All-round Hampshire hold off Odgers, Learoyd charge for Somerset – হ্যাম্পশায়ারের দুর্দান্ত জয়
ভূমিকা: হ্যাম্পশায়ারের দুর্দান্ত জয় এবং সমারসেটের লড়াই
মেট্রো ব্যাংক ওয়ান ডে কাপ নারী ক্রিকেটে একটি চরম উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল হ্যাম্পশায়ার এবং সমারসেট। টনটনের কুপার অ্যাসোসিয়েটস গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে অলরাউন্ড নৈপুণ্য প্রদর্শন করে হ্যাম্পশায়ার ৩৯ রানের এক দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে। এই ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিল হ্যাম্পশায়ারের বিশাল সংগ্রহ এবং পরবর্তীতে সমারসেটের দুই ব্যাটার অনিকা লেরয়েড ও বেক্স ওজার্সের দুর্দান্ত প্রতিরোধ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হ্যাম্পশায়ারের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে সমারসেটের ইনিংস ভেঙে পড়ে। ম্যাচটির সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, All-round Hampshire hold off Odgers, Learoyd charge for Somerset শিরোনামটি এই লড়াইয়ের প্রতিটি মুহূর্তকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সমারসেট। তবে তাদের এই সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করে হ্যাম্পশায়ারের ব্যাটাররা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩০৩ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায় হ্যাম্পশায়ার। এটি ছিল লিস্ট-এ ক্রিকেটে দলটির ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। বিশাল এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সমারসেট একসময় জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৪৬.৩ ওভারে ২৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।
হ্যাম্পশায়ারের ব্যাটিং তাণ্ডব ও দুর্দান্ত শুরু
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে হ্যাম্পশায়ারের দুই ওপেনার মায়া বুশিয়ার এবং এলা ম্যাককোহান দুর্দান্ত সূচনা করেন। সমারসেটের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে তারা মাত্র ১০.৪ ওভারে ৭২ রানের একটি ঝড়ো জুটি গড়েন। সমারসেটের বোলারদের লাইন-লেন্থের ঘাটতির পূর্ণ সুবিধা নেন এই দুই ব্যাটার। ম্যাককোহান ৩১ রান করে লিভ বার্নসের বলে আউট হলে এই জুটির অবসান ঘটে। তবে ম্যাককোহানের বিদায়ের পরও হ্যাম্পশায়ারের রানের গতি কমেনি।
তিন নম্বরে নামা অ্যাবি নরগ্রোভ ক্রিজে এসেই বলের সাথে রান তুলতে শুরু করেন। অন্যদিকে মায়া বুশিয়ার অত্যন্ত শান্ত ও সাবলীল ভঙ্গিতে খেলে মাত্র ৪৭ বলে নিজের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, যেখানে ছিল ৭টি চারের মার। সমারসেটের যখন একটি ব্রেকথ্রুর খুব প্রয়োজন ছিল, তখন নিয়াম হল্যান্ড এসে বুশিয়ারকে অনিকা লেরয়েডের ক্যাচে পরিণত করেন। নরগ্রোভও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, ৩৫ রান করে লোলা হ্যারিসের বলে কেটি জোনসের হাতে স্টাম্পড হন। এরপর জর্জিয়া অ্যাডামস ১৫ রান করে ক্লোই স্কেলটনের বলে মিড-অনে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে হ্যাম্পশায়ার কিছুটা চাপে পড়ে যায়। দলের সংগ্রহ যখন ১৫০ রানের কোটায় ৪ উইকেটে দাঁড়ায়, তখন ইনিংস পুনর্গঠনের প্রয়োজন ছিল।
সুইট ও সাউথবির অবিস্মরণীয় জুটি
১৫৪ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যখন সমারসেটের হাতে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন ফ্রান্সেসকা সুইট এবং রিয়ান্না সাউথবি। তবে এই জুটির শুরুতে সমারসেট একটি বড় সুযোগ হাতধারা করে। সুইট যখন মাত্র ৭ রানে ব্যাট করছিলেন, তখন ক্লোই স্কেলটনের বলে মিড-অফে জেস হ্যাজেল একটি সহজ ক্যাচ মিস করেন। এই জীবনদানের পূর্ণ ফায়দা তোলেন সুইট।
সুইট ও সাউথবি পঞ্চম উইকেটে মাত্র ১৫ ওভারে ৯৮ রানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গতিশীল জুটি গড়ে তোলেন। সুইট মাত্র ৪৪ বলে এবং সাউথবি ৫১ বলে নিজেদের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। সাউথবি ৫৩ রান করে লোলা হ্যারিসের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। সুইট ৫৭ বলে ৮টি চারের সাহায্যে ৫৭ রান করে লিভ বার্নসের শিকার হন। শেষ দিকে আমান্ডা জেড ওয়েলিংটন এবং পপি তুলোচের কার্যকর ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে হ্যাম্পশায়ার ৩০৩ রানের বিশাল স্কোরে পৌঁছায়। সমারসেটের পক্ষে স্পিনার লিভ বার্নস ৫৪ রানে ৩টি এবং লোলা হ্যারিস ৫৬ রানে ২টি উইকেট নেন। তবে ফিল্ডিংয়ে সমারসেটের পারফরম্যান্স ছিল বেশ হতাশাজনক।
সমারসেটের রান তাড়া এবং লেরয়েড-ওজার্সের প্রতিরোধ
৩০৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সমারসেটের শুরুটা খুব একটা ভালো ছিল না। অধিনায়ক সোফি লাফ মাত্র ২৩ রান করে বিদায় নেন। তবে এরপরই শুরু হয় অনিকা লেরয়েড এবং বেক্স ওজার্সের মহাকাব্যিক লড়াই। এই দুই ব্যাটার হ্যাম্পশায়ারের বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। কোনো অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নিয়ে তারা মাত্র ৫৩ বলে ৫০ রানের জুটি পার করেন এবং ১৯ ওভারে দলীয় স্কোর ১০০ রানে নিয়ে যান।
লেরয়েড অত্যন্ত চমৎকার সব স্ট্রোক খেলে মাত্র ৫২ বলে ৮টি চারের সাহায্যে নিজের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। অন্যদিকে তুলনামূলক রক্ষণশীল ভঙ্গিতে খেলা ওজার্স ৭৩ বলে ৬টি চারের সাহায্যে অর্ধশতক স্পর্শ করেন। পপি তুলোচের একটি শর্ট বলকে লেরয়েড যখন দুর্দান্ত হুক শটে ছক্কায় পরিণত করেন, তখন এই জুটির ১০০ রান পূর্ণ হয়। ২৫ ওভার শেষে সমারসেটের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ১৪২ রান এবং তারা অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল।
হ্যাম্পশায়ারের বোলারদের প্রত্যাবর্তন ও সমারসেটের বিপর্যয়
সমারসেট যখন ১৯৯ রানে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, তখন ম্যাচ বাঁচানোর জন্য হ্যাম্পশায়ারের একটি অলৌকিক ব্রেকথ্রুর প্রয়োজন ছিল। আর ঠিক সেই কাজটিই করেন আমান্ডা জেড ওয়েলিংটন এবং জর্জিয়া অ্যাডামস। মাত্র ৩টি বলের ব্যবধানে তারা সমারসেটের দুই সেট ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরত পাঠান। প্রথমে ওজার্সকে (৭৭) উইকেটরক্ষকের ক্যাচে পরিণত করেন ওয়েলিংটন এবং ঠিক তার পরেই লেরয়েডকে (৮৭) নিজের ফিরতি ক্যাচে বিদায় করেন অ্যাডামস।
এই জোড়া ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই সমারসেটের ইনিংসে ধস নামে। ওয়েলিংটন দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে জেস হ্যাজেলকে বোল্ড করেন এবং জর্জিয়া অ্যাডামসের বলে নিয়াম হল্যান্ড মিড-উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। অ্যালেক্স গ্রিফিথসকে নিজের ফিরতি ক্যাচে পরিণত করে সমারসেটের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ওয়েলিংটন। মাত্র ১৯টি ডেলিভারির ব্যবধানে সমারসেট তাদের ৫টি উইকেট হারিয়ে ফেলে, যার ফলে তাদের স্কোর ১৯৯/১ থেকে ২১৩/৬-এ পরিণত হয়। এই নাটকীয় ধসের পর সমারসেটের জয়ের আর কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৪৬.৩ ওভারে ২৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায় সমারসেট। হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে জর্জিয়া অ্যাডামস ৪৫ রানে ৩টি এবং আমান্ডা জেড ওয়েলিংটন ৫২ রানে ৩টি উইকেট শিকার করেন।
উপসংহার
এই জয়ের ফলে মেট্রো ব্যাংক ওয়ান ডে কাপে হ্যাম্পশায়ারের পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হলো। পুরো ম্যাচে হ্যাম্পশায়ারের দলগত পারফরম্যান্স ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে সুইট, সাউথবি ও বুশিয়ারের ফিফটি এবং বোলিংয়ে অ্যাডামস ও ওয়েলিংটনের দুর্দান্ত স্পেল তাদের এই অবিস্মরণীয় জয় এনে দিয়েছে। অন্যদিকে, সমারসেটের অনিকা লেরয়েড ও বেক্স ওজার্স চমৎকার লড়াই করলেও মিডল অর্ডারের চরম ব্যর্থতার কারণে তাদের হার মানতে হয়েছে।
