Licthfield, spinners hand Australia big win over South Africa
টুর্নামেন্টের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার দাপট
অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে বদ্ধপরিকর ছিল। গত ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো শিরোপা ছাড়াই টুর্নামেন্টে নামার চ্যালেঞ্জ ছিল তাদের সামনে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই তারা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে সব সমালোচনার জবাব দিয়েছে। ফেবারিট হিসেবে আসা প্রোটিয়াদের ৬৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে অজিরা তাদের এবারের অভিযান শুরু করল।
ফিবি লিচফিল্ডের অসাধারণ ব্যাটিং
ম্যাচের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই অভিজ্ঞ বোলার মারিজান কাপ এবং শাবনিম ইসমাইল অস্ট্রেলিয়ার ওপেনারদের দ্রুত সাজঘরে ফেরান। তবে দলের বিপর্যয়ের মুহূর্তে হাল ধরেন তরুণ ব্যাটার ফিবি লিচফিল্ড। লিচফিল্ড তার সহজাত আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণকে ছিন্নভিন্ন করে দেন। পাওয়ারপ্লে-র শেষ দিকে তিনি যেভাবে ছন্দ খুঁজে পান, তা ছিল দেখার মতো। কাপ এবং ইসমাইলের মতো বোলারদের বিপক্ষে তার ব্যাট থেকে আসা একের পর এক বাউন্ডারি এবং ছক্কা অস্ট্রেলিয়াকে একটি মজবুত অবস্থানে পৌঁছে দেয়।
লিচফিল্ড মাত্র ২৩ বলে তার অর্ধশতক পূর্ণ করেন, যা অজিদের বড় সংগ্রহের পথ প্রশস্ত করে। যদিও আয়াবোঙ্গা খাকার বলে তিনি আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান, তবে তার ২৪ বলে ৫০ রানের ইনিংসটি দলের জন্য জয়ের ভিত গড়ে দেয়। পরবর্তীতে অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড এবং জর্জিয়া ওয়ারহামের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসগুলো অস্ট্রেলিয়াকে ১৭২ রানের লড়াকু পুঁজি এনে দেয়।
স্পিন জাদুতে কুপোকাত দক্ষিণ আফ্রিকা
১৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা অস্ট্রেলিয়ার স্পিন আক্রমণের সামনে অসহায় হয়ে পড়েন। ওয়ারহাম, মোলিনক্স এবং কিংসের সমন্বয়ে গড়া চার স্পিনারের বোলিং তোপে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস মাত্র ১০৭ রানেই গুটিয়ে যায়। এটি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন টি-টোয়েন্টি স্কোর। লরা উলভার্ট দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করলেও অন্য কোনো ব্যাটারই অজি বোলারদের সামনে দাঁড়াতে পারেননি।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড:
- অস্ট্রেলিয়া: ১৭২/৮ (লিচফিল্ড ৫০, পেরি ৩৬; ম্লাবা ২-২২, খাকা ২-৩৩)
- দক্ষিণ আফ্রিকা: ১০৭ অল আউট (উলভার্ট ৪৪; ওয়ারহাম ৩-১৩, মোলিনক্স ২-১৭, কিং ২-২৬)
ওয়ারহামের ৩ উইকেটের পাশাপাশি মোলিনক্স এবং কিংসের নিয়ন্ত্রিত বোলিং দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপকে পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে ফেলে। এই জয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া শুধু দুই পয়েন্টই অর্জন করেনি, বরং তাদের নেট রান রেটও অনেক বাড়িয়ে নিয়েছে। টুর্নামেন্টের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই জয়টি অস্ট্রেলিয়াকে মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে রাখবে। দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা, কারণ তারা এই আসরের অন্যতম দাবিদার হিসেবে অংশ নিয়েছিল। অজিদের এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে, শিরোপা পুনরুদ্ধারে তারা কতটা ক্ষুধার্ত।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
অস্ট্রেলিয়ার এই জয় বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের অজেয় থাকার সংকেত দিয়ে দিল। লিচফিল্ডের মতো তরুণদের ফর্ম এবং অভিজ্ঞ স্পিনারদের কার্যকারিতা অস্ট্রেলিয়াকে এবারের বিশ্বকাপের হট ফেবারিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের ভুলগুলো শুধরে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। বিশ্বমঞ্চে নারীদের এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এখন নতুন মোড় নিয়েছে, যেখানে প্রতিটি ম্যাচেই দেখা যাচ্ছে লড়াইয়ের তীব্রতা।
