ভাইটালিটি ব্লাস্টে ইয়র্কশায়ারের দুর্দান্ত জয়: বেয়ারস্টোর বিধ্বংসী ব্যাটিং
ভাইটালিটি ব্লাস্টের শুরুতেই ইয়র্কশায়ারের দাপট
ভাইটালিটি ব্লাস্টের এবারের আসরের উদ্বোধনী ম্যাচেই নিজেদের শক্তির জানান দিল ইয়র্কশায়ার। প্রায় ১২ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ট্রেন্ট ব্রিজের মাঠে নটিংহ্যামশায়ার আউটলজকে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে তারা। এই জয়ে মূল কারিগর ছিলেন অধিনায়ক জনি বেয়ারস্টো, যার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় স্বাগতিক নটিংহ্যামশায়ার।
বেয়ারস্টো ও ওয়ার্টনের বিধ্বংসী জুটি
ইয়র্কশায়ারের জয়ের লক্ষ্য ছিল ১৬৮ রান। শুরুটা অবশ্য মোটেও সুখকর ছিল না তাদের জন্য। মাত্র ১১ রান তুলতেই দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় ইয়র্কশায়ার। অ্যাডাম লিথ এবং উইল লাক্সটন দ্রুত সাজঘরে ফেরায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার চেষ্টা করেছিল নটিংহ্যামশায়ার। তবে এরপরই দৃশ্যপটে হাজির হন জনি বেয়ারস্টো এবং জেমস ওয়ার্টন। এই দুই ব্যাটার মিলে ১৪৪ রানের এক অবিস্মরণীয় জুটি গড়ে তোলেন। বেয়ারস্টো ৪৭ বলে অপরাজিত ৮৩ রানের একটি ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল নয়টি চার ও চারটি বিশাল ছক্কা। অন্যদিকে, ওয়ার্টন ৪১ বলে ৫৫ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে যোগ্য সঙ্গ দেন।
বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং
এর আগে, প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নটিংহ্যামশায়ার আউটলজ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৬৭ রান সংগ্রহ করে। পিচটি ভালো থাকলেও ব্যাটাররা বড় স্কোরের ভিত গড়ে দিতে ব্যর্থ হন। বেন ডাকেট (২৯) এবং নবাগত বেনি হাওয়েল (৩০) কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ইয়র্কশায়ারের স্পিনারদের সামনে তারা খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। জাফর চোহান ২ উইকেটে ২৬ রান, ডম বেস ২ উইকেটে ২৭ রান এবং অভিজ্ঞ মঈন আলী ১টি উইকেট শিকার করে নটিংহ্যামশায়ারকে বড় রানের লক্ষ্য থেকে বঞ্চিত করেন। শেষের দিকে বেনি হাওয়েলের তিনটি ছক্কা দলকে কিছুটা সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যায়, কিন্তু সেটি ইয়র্কশায়ারের ব্যাটিং লাইনআপের সামনে যথেষ্ট ছিল না।
ম্যাচের নাটকীয় মোড়
ইয়র্কশায়ারের ইনিংসের শুরুতে মোহাম্মদ আলীর করা দুর্দান্ত ইয়র্কারে লাক্সটনের বিদায় ইয়র্কশায়ার সমর্থকদের কিছুটা চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। তবে ওয়ার্টন এবং বেয়ারস্টো ধৈর্য এবং আগ্রাসনের এক দারুণ সংমিশ্রণ উপহার দেন। বিশেষ করে ১৩তম ওভারে মোহাম্মদ আলীকে মারা ওয়ার্টনের ছক্কাটি ছিল দেখার মতো। খেলা যখন শেষের পথে, তখন ইয়র্কশায়ারের জয়ের জন্য খুব কম রানের প্রয়োজন ছিল। শেষ পর্যন্ত ৩.৫ ওভার বাকি থাকতেই প্রয়োজনীয় রান তুলে ফেলে তারা। বেনি হাওয়েলের বল সীমানাছাড়া করে বেয়ারস্টো যখন জয় নিশ্চিত করেন, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত বিশাল দর্শকগোষ্ঠীর কণ্ঠে হতাশা ফুটে ওঠে।
উপসংহার
এই জয় ইয়র্কশায়ারকে টুর্নামেন্টে দারুণ আত্মবিশ্বাস জোগাবে। অধিনায়ক হিসেবে বেয়ারস্টো যেভাবে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাতে আগামী ম্যাচগুলোতেও তাদের ফেভারিট হিসেবে গণ্য করা হবে। নটিংহ্যামশায়ারকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে শুরু করাটা নিঃসন্দেহে ইয়র্কশায়ারের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি। অন্যদিকে, বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অল্প রানে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার কৌশলটি পুরোপুরি সফল হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই ফর্ম ধরে রেখে ইয়র্কশায়ার আসরের পরবর্তী ধাপগুলোতে কতটা সফল হয়।
