Latest Cricket News

আংশুল কম্বোজ কি আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ বোলার? চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান এটাই প্রমাণ করে

Ayesha Siddiqui · · 1 min read

আইপিএলের এবারের আসরে চেন্নাই সুপার কিংসের প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ পেসার আংশুল কম্বোজের জন্য একটি বিশেষ রাত ছিল চরম বিভীষিকাময়। এই মরসুমের শুরুতে চেন্নাইয়ের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হয়েও, গত দুটি ম্যাচে তিনি উইকেটশূন্য ছিলেন। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উদ্বেগজনক এবং লজ্জাজনক ঘটনাটি ঘটেছিল লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে, যেখানে তার বোলিং পারফরম্যান্স শুধু ক্রিকেট ভক্তদেরই নয়, দলের ম্যানেজমেন্টকেও স্তম্ভিত করেছে। তার এই পারফরম্যান্স তাকে আইপিএলের ইতিহাসে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের মালিক বানিয়েছে, যা নিয়ে ক্রিকেট মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

আংশুল কম্বোজের দুঃস্বপ্নময় রাত: রেকর্ডের নয়া অধ্যায়

লক্ষ্ণৌয়ের একানা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত চেন্নাই সুপার কিংস বনাম লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস ম্যাচটি সিএসকের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্লেঅফের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হলে এই ম্যাচে জয় ছিল তাদের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু ম্যাচের ফলাফল চেন্নাইয়ের পক্ষে যায়নি, এবং এই অপ্রত্যাশিত হারের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আংশুল কম্বোজের বোলিং। একানা পিচ সাধারণত পেসারদের জন্য সহায়ক হিসেবে পরিচিত, কিন্তু কম্বোজের জন্য রাতটি ছিল একেবারেই অন্যরকম, চরম হতাশার।

বোলিংয়ের শুরুতেই বিপর্যয়কর পারফরম্যান্স

আংশুল কম্বোজকে ম্যাচের তৃতীয় ওভারে প্রথমবার বল হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু তার শুরুটা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। প্রথম তিনটি ডেলিভারিতেই তিনি ১১ রান খরচ করেন, যা শুরুতেই তার আত্মবিশ্বাসকে নড়িয়ে দেয়। এরপর ম্যাচের পঞ্চম ওভারে তাকে আবারও বোলিংয়ে আনা হয়। এই ওভারটিই ছিল তার আইপিএল ক্যারিয়ারের অন্যতম কালো অধ্যায়। লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান মিচেল মার্শ তার প্রথম চারটি বলেই পরপর চারটি বিশাল ছক্কা হাঁকান। মার্শের আক্রমণাত্মক এবং চোখ ধাঁধানো ব্যাটিংয়ে কম্বোজের এই ওভারে মোট ২৮ রান ওঠে। স্টেডিয়ামের দর্শকরা এই বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখে যেমন মুগ্ধ হন, তেমনই কম্বোজের উপর চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং তার বোলিং ছন্দ সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়।

লজ্জাজনক রেকর্ডের পুনরাবৃত্তি

ম্যাচের ১৭তম ওভারে আংশুল কম্বোজকে আবারও বল হাতে দেওয়া হয়, সম্ভবত শেষ চেষ্টা হিসেবে। কিন্তু ভাগ্য তার সহায় ছিল না। আবারও, আশ্চর্যজনকভাবে, প্রথম চারটি ডেলিভারিতেই তিনি পরপর চারটি ছক্কা হজম করেন। এই দ্বিতীয়বারের মতো একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চেন্নাই সুপার কিংসের জয়ের সব আশা কার্যত শেষ করে দেয়। এই ম্যাচে আংশুল কম্বোজ সব মিলিয়ে মাত্র ২.৪ ওভার বোলিং করে ৬৩ রান খরচ করেন, যেখানে তার ইকোনমি রেট ছিল অবিশ্বাস্য ২৩.৬৩। একজন পেশাদার পেসারের জন্য, বিশেষ করে যিনি তার দলের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীদের একজন, এমন ইকোনমি রেট নিঃসন্দেহে চরম লজ্জাজনক এবং বিস্ময়কর। এই পারফরম্যান্স দলের হারের একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আইপিএলের ইতিহাসে আংশুল কম্বোজের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড

লক্ষ্ণৌয়ের বিরুদ্ধে এই একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স আংশুল কম্বোজকে আইপিএলের ইতিহাসে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত এবং বিরল রেকর্ডের মালিক বানিয়েছে। এই রেকর্ডগুলি তার বোলিং ক্যারিয়ারের একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে।

  • এক ম্যাচে ৮ ছক্কা হজমকারী দ্বিতীয় বোলার: আংশুল কম্বোজ আইপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় বোলার যিনি একটি মাত্র ম্যাচে আটটি ছক্কা হজম করেছেন। এর আগে ২০২৩ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান রিংকু সিংয়ের বিরুদ্ধে গুজরাট টাইটানসের যশ দয়াল এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েছিলেন। তবে কম্বোজ মাত্র ১৬টি বল করে তার অর্ধেক ডেলিভারিতেই (৮টি) ওভার-বাউন্ডারি হজম করেছেন, যা তার এই রেকর্ডকে আরও বেশি উদ্বেগজনক এবং বিরল করে তোলে।
  • এক ওভারে দুবার ৪ ছক্কা হজমকারী প্রথম বোলার: আংশুল কম্বোজ আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন যিনি একটি ম্যাচের দুটি ভিন্ন ওভারে পরপর চারটি করে ছক্কা হজম করেছেন। এমন ঘটনা আইপিএলের মতো উচ্চ-প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে আগে কখনো দেখা যায়নি, যা তার রাতের বিভীষিকাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

সিএসকের প্লেঅফ স্বপ্ন এবং কম্বোজের ভবিষ্যৎ

চেন্নাই সুপার কিংস এবারের মরসুমে একটি মিশ্র পারফরম্যান্স করেছে। টুর্নামেন্টের শুরুতে টানা তিনটি ম্যাচ হেরে গেলেও, পরবর্তীতে তারা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং জয়ের ধারায় ফিরে এসে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান মজবুত করে। বর্তমানে ১২টি ম্যাচ খেলে ৬টিতে জিতে তারা এখনও প্লেঅফের দৌড়ে টিকে আছে। প্লেঅফে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করতে হলে তাদের বাকি দুটি ম্যাচেই অবশ্যম্ভাবীভাবে জয়লাভ করতে হবে।

আংশুল কম্বোজ এই মরসুমে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে এখন পর্যন্ত মোট ১৯টি উইকেট শিকার করেছেন, যা তাকে দলের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীদের মধ্যে তৃতীয় স্থানে রেখেছে। তার উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, কিন্তু একই সাথে তার অত্যন্ত উচ্চ ইকোনমি রেট দলের জন্য মারাত্মক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে জ্যামি ওভারটনের মতো দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলারের অনুপস্থিতিতে কম্বোজের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কিন্তু তার এই পারফরম্যান্স হতাশাজনক। এই বিশাল রান হজম করার বিষয়টি সিএসকে ম্যানেজমেন্টের জন্য একটি বড় এবং জটিল প্রশ্ন তুলে ধরেছে: তারা কি আগামী দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘মাস্ট উইন’ ম্যাচে আংশুল কম্বোজকে প্রথম একাদশে রাখবে? তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দলের উপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং টিম কম্বিনেশনে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। সিএসকের জন্য এখন প্রতিটি ম্যাচই ফাইনালের মতো, এবং দলের বোলিং আক্রমণ ও খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে তাদের গভীর চিন্তাভাবনা করতে হবে। এই যুবকের জন্য এখন কঠিন সময়, তবে তার প্রতিভা তাকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে বলেই আশা করা যায়।

Avatar photo
Ayesha Siddiqui

Ayesha Siddiqui focuses on player reactions, press conference highlights, and exclusive cricket interviews.