Cricket News

আইপিএলের ইতিহাসে অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার নজির: শ্রেয়স আইয়ারের বিশেষ মাইলফলক

Nikhil Rao · · 1 min read

আইপিএলের ইতিহাসে অধিনায়কের গুরুদায়িত্ব ও মাইলফলক

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল-এ অধিনায়কত্ব করা কেবল একটি সম্মান নয়, এটি একই সঙ্গে প্রচণ্ড চাপের এক দায়িত্ব। মাঠের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিপক্ষের চাল বোঝা এবং দলের অন্দরমহলের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করার ভার থাকে ক্যাপ্টেনের কাঁধে। একজন ভুল সিদ্ধান্ত পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই এই লিগে দীর্ঘ সময় অধিনায়ক হিসেবে টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন। কিছু অধিনায়ক ট্রফি জিতে কিংবদন্তি হয়েছেন, আবার অনেকে চাপের মুখে নুইয়ে পড়েছেন। আজ আমরা সেইসব অধিনায়কদের নিয়ে আলোচনা করব, যারা আইপিএলের মঞ্চে সর্বোচ্চ সংখ্যক ম্যাচে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

১. এমএস ধোনি (২৩৫ ম্যাচ)

আইপিএলের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ অধিনায়কদের নাম বললে তালিকার শীর্ষে থাকবে মাহেন্দ্র সিং ধোনির নাম। ২০০৮ সালের উদ্বোধনী আসর থেকেই তিনি চেন্নাই সুপার কিংসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর নেতৃত্বে সিএসকে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০১৬ সালে রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টসের হয়েও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যদিও সেই অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিল না। ধোনি মোট ২৩৫টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন, যার মধ্যে ১৩৬টিতে জয় এবং ৯৭টিতে পরাজয় বরণ করেছেন। তাঁর জয়ের হার ৫৭.৮৭ শতাংশ।

২. রোহিত শর্মা (১৫৮ ম্যাচ)

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সফলতম অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি মুম্বাইকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। তাঁর হাত ধরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স পাঁচবার শিরোপা ঘরে তুলেছে (২০১৩, ২০১৫, ২০১৭, ২০১৯ ও ২০২০)। ২০২৪ সালের শুরুতে নেতৃত্ব থেকে সরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ১৫৮টি ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৮৭টি জয় এবং ৬৭টি হারের পরিসংখ্যান নিয়ে তাঁর জয়ের হার ৫৫.০৬ শতাংশ।

৩. বিরাট কোহলি (১৪৩ ম্যাচ)

২০১৩ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর তরুণ বিরাট কোহলির ওপর আস্থা রেখেছিল। টানা ৯ বছর তিনি দলের অধিনায়ক ছিলেন। যদিও ট্রফি জয়ের আক্ষেপ রয়ে গেছে, তবুও ২০১৬ সালে দলকে ফাইনালে তোলা এবং একাধিকবার প্লে-অফে নিয়ে যাওয়া ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম অর্জন। ১৪৩টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে কোহলি ৬৬টি জয় পেয়েছেন, যার জয়ের হার ৪৬.১৫ শতাংশ।

৪. গৌতম গম্ভীর (১২৯ ম্যাচ)

ধোনি ও রোহিতের পর গম্ভীরকে আইপিএলের অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে গণ্য করা হয়। কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) ভঙ্গুর দশা থেকে দলকে তিনি একটি শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। ২০১২ এবং ২০১৪ সালে তাঁর নেতৃত্বেই কেকেআর চ্যাম্পিয়ন হয়। ১২৯টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করে তিনি ৭১টি জয় পেয়েছেন, তাঁর জয়ের হার ৫৫.০৩ শতাংশ।

৫. শ্রেয়স আইয়ার (১০০ ম্যাচ)

এই তালিকার সর্বশেষ এবং নতুন সংযোজন হলেন শ্রেয়স আইয়ার। দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে অধিনায়কত্ব শুরু করা শ্রেয়স পরবর্তীতে কেকেআর-এর হয়েও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন। তাঁর অধীনে কেকেআর তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে। ২০২৫ সালে পাঞ্জাব কিংসের হয়ে নিজের প্রথম মৌসুমেই দলকে ফাইনালে নিয়ে গিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি একজন দক্ষ নেতা। এখন পর্যন্ত ১০০টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করে তিনি ৫৪টি ম্যাচে জয়লাভ করেছেন, যা তাঁর জয়ের হারকে ৫৪.৫৪ শতাংশে উন্নীত করেছে।

উপসংহার

আইপিএলের এই যাত্রা প্রমাণ করে যে, একজন দক্ষ অধিনায়ক কেবল মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও দলের মানসিক শক্তি জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শ্রেয়স আইয়ারের ১০০ ম্যাচের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলা ভারতীয় ক্রিকেটের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা আরও বাড়িয়ে দিল। আগামী দিনে আরও অনেক তরুণ তুর্কি হয়তো এই তালিকায় নিজেদের নাম লেখাবেন, তবে এই পাঁচজনের অবদান চিরকাল আইপিএলের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

Avatar photo
Nikhil Rao

Nikhil Rao analyzes fantasy cricket picks, probable XIs, captain choices, and player form ahead of major matches.