Kohli has ‘let himself go and he’s having fun,’ says Moody
বিরাট কোহলির নতুন রূপ: আইপিএলে এক অন্যরকম মেজাজ
আইপিএল ২০২৬ মরসুমে বিরাট কোহলি যেন এক নতুন উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে গেছেন। ১৬৫.৮৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আধুনিক চাহিদার সাথে মানিয়ে নিতে তিনি কতটা দক্ষ। যদিও বৈভব সূর্যবংশীর মতো তরুণরা হয়তো আরও দ্রুত রান তুলেছেন, কিন্তু ৫০০-র বেশি রান করা ব্যাটারদের মধ্যে কোহলির এই স্ট্রাইক রেট সত্যিই ঈর্ষণীয়।
কোহলি কেন এখন অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে?
লখনউ সুপার জায়ান্টসের গ্লোবাল ডিরেক্টর টম মুডি মনে করেন, কোহলির এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো আনন্দ। মুডি বলেন, Kohli has ‘let himself go and he’s having fun,’ says Moody। আগের বছরগুলোতে যেখানে কোহলি ব্যাটিংকে অনেকটা ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি বা দায়িত্ব হিসেবে দেখতেন, সেখানে এখন তিনি মাঠে নামছেন কেবল খেলাটি উপভোগ করার জন্য। তার এই মানসিকতা তার স্ট্রাইক রেট এবং বাউন্ডারি সংখ্যায় স্পষ্ট প্রভাব ফেলছে।
আরসিবির শক্তিশালী ব্যাটিং অর্ডার
তবে কেবল ব্যক্তিগত মানসিকতাই নয়, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) দলের ভারসাম্যও কোহলিকে মুক্তভাবে খেলতে সাহায্য করেছে। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বোলিং কোচ বরুণ অ্যারন মনে করেন, একসময় আরসিবি মানেই ছিল গেইল, ডি ভিলিয়ার্স এবং কোহলির ওপর অতি-নির্ভরশীলতা। কিন্তু এখন রজত পতিদার, দেবদূত পাড়িক্কাল, টিম ডেভিড এবং ক্রুনাল পান্ডিয়ার মতো ব্যাটাররা থাকায় কোহলির কাঁধের বোঝা অনেকটা কমেছে। অ্যারনের মতে, কোহলি এখন জানেন যে তিনি আউট হয়ে গেলেও দলের অন্যদের ওপর ভরসা রাখা যায়, যা তাকে আরও আক্রমণাত্মক হতে সাহস দেয়।
আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিবর্তন
বিরাট কোহলি নিজেই স্বীকার করেছেন যে আধুনিক ক্রিকেটে ২০-৩০ রান বাড়তি প্রয়োজন। অম্বতি রায়ডুর মতে, কোহলি এখন প্রতিটা ডেলিভারিকে আলাদাভাবে দেখছেন এবং প্রতিটি বলেই সর্বোচ্চ ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন। আগে যেখানে তিনি ইনিংস বড় করার বা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার পরিকল্পনা করতেন, এখন তিনি অনেক বেশি তাৎক্ষণিক এবং আক্রমণাত্মক।
সমালোচকদের মুখে ছাই
এক সময় কোহলির স্ট্রাইক রেট এবং স্পিন খেলার দক্ষতা নিয়ে অনেক সমালোচনা হতো। মুডি যোগ করেন, কোহলি সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করেছেন। তিনি সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বিবর্তিত করেছেন। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম আসার পর থেকে আইপিএলের যে গতি বদলেছে, কোহলি তার সাথে পুরোপুরি মানিয়ে নিয়েছেন। এখন তার ব্যাটিংয়ে কোনো চাপ নেই; মাঠের ভেতরে তার শরীরের ভাষা দেখলেই বোঝা যায় যে তিনি কাজটিকে কতটা উপভোগ করছেন।
উপসংহার
আরসিবি টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে, আর এই সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন কোহলি। ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংসটি ছিল তার দুর্দান্ত ফর্মের এক অনন্য উদাহরণ। কোহলি এখন কেবল রান করছেন না, তিনি ক্রিকেটের আনন্দটা খুঁজে পেয়েছেন। এই আনন্দই হয়তো তাকে আগামী দিনে আরও বিধ্বংসী করে তুলবে। ভক্ত থেকে শুরু করে ক্রিকেটবোদ্ধা—সবার জন্যই এটি এক দারুণ উপভোগ্য সময়।
