভনার মধ্যকার প্রতিরোধ গড়ে তোলা জুটি। দ্বিতীয়ত, স্কটল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সময় ঋতু মণির এক ওভারে জোড়া উইকেট শিকার, যা স্বাগতিকদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল।

এই দুর্দান্ত জয়ের পর বাংলাদেশ নারী দল এখন অনেক বেশি উজ্জীবিত। সিরিজের ফাইনালে ওঠার সমীকরণ এখন তাদের নিজেদের হাতেই রয়েছে। দলের ফিল্ডিংয়ের মান, বোলারদের শৃঙ্খলা এবং অধিনায়কের দূরদর্শী নেতৃত্ব আগামী ম্যাচগুলোতেও বজায় থাকবে বলে ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন। এই জয়ের ধারা বজায় রেখে টাইগ্রেসরা ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলবে—এমনটাই এখন কোটি ভক্তের প্রত্যাশা।

Avatar photo
Nikhil Rao

Nikhil Rao analyzes fantasy cricket picks, probable XIs, captain choices, and player form ahead of major matches.