Mominul and Zawad star in Dhaka Leopards’ comfortable win against Mohammedan
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে লিওপার্ডসের দাপট
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) এ যেন রানের ফোয়ারা বইছে। বিকেএসপি গ্রাউন্ড নং ৩-এ অনুষ্ঠিত এক জমজমাট লড়াইয়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে ঢাকা লিওপার্ডস। এই জয়ের মূল কারিগর ছিলেন মোমিনুল হক এবং জাওয়াদ আবরার। তাদের দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সুবাদে ২২৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা খুব সহজেই স্পর্শ করে ঢাকা লিওপার্ডস।
মোহামেডানের ইনিংস: লড়াইয়ের চেষ্টা
টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা লিওপার্ডস। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে মোহামেডান। এনামুল হক বিজয় এবং আনিসুল ইসলাম দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে দল চাপে পড়ে। নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটেও ছিল না স্বস্তি, তিনি ১৪ বলে মাত্র ১৩ রান করে আউট হন। তবে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে মোহামেডান ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে।
পারভেজ হোসেন ইমন ২২ রান করে আউট হওয়ার পর, মুশফিকুর রহিম এবং তাইবুর রহমান পঞ্চম উইকেটে ৬০ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। তাইবুর ২৩ রান করে সাজঘরে ফিরলেও মুশফিকুর রহিম এক প্রান্ত আগলে রাখেন এবং ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করেন। মোহামেডান অধিনায়ক ৮০ বলে ৬৮ রানের একটি অসাধারণ ইনিংস উপহার দেন। শেষ দিকে আফিফ হোসেন (৩৯) এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (৩৩) দলের সংগ্রহকে ২০০ পার করিয়ে দেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে মোহামেডান ৮ উইকেট হারিয়ে ২২৫ রান সংগ্রহ করে।
ঢাকা লিওপার্ডসের লক্ষ্যপূরণ
২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঢাকা লিওপার্ডস শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক। যদিও শাইকত আলী ৩৯ রান করে দ্রুত ফিরে যান, কিন্তু এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে জাওয়াদ আবরারের হাতে। জাওয়াদ অত্যন্ত সাবলীলভাবে মোহামেডানের বোলারদের আক্রমণ করেন এবং মাত্র ৩৪ বলে ৬৬ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তার এই ঝড়ো ব্যাটিং লিওপার্ডসের জয়ের পথ সহজ করে দেয়।
মোমিনুলের অবিচল ইনিংস
অধিনায়ক মিঠুন রান আউটের শিকার হলেও মোমিনুল হক ছিলেন অবিচল। দলের প্রয়োজনে তিনি যেভাবে ব্যাটিং করেছেন, তা ছিল দেখার মতো। একপ্রান্ত আগলে রেখে তিনি জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান দলকে। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন দেবাশীষ সরকার। ষষ্ঠ উইকেটে মোমিনুল ও দেবাশীষ অবিচ্ছিন্ন ৮০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত মোমিনুল হক ৭৭ বলে ৯৩ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে, দেবাশীষ সরকার ৫৩ বলে অপরাজিত ৩৮ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ৩টি চার ও ১টি ছক্কা।
ম্যাচের সারাংশ ও গুরুত্ব
এই জয়টি ঢাকা লিওপার্ডসের জন্য অনেক বড় আত্মবিশ্বাস যোগাবে। মোমিনুল হক তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ছন্দে থাকা প্রমাণ দিলেন এই ম্যাচে। অন্যদিকে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বোলাররা মোমিনুল এবং জাওয়াদকে আটকানোর কোনো উপায়ই খুঁজে পাননি। ডিপিএলের পয়েন্ট টেবিলে এই জয় ঢাকা লিওপার্ডসকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেল।
পরিশেষে বলা যায়, দলের সামগ্রিক প্রচেষ্টার চেয়েও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এখানে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। মোমিনুল এবং জাওয়াদ যেভাবে চাপের মুখে ব্যাটিং করেছেন, তা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য একটি বড় শিক্ষা। পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ ঢাকা লিওপার্ডসের জন্য।
