Cricket News

Irfan Pathan Thrashed For ‘Fatherly’ Defending Vaibhav Sooryavanshi – আইপিএল ২০২৬: বৈভব সূর্যবংশীর বিরুদ্ধে শর্ট বলের ব্যবহার নিয়ে ইরফান পাঠানের মন্তব্যে বিতর্ক

Nikhil Rao · · 1 min read

আইপিএল ২০২৬: বৈভব সূর্যবংশীর লড়াই এবং বডিলাইন বোলিং নিয়ে বিতর্ক

আইপিএল ২০২৬-এর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের ১৫ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশী তার ৯৬ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস দিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের নজর কেড়েছেন। তবে তার এই অসাধারণ ইনিংসটি মাঠের বাইরে এক বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গুজরাট টাইটানসের দুই অভিজ্ঞ পেসার কাগিসো রাবাদা এবং মোহাম্মদ সিরাজ এই তরুণ ব্যাটারকে বারবার শর্ট পিচ এবং শরীরের লক্ষ্য করে বল করায় উত্তাল নেটপাড়া।

বডিলাইন বোলিং আসলে কী?

ক্রিকেটের ইতিহাসে ‘বডিলাইন’ বা ‘ফাস্ট লেগ থিওরি’ বেশ বিতর্কিত একটি কৌশল। ১৯৩২-৩৩ সালের অ্যাশেজ সিরিজে ডন ব্র্যাডম্যানকে আটকানোর জন্য ইংল্যান্ড এই কৌশল ব্যবহার করেছিল। এতে মূলত ব্যাটারের শরীর বা মাথা লক্ষ্য করে শর্ট পিচ বল করা হয়, যাতে ব্যাটার বাধ্য হয়ে অদ্ভুতভাবে নিজেকে বাঁচাতে চেষ্টা করেন অথবা ক্যাচ তুলে দেন। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে গুজরাট টাইটানস ঠিক এই পথেই হেঁটেছিল।

রাবাদা ও সিরাজের শর্ট বলের লক্ষ্যবস্তু বৈভব

কোয়ালিফায়ার ২ ম্যাচে গুজরাট টাইটানসের পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। বৈভব সূর্যবংশীকে অস্বস্তিতে ফেলতে রাবাদা এবং সিরাজ নিয়মিত তাকে লক্ষ্য করে বাউন্সার দিয়েছেন। রাবাদার গতিময় বাউন্সার এবং সিরাজের ধারালো ডেলিভারিগুলোর সামনে বারবার তাকে পরাস্ত হতে দেখা গেছে। যদিও বৈভব সাহসের সাথে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন এবং বারবার আঘাত পাওয়ার পরেও পিচ ছাড়েননি। শেষ পর্যন্ত রাবাদার একটি শর্ট বলেই তিনি ৯৬ রানে ক্যাচ দিয়ে আউট হন।

ইরফান পাঠানের মন্তব্য ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া

ম্যাচ চলাকালীন এই পরিস্থিতি দেখে প্রাক্তন ভারতীয় অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান নিজের ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘১৫ বছর বয়সী বৈভবের বিরুদ্ধে বডিলাইন বোলিং আমার কাছে ঠিক মনে হয়নি। আমি জানি সে বড়দের সাথে খেলছে, কিন্তু আমার ভেতরের বাবা মনটি এটাকে মেনে নিতে পারছে না।’

পাঠানের এই মন্তব্যের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে তার মানবিক দিকটিকে সমর্থন করলেও, বড় সংখ্যক দর্শক তাকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন। নেটিজেনদের মতে, আইপিএলের মতো উচ্চপর্যায়ের টুর্নামেন্টে বয়সের চেয়ে দক্ষতার গুরুত্বই বেশি এবং বোলাররা তাদের কৌশল ব্যবহার করতেই পারেন।

বৈভবের হার না মানা লড়াই

রাজস্থান রয়্যালস ম্যাচটি হারলেও বৈভবের ইনিংস ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ৪৭ বলে ৯৬ রানের ইনিংসে তিনি ৮টি চার এবং ৭টি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়েছেন। যশস্বী জয়সওয়াল এবং ধ্রুব জুরেল দ্রুত আউট হওয়ার পর রবীন্দ্র জাদেজাকে সাথে নিয়ে তিনি দলের স্কোরকে ২১৪ পর্যন্ত নিয়ে যান। তবে গুজরাট টাইটানসের শুভমান গিলের ১০৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের সামনে শেষ পর্যন্ত রাজস্থান রয়্যালসকে হার মানতে হয়।

উপসংহার

একজন ১৫ বছর বয়সী কিশোরের আইপিএলের মতো মঞ্চে এমন মানসিক দৃঢ়তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। বডিলাইন বা শর্ট বল ক্রিকেটের অংশ হলেও, তরুণ প্রতিভাদের ক্ষেত্রে ক্রিকেটীয় নৈতিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন কি না—তা নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকবে। তবে এটি স্পষ্ট যে, বৈভব সূর্যবংশী ভবিষ্যতে ভারতীয় ক্রিকেটের এক বড় সম্পদ হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। ৩১ মে ফাইনাল ম্যাচের আগে এই ঘটনাটি টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হিসেবে রয়ে গেল।

Avatar photo
Nikhil Rao

Nikhil Rao analyzes fantasy cricket picks, probable XIs, captain choices, and player form ahead of major matches.