Report

সিলেটে লিটন ও মুশফিকের ব্যাটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চালকের আসনে বাংলাদেশ

Farhan Malik · · 1 min read

সিলেটে দাপট ধরে রাখল বাংলাদেশ

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে পাকিস্তানের ওপর নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। লাঞ্চ বিরতি পর্যন্ত স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২০৩ রান। প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানের লিড মিলিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান লিড দাঁড়িয়েছে ২৪৯ রানে। ক্রিজে অপরাজিত আছেন লিটন দাস ৪৮ এবং মুশফিকুর রহিম ৩৯ রান নিয়ে। পঞ্চম উইকেটে এই দুজন এরই মধ্যে ৮৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন, যা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি টাইগারদের হাতে তুলে দিয়েছে।

লিটন-মুশফিকের দারুণ প্রতিরোধ

প্রথম ইনিংসে ১২৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা লিটন দাস দ্বিতীয় ইনিংসেও পাকিস্তানের বোলারদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং মন্থর আউটফিল্ড সত্ত্বেও তিনি সাবলীল ব্যাটিং করছেন। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম শুরু থেকেই ছিলেন কিছুটা রক্ষণাত্মক। তবে সেশন শেষ হওয়ার আগে সাজিদ খানের বলে স্লিভ-সুইপ করে বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের আগ্রাসী মনোভাবের জানান দিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের বোলারদের ক্লান্ত করে তোলা এই জুটি জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে বাংলাদেশকে।

সকালের সেশনে পাকিস্তানের লড়াই

দিনের শুরুতে মেঘলা ও বাতাসময় কন্ডিশনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন পাকিস্তানের পেসাররা। বিশেষ করে খুররম শাহজাদ দারুণ বোলিং করেছেন। নিয়মিতভাবে নাজমুল হোসেন শান্তকে অফ স্টাম্পের বাইরে ও ভেতরে বল করে ব্যতিব্যস্ত রেখেছিলেন তিনি। দিনের পঞ্চম ওভারেই সফল হন শাহজাদ। তার একটি দুর্দান্ত ইন-সুইং ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন শান্ত। তিনি ৪৬ বলে ১৫ রান করেন। শান্তর বিদায়ে শুরুর দিকে কিছুটা চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ।

ভাগ্যও সহায় ছিল টাইগারদের

ক্রিকেটে অনেক সময় ভাগ্যের ছোঁয়া প্রয়োজন হয়, যা আজ লিটন দাসের ক্ষেত্রে দেখা গেছে। ৪৭তম ওভারের ঘটনা। রান নিতে গিয়ে লিটন ক্রিজের মাঝপথে আটকা পড়েছিলেন। মুশফিক তাকে ফিরিয়ে দিলেও লিটন বিপদে ছিলেন। কিন্তু বাবর আজম সরাসরি থ্রো করতে ব্যর্থ হন। তখন লিটন ব্যক্তিগত ৩৮ রানে ছিলেন। এই জীবন পাওয়ার পর তিনি আরও আত্মবিশ্বাসের সাথে ব্যাটিং করেন।

ম্যাচের প্রেক্ষাপট

এর আগে, রবিবার বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান সংগ্রহ করে। জবাবে পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে ২৩২ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশের পক্ষে নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম তিনটি করে উইকেট নেন। পাকিস্তানের হয়ে বাবর আজম সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন। তবে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। দ্বিতীয় দিনের শেষভাগে মাহমুদুল হাসান জয়ের দ্রুতগতির হাফ সেঞ্চুরি এবং মমিনুল হকের সাথে তার ৭৬ রানের জুটি বাংলাদেশকে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল।

সামনের পথ

ম্যাচের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন চালকের আসনে রয়েছে। ২৪৯ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ এখন লক্ষ্য স্থির করেছে পাকিস্তানকে বড় কোনো লক্ষ্য ছুঁড়ে দেওয়ার। যদি লিটন ও মুশফিক আরও কিছুক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেন এবং লোয়ার অর্ডার থেকে সামান্য সহায়তা পাওয়া যায়, তবে পাকিস্তানের জন্য চতুর্থ বা পঞ্চম ইনিংসে এই রান তাড়া করা অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে। সিলেটের দর্শকরা আজ একটি বড় জয়ের আশায় প্রহর গুনছেন।

পরিসংখ্যানের এক নজরে

  • বাংলাদেশের বর্তমান লিড: ২৪৯ রান
  • অপরাজিত জুটি: লিটন দাস (৪৮*) ও মুশফিকুর রহিম (৩৯*)
  • পাকিস্তানের সফল বোলার: খুররম শাহজাদ (৩-৪৬)
  • প্রথম ইনিংসের লিড: ৪৬ রান

তৃতীয় দিনের বাকি অংশে বাংলাদেশ কত দ্রুত রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে, তা দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব। তবে যেভাবে খেলা এগোচ্ছে, তাতে বাংলাদেশ সিরিজ জয়ের পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে বলেই ধরে নেওয়া যায়।

Avatar photo
Farhan Malik

Farhan Malik writes tactical T20 cricket analysis with a focus on momentum shifts, batting strategies, and death-over performance.