Litton Das ruled out of final T20I against Australia – বাংলাদেশ শিবিরে বড় ধাক্কা
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টি থেকেও ছিটকে গেলেন লিটন দাস
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই দলে নেমে এসেছে বড় এক ধাক্কা। চোটের কারণে সিরিজের শেষ ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে গেছেন নিয়মিত অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। হ্যাঁ, এটি এখন নিশ্চিত যে Litton Das ruled out of final T20I against Australia। ইতিমধ্যেই সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা টাইগারদের জন্য এই খবরটি অত্যন্ত হতাশাজনক। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শেষ ম্যাচে সান্ত্বনার জয় তুলে নিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর মিশনটি এখন আরও কঠিন হয়ে পড়ল স্বাগতিকদের জন্য।
ইনজুরির সূত্রপাত এবং মিরপুরের সেই ইনিংস
লিটন দাসের এই ইনজুরির ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে তিনি প্রথম চোট পান। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ব্যাটিং করার সময় তিনি বাঁ পায়ের কাফে (Calf) চোট পান। চোটের তীব্রতা এতটাই ছিল যে তাকে মাঠ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। তবে দলের বিপর্যয় এড়াতে এবং অধিনায়কোচিত দায়িত্ব পালন করতে তিনি পরবর্তীতে আবারও ব্যাটিং ক্রিজে ফিরে আসেন। দীর্ঘ রান খরা কাটিয়ে সেই ম্যাচে তিনি একটি দারুণ অর্ধশতকও উপহার দেন। মিরপুরের দর্শকদের আনন্দ দিলেও তার ফিটনেস নিয়ে মাঠের ভেতরে ও বাইরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
ফিজিওর শঙ্কা এবং সৌম্য সরকারের দলে অন্তর্ভুক্তি
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ দলের ফিজিও লিটনের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তবে তিনি লিটনের চোট নিয়ে খুব একটা আশাপ্রদ বা ইতিবাচক কোনো আপডেট দিতে পারেননি। লিটনের খেলার বিষয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় নির্বাচকরা তড়িঘড়ি করে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সৌম্য সরকারকে ব্যাকআপ খেলোয়াড় হিসেবে স্কোয়াডে যুক্ত করেন। অবশেষে সেই আশঙ্কাই সত্যে পরিণত হলো, যখন দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির পর লিটনকে পুরো সিরিজ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়া হলো।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আনুষ্ঠানিক বিবৃতি
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে লিটন দাসের ছিটকে যাওয়ার খবরটি নিশ্চিত করে। বিসিবির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে:
“বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস তার কাফ স্ট্রেইন থেকে আশানুরূপভাবে সেরে উঠতে পারেননি। যার ফলে আগামী ২১ জুন চট্টগ্রামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় তথা শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি অংশ নিতে পারবেন না।”
বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়েছে যে, “গত ১৪ জুন সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচে বাঁ পায়ের কাফে ‘গ্রেড ১+’ স্ট্রেইনে আক্রান্ত হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এই চোটের কারণেই তিনি সিরিজের প্রথম দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও অংশ নিতে পারেননি।”
নেতৃত্বে আবারও তাওহীদ হৃদয়
লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে প্রথম দুই ম্যাচের মতো সিরিজের শেষ ম্যাচেও দলের নেতৃত্ব দেবেন তরুণ ক্রিকেটার তাওহীদ হৃদয়। নিয়মিত অধিনায়ক চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকায় হৃদয়ের কাঁধে এখন বিশাল দায়িত্ব। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে বাংলাদেশ দল ব্যাকফুটে রয়েছে। একজন তরুণ অধিনায়ক হিসেবে তাওহীদ হৃদয়ের জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন একটি পরীক্ষা। দলকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা থেকে রক্ষা করতে হলে তাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করতে হবে।
হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর মরিয়া লড়াই
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশ দল এখন ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচে স্বাগতিকদের পারফরম্যান্স মোটেও সন্তোষজনক ছিল না। বিশেষ করে ব্যাটিং অর্ডারে লিটন দাসের মতো অভিজ্ঞ ওপেনারের অভাব খুব স্পষ্টভাবেই লক্ষ্য করা গেছে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শেষ ম্যাচটিতে বাংলাদেশের একমাত্র লক্ষ্য থাকবে একটি সান্ত্বনার জয় তুলে নেওয়া। তা না হলে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ বা ক্লিন সুইপের স্বাদ নিতে হবে টাইগারদের।
বাংলাদেশ দলের বর্তমান পরিকল্পনা ও করণীয়
লিটন দাসের ছিটকে যাওয়ার পর বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজমেন্টকে তাদের পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হবে। ওপেনিং জুটি এবং মিডল অর্ডারে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দলে ডাক পাওয়া সৌম্য সরকারের ওপরেও থাকবে বাড়তি দায়িত্ব। চট্টগ্রামে ব্যাটিং বান্ধব উইকেটে টস জেতা এবং পাওয়ার প্লে-র সঠিক ব্যবহার করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া দল চাইবে কোনো সুযোগ না দিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে দেশে ফিরতে।
সব মিলিয়ে, লিটন দাসের চোট বাংলাদেশ শিবিরের চিন্তার কারণ হলেও তরুণদের সামনে এটি নিজেদের প্রমাণ করার বড় সুযোগ। তাওহীদ হৃদয়ের অধীনে টাইগাররা শেষ ম্যাচে কেমন ঘুরে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। ভক্ত-সমর্থকরা আশা করছেন, দল সব বাধা পেরিয়ে চট্টগ্রামে একটি দুর্দান্ত জয় উপহার দেবে।
