জশ হ্যাজেলউড ভুবনেশ্বর কুমারকে প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্কের সাথে তুলনা করলেন | আইপিএল ২০২৬
আইপিএল ২০২৬ আসরটি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) জন্য একটি স্বপ্নের মতো অভিযানে পরিণত হয়েছে। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা এবারও তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। টুর্নামেন্টের ৬১তম ম্যাচে তারা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পাঞ্জাব কিংসের। ১২ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে আরসিবি ইতোমধ্যে প্লে-অফের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। আর একটি জয় তাদের শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শীর্ষ দুইয়ে থাকার সম্ভাবনাকেও উজ্জ্বল করবে।
জাসপ্রিত বুমরাহ নন, বরং ভুবনেশ্বর কুমারই হ্যাজেলউডের চোখে সেরা
আরসিবির এই সফলতার অন্যতম কারিগর হলেন অভিজ্ঞ ভারতীয় ফাস্ট বোলার ভুবনেশ্বর কুমার। দলের অভিজ্ঞ পেসার হিসেবে তিনি যেভাবে আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা প্রশংসিত হচ্ছে ক্রিকেট মহলে। সম্প্রতি সতীর্থ জশ হ্যাজেলউড ভুবনেশ্বরের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার এই কিংবদন্তি পেসার সরাসরি ভুবনেশ্বরকে তুলনা করেছেন তার জাতীয় দলের সতীর্থ মিচেল স্টার্ক এবং প্যাট কামিন্সের সাথে।
পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাওয়ে ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হ্যাজেলউড বলেন যে, ভুবনেশ্বরের সাথে বোলিং করাটা অনেকটা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্টার্ক এবং কামিন্সের সাথে বোলিং করার মতোই। তার মতে, আরসিবির বোলিং আক্রমণে এখন যে ভারসাম্য রয়েছে, তা তাদের গত বছরের শিরোপা জয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।
অজি ত্রয়ীর সাথে ভুবনেশ্বরের তুলনা: কেন এই সাদৃশ্য?
হ্যাজেলউড ব্যাখ্যা করেছেন কেন তিনি ভুবনেশ্বরকে স্টার্ক বা কামিন্সের সমতুল্য মনে করেন। তিনি বলেন, ‘প্যাট কামিন্স এবং মিচেল স্টার্কের সাথে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বোলিং করার অভিজ্ঞতা আমার আছে। ভুবনেশ্বরের বোলিং শৈলী কিছুটা সেরকমই। সে বলকে পিচের সামনে ফেলে সুইং করাতে পছন্দ করে। অন্যদিকে, আমি পিচ থেকে বাউন্স এবং সিম মুভমেন্ট আদায় করে নিতে পারি। আমাদের এই আক্রমণভাগে দারুণ একটা ভারসাম্য রয়েছে।’
Mitchell Starc, Josh Hazlewood and Pat Cummins [Source: AFP]
হ্যাজেলউডের মতে, ভুবনেশ্বর কুমারের নতুন বলে সুইং করানোর ক্ষমতা বিপক্ষ ব্যাটারদের শুরুতেই চাপে ফেলে দেয়, যা তাকে এবং দলের অন্যান্য বোলারদের উইকেট নেওয়ার কাজ সহজ করে দেয়। ২০২৫ সালের আইপিএল জয়ী দলেও এই ধরনের একটি ভারসাম্য ছিল, যা ২০২৬ সালেও বজায় রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বেগুনি টুপির মালিক ভুবনেশ্বর: পরিসংখ্যান কী বলছে?
হ্যাজেলউডের দাবি যে নিছক প্রশংসা নয়, তা ভুবনেশ্বর কুমারের পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট। আইপিএল ২০২৬ আসরে তিনি এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বা ‘পার্পল ক্যাপ’ হোল্ডার। ৩৬ বছর বয়সী এই তারকা ১২টি ইনিংসে বোলিং করে সংগ্রহ করেছেন ২২টি উইকেট। তার বোলিং গড় মাত্র ১৬.১৩, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য।
বিশেষ করে গত সপ্তাহে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে তার ৪-২৩ স্পেলটি ছিল আসরের অন্যতম সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। রায়পুরের সেই ম্যাচে তিনি একাই মুম্বাইয়ের ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, জশ হ্যাজেলউড চোট সারিয়ে ফিরে ১১টি উইকেট শিকার করলেও তার ইকোনমি রেট কিছুটা বেশি (৯-এর উপরে)। তবে হ্যাজেলউড মনে করেন, ভুবনেশ্বরের মতো অভিজ্ঞ সঙ্গীর সাথে বোলিং করা তাকে নিজের ছন্দ খুঁজে পেতে সাহায্য করছে।
রজত পাতিদারের নেতৃত্বে আরসিবির প্লে-অফ স্বপ্ন
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বর্তমানে রজত পাতিদারের নেতৃত্বে খেলছে। তার অধিনায়কত্বে দলটি বেশ সংহত এবং আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে। সম্প্রতি রায়পুরে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) বিপক্ষে শেষ ওভারের থ্রিলারে ৬ উইকেটে জয় পেয়েছে আরসিবি। এই জয়ের ফলে ১২ ম্যাচে ৮টি জয় নিয়ে তারা পয়েন্ট টেবিলের ওপরের দিকে অবস্থান করছে। বর্তমানে তাদের নেট রান রেট (NRR) ১.০৫৩, যা প্লে-অফের লড়াইয়ে তাদের বড় সুবিধা দিচ্ছে।
আগামী রবিবার, ১৭ মে ধর্মশালার এইচপিসিএ স্টেডিয়ামে পাঞ্জাব কিংসের মুখোমুখি হবে আরসিবি। এই ম্যাচটি জিতলেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ আইপিএলের প্লে-অফে কোয়ালিফাই করবে। পাঞ্জাব কিংস বর্তমানে টেবিলের নিচের দিকে থাকলেও, ধর্মশালার কন্ডিশনে তারা আরসিবির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ধর্মশালায় হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের অপেক্ষা
ধর্মশালার উইকেটে সাধারণত পেসাররা অতিরিক্ত সুবিধা পেয়ে থাকেন। ভুবনেশ্বর কুমারের সুইং এবং হ্যাজেলউডের বাউন্স পাঞ্জাব কিংসের ব্যাটারদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। ভারতীয় সময় দুপুর ৩:৩০ মিনিটে শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচে সকলের নজর থাকবে ভুবনেশ্বর কুমারের ওপর। তিনি কি পারবেন তার পার্পল ক্যাপের দাপট বজায় রেখে আরসিবিকে টানা দ্বিতীয় শিরোপার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে?
আইপিএল ২০২৬-এ এখন পর্যন্ত যে আধিপত্য আরসিবি দেখিয়েছে, তাতে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ভুবনেশ্বর কুমার এবং হ্যাজেলউড জুটিই হতে পারে তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। হ্যাজেলউডের ভাষায়, এই বোলিং আক্রমণই তাদের দলগত শক্তির আসল পরিচয়।
