“He’s going to be really tough work for us all: Josh Inglis praises Nahid Rana” – অজি অধিনায়কের চোখে নাহিদ রানা
বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন গতি তারকা নাহিদ রানা
বাংলাদেশ ক্রিকেটে পেস বোলিংয়ের নতুন এক বিপ্লব শুরু হয়েছে, আর সেই বিপ্লবের অগ্রভাগে রয়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। সাম্প্রতিক সময়ে তার দুর্দান্ত গতি এবং aggression বিশ্ব ক্রিকেটের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ এবং পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট সিরিজে তার পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে নিজের গতি আর বাউন্স দিয়ে কুপোকাত করে রাতারাতি আলোচনায় আসেন এই তরুণ তুর্কি। তার বোলিংয়ের প্রধান শক্তি হলো ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে একটানা বল করার ক্ষমতা এবং পিচ থেকে অতিরিক্ত বাউন্স আদায় করে নেওয়া। নাহিদ রানার উত্থান বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের মাধ্যমে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করে জাতীয় দলে ডাক পান তিনি। তার বোলিং অ্যাকশন অত্যন্ত সাবলীল হলেও বল ছাড়ার মুহূর্তে তিনি যে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেন, তাতেই বলের গতি অনেক বেড়ে যায়। পাকিস্তানের মাটিতে শান মাসুদ বা বাবর আজমদের মতো ব্যাটারদের তিনি যেভাবে পরাস্ত করেছেন, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হইচই ফেলে দিয়েছিল। বিশ্বের বাঘা বাঘা ক্রিকেট বিশ্লেষকরাও রানার বোলিং টেকনিক এবং তার আগ্রাসী মানসিকতার প্রশংসা করেছেন।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে স্পটলাইটে নাহিদ রানা
এবার ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে এবং তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল। স্বাভাবিকভাবেই এই সিরিজেও স্বাগতিকদের বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে দেখা যাবে নাহিদ রানাকে। অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বসেরা দলের বিপক্ষে তার এই গতিময় বোলিং কতটা কার্যকর হয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। অন্যদিকে, এই সফরের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান জশ ইংলিসকে। সিরিজ শুরুর আগে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বাংলাদেশি এই উদীয়মান তারকাকে নিয়ে তার মুগ্ধতার কথা জানান।
জশ ইংলিসের অকপট স্বীকারোক্তি ও প্রশংসা
ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে অজি অধিনায়ক জশ ইংলিসের কাছে নাহিদ রানা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বেশ ইতিবাচক মন্তব্য করেন। যদিও তিনি রানাকে খুব বেশি বল করতে দেখেননি, তবুও যতটুকু দেখেছেন তাতেই তিনি মুগ্ধ। ইংলিস বলেন, “আমি তার বোলিং খুব বেশি দেখিনি, তবে যতটুকু দেখেছি, তাকে একজন সত্যিই দুর্দান্ত বোলার এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একজন ক্রিকেটার বলে মনে হয়েছে।”
অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক নাহিদ রানার শারীরিক গঠন এবং গতি নিয়ে আলাদাভাবে কথা বলেন। তিনি মনে করেন, রানার উচ্চতা এবং গতির এই অসাধারণ সমন্বয় যেকোনো বিশ্বমানের ব্যাটিং লাইনের জন্যই হুমকি স্বরূপ। ইংলিস বলেন, “সে বেশ লম্বা এবং দ্রুত গতিতে বল করতে পারে, যা একজন পেসারের জন্য দারুণ একটি সমন্বয়। আমাদের সবার জন্য তাকে মোকাবেলা করা সত্যিই অনেক কঠিন হতে যাচ্ছে।”
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ: কার পাল্লা ভারী?
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে একটি কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্ন করা হয়েছিল—এই সিরিজে কি অস্ট্রেলিয়ার সিমাদের চেয়ে বাংলাদেশের পেসাররা বাড়তি সুবিধা পাবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে অজি অধিনায়ক সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে মুখে মৃদু হাসি নিয়ে বলেন, “আমার মনে হয় সিরিজ শেষেই আমরা এর উত্তর পেয়ে যাব।”
অস্ট্রেলিয়ার এই দলে বেশ কয়েকজন নিয়মিত ও সিনিয়র তারকা খেলোয়াড় না থাকলেও, ইংলিস বিশ্বাস করেন যে তাদের পেস আক্রমণে যথেষ্ট经验 রয়েছে যা যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সক্ষম। বাংলাদেশ সফর নিয়ে তার দলের উত্তেজনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর একটি সফর। আমরা বাংলাদেশের বিপক্ষে খুব বেশি খেলি না, বিশেষ করে বাংলাদেশের মাটিতে তো আরও কম। তাই এখানে এটি আমার প্রথম সফর এবং দলের অন্য অনেকের জন্যও এটি নতুন একটি অভিজ্ঞতা। আমরা এই সিরিজটি নিয়ে ভীষণভাবে উত্তেজিত।”
উইকেট পর্যবেক্ষণ এবং দল গঠন
প্রথম ম্যাচের একাদশ কেমন হতে পারে, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি অস্ট্রেলিয়া দল। ইংলিস জানান যে তারা উইকেট পর্যবেক্ষণ করার পরই চূড়ান্ত একাদশ ঘোষণা করবেন। তিনি বলেন, “আমরা এখনো দল চূড়ান্ত করিনি। আজ আমরা উইকেটের কন্ডিশন এবং পিচ কেমন আচরণ করতে পারে তা দেখব, এবং আগামীকাল আপনারা চূড়ান্ত একাদশ দেখতে পাবেন।”
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বর্তমান পেস ইউনিট এখন বিশ্বমানের। তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলামদের সাথে নাহিদ রানার অন্তর্ভুক্তি এই বোলিং আক্রমণকে আরও বেশি বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী করে তুলেছে। ঘরের মাঠের চেনা কন্ডিশনে তারা অস্ট্রেলিয়াকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে প্রস্তুত।
সিরিজের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশ সফরে স্পিন কন্ডিশন সবসময়ই বড় একটি ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পেসারদের জয়জয়কার প্রমাণ করে যে মিরপুর বা চট্টগ্রামের পিচেও পেসাররা ভালো করতে পারেন। বিশেষ করে নাহিদ রানার মতো একজন এক্সপ্রেস স্পিড বোলার যদি তার লেংথ এবং লাইন ঠিক রাখতে পারেন, তবে অজি ব্যাটারদের জন্য কাজটা একেবারেই সহজ হবে না। জশ ইংলিসের সতর্কবার্তা সেটাই প্রমাণ করে। ক্রিকেট ভক্তরা এখন একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অপেক্ষায় আছেন, যেখানে তরুণ নাহিদ রানা হবেন আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। অজি ব্যাটাররা কীভাবে রানার বাউন্স ও গতি সামলান, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
