Litton Das slams Mohammad Rizwan over handshake snub after Test defeat
ক্রিকেট মাঠে সৌজন্যবোধ: লিটন দাসের কণ্ঠে রিজওয়ানের আচরণের সমালোচনা
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক ইতিহাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় এক অনন্য মাইলফলক। টানা চারটি টেস্টে জয় এবং পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার স্মৃতি এখনো ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে উজ্জ্বল। তবে মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সম্প্রতি সিলেট টেস্টের একটি ঘটনা নতুন করে চাউর হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস এবং পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ানের মধ্যে তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে।
মাঠের উত্তাপ বনাম ম্যাচের পরের সৌজন্যতা
ম্যাচ চলাকালীন সময়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় নতুন কিছু নয়। লিটন দাস জানান, খেলা চলাকালীন সময়ে রিজওয়ানের সময় নষ্ট করার প্রবণতা তাকে কিছুটা বিচলিত করেছিল। তবে লিটনের মতে, খেলার উত্তাপ মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। কিন্তু রিজওয়ানের ম্যাচ পরবর্তী আচরণ তাকে বিশেষভাবে ব্যথিত করেছে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, পাকিস্তান দল প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ার পর রিজওয়ান তাদের সাথে হাত মেলাতে আসেননি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
লিটন দাসের অভিমত: খেলোয়াড় হিসেবে দায়বদ্ধতা
একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লিটন দাস তার ক্ষোভের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, একজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু খেলার শেষে প্রতিপক্ষকে সম্মান জানানো প্রতিটি ক্রিকেটারের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘আপনি যত বড় খেলোয়াড়ই হোন না কেন, ম্যাচ শেষে সব ক্রিকেটারের সাথে হাত মেলানো উচিত। এটি ক্রিকেটের অলিখিত নিয়ম এবং সৌজন্যতার অংশ।’
দ্বিতীয় টেস্টেও পুনরাবৃত্তি
লিটন দাসের অভিযোগ কেবল প্রথম টেস্টেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি দাবি করেন, দ্বিতীয় টেস্ট শেষেও একই ঘটনা ঘটেছে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর রিজওয়ান মাঠে এসে হাত মেলানোর প্রয়োজনীয়তা বোধ করেননি। লিটন মনে করেন, হয়তো ব্যক্তিগতভাবে তার সাথে রিজওয়ানের কোনো সমস্যা থাকতে পারে, কিন্তু পুরো বাংলাদেশ দলের সাথে এমন আচরণ করার কোনো কারণ থাকতে পারে না।
ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর প্রভাব
এই ঘটনা ভবিষ্যতের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে লিটন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ভবিষ্যতে যখন আবার দুই দল মুখোমুখি হবে, তখন কি একই পরিমাণ শ্রদ্ধা অবশিষ্ট থাকবে? লিটনের স্পষ্ট উত্তর, ‘একবার শ্রদ্ধা না দেখালে পরের বার সেই আশা করা কঠিন।’
- ক্রিকেটীয় মূল্যবোধ: জয়ের চেয়েও বড় হলো খেলোয়াড়দের পারস্পরিক শ্রদ্ধা।
- পেশাদারিত্বের অভাব: ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের সাথে হাত না মেলানোকে পেশাদারিত্বের পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন লিটন।
- দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব: এই ধরনের ঘটনা খেলোয়াড়দের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী সুসম্পর্ক নষ্ট করতে পারে।
পরিশেষে, ক্রিকেটের মতো একটি ভদ্রলোকের খেলায় মাঠের লড়াই মাঠেই শেষ হওয়া উচিত। খেলোয়াড়রা মাঠের ভেতরে যতই প্রতিদ্বন্দ্বী হোক না কেন, মাঠের বাইরে তাদের আচরণই তাদের ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। রিজওয়ানের এই অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ তাই ক্রিকেট বিশ্বে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং লিটন দাসের এই স্পষ্ট বক্তব্য বিষয়টি আরও জোরালোভাবে সামনে এনেছে। ক্রিকেট মাঠে এমন সৌজন্যবোধের অভাব যে কারো কাম্য নয়, তা বলাই বাহুল্য।
