Ravi Ashwin discloses his first-choice wicketkeeper for India’s ODI World Cup 2027
ভারতের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ২০২৭: উইকেটরক্ষক নিয়ে অশ্বিনের বিশ্লেষণ
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনে এখনও অনেক সময় বাকি থাকলেও ভারতীয় দলের সম্ভাব্য স্কোয়াড নিয়ে আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। ক্রিকেট মহলে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন উইকেটরক্ষকের জায়গাটি। কাগজে-কলমে এটি একটি মাত্র পজিশন মনে হলেও বাস্তবে এটি চারজন ক্রিকেটারের মধ্যে এক তীব্র প্রতিযোগিতার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেএল রাহুল, ঈশান কিষাণ, ঋষভ পন্ত এবং সঞ্জু স্যামসন—প্রত্যেকেই এই দৌড়ে রয়েছেন এবং প্রত্যেকের খেলার ধরন একে অপরের চেয়ে আলাদা।
(চিত্র সৌজন্যে: X.com)
কেন উইকেটরক্ষক নির্বাচন এত জটিল?
ভারতীয় দলের এই চার উইকেটরক্ষক ব্যাটারের প্রত্যেকেরই নিজস্ব কিছু বিশেষ গুণ রয়েছে যা নির্বাচকদের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত তৈরি করছে। কেএল রাহুল যেমন চাপের মুখে শান্ত থেকে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখেন, তেমনি ব্যাটিং অর্ডারের যে কোনো অবস্থানে ব্যাট করার নমনীয়তা তার সবচেয়ে বড় শক্তি। অন্যদিকে, ঈশান কিষাণ তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে শুরু থেকেই বিপক্ষ বোলারদের চাপে ফেলতে পারেন। সঞ্জু স্যামসন তার নিখুঁত টাইমিং এবং ক্লিন হিটিংয়ের জন্য পরিচিত, আর ঋষভ পন্তের কথা বললে তার কোনো বিকল্প নেই—তিনি এককভাবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
অশ্বিনের পছন্দের তালিকায় কে এগিয়ে?
সম্প্রতি অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন তার ইউটিউব চ্যানেলে ভারতের উইকেটরক্ষক নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন। Ravi Ashwin discloses his first-choice wicketkeeper for India’s ODI World Cup 2027 হিসেবে তিনি কেএল রাহুলকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। অশ্বিনের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেএল রাহুলই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিকল্প এবং ব্যাকআপ হিসেবে ঈশান কিষাণকে দলে রাখা যেতে পারে।
তবে অশ্বিন একই সাথে ঋষভ পন্তের ওপর থেকে এখনই আস্থা সরিয়ে ফেলার পক্ষপাতী নন। তার মতে, যেহেতু ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই পন্তের মতো आक्रामक ব্যাটারের প্রয়োজন হতে পারে। তিনি বলেন, ‘কেএল রাহুল আমার প্রথম পছন্দ এবং ঈশান কিষাণ ব্যাকআপ হিসেবে থাকতে পারে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বিশ্বকাপ হবে বলে পন্তকে এখনই বাতিলের খাতায় ফেলা ঠিক হবে না। ওয়ানডে ক্রিকেটে মিডল অর্ডারে পন্তের পারফরম্যান্স বেশ ভালো। ঈশান অসাধারণ খেলেছে, কিন্তু খুব দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে আসা উচিত নয়।’
নমনীয়তা বনাম এক্স-ফ্যাক্টর
কেএল রাহুল কেন অশ্বিনের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে, তার মূল কারণ হলো তার খেলার ধরণ পরিবর্তনের সক্ষমতা। তিনি পরিস্থিতির প্রয়োজনে ইনিংসের অ্যাঙ্কর হিসেবে কাজ করতে পারেন, আবার প্রয়োজনে দ্রুত রান তোলার গতিও বাড়িয়ে নিতে পারেন। আইসিসি টুর্নামেন্টে এই ধরণের নমনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, ঋষভ পন্তের মধ্যে রয়েছে সেই ‘এক্স-ফ্যাক্টর’, যা খুব কম খেলোয়াড়ের মধ্যেই দেখা যায়। তিনি ঝুঁকি নিতে ভয় পান না এবং তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং যে কোনো বোলিং লাইনআপকে ধসিয়ে দিতে পারে। যদিও ঈশান কিষাণ এবং সঞ্জু স্যামসন প্রতিভা ও পারফরম্যান্সের বিচারে শক্তিশালী দাবিদার, তবে তাদের ধারাবাহিকতা নিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন ওঠে।
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি
ভারতীয় দলে যদি রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা ২০২৭ সালেও বহাল থাকেন, তবে ব্যাটিং লাইনআপ অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে উইকেটরক্ষক কে হবেন, তার ওপর ভিত্তি করেই দলের সামগ্রিক গঠন নির্ধারিত হবে। এটি কেবল গ্লাভস হাতে উইকেটের পেছনে দাঁড়ানোর বিষয় নয়, বরং দলের ব্যাটিং অর্ডারের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও এখানে জড়িত। আপাতত এই লড়াইটি উন্মুক্ত রয়েছে এবং ক্রিকেট ভক্তদের কাছে এটি অত্যন্ত আগ্রহের একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন উইকেটরক্ষক ভারতের বিশ্বকাপ যাত্রার সঙ্গী হবেন, তা সময় এবং পারফরম্যান্সই বলে দেবে।
