Only three bowlers have conquered Chepauk with ODI five-fors
চেন্নাইয়ের ঘূর্ণি পিচে পেসারদের রাজত্ব
এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়াম বা চিপক মানেই সাধারণত স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য। দশকের পর দশক ধরে এই মাঠের পিচ ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নিয়েছে স্পিন দিয়ে। পেসারদের জন্য এখানে সাফল্য পাওয়া সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। তবে শনিবার প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা সব হিসেব উল্টে দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, কঠোর পরিশ্রম আর সঠিক লাইন-লেন্থ থাকলে যে কোনো পিচেই আধিপত্য বিস্তার করা সম্ভব।
প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার ঐতিহাসিক স্পেল
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা ৫টি উইকেট তুলে নেন মাত্র ২৩ রানের বিনিময়ে। এটি কেবল ওই ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্সই ছিল না, বরং চিপকের ওয়ানডে ইতিহাসে সেরা বোলিং ফিগার হিসেবেও গণ্য হচ্ছে। প্রসিদ্ধের এই বিধ্বংসী বোলিংয়ের সুবাদে দীর্ঘ ১৫ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। তার এই সাফল্য ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
চিপকের রেকর্ডের ইতিহাস
চিপকের মাঠে ওয়ানডে ক্রিকেটে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি বেশ বিরল। ক্রিকেট পরিসংখ্যান বলছে, ইতিহাসে Only three bowlers have conquered Chepauk with ODI five-fors। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার আগে মাত্র দুইজন বোলার এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পেরেছিলেন।
- আকিব জাভেদ: ১৯৯৭ সালের পেপসি ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের এই পেসার ৬১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে প্রথম এই তালিকায় নাম লেখান।
- রবি রামপাল: ২০১১ সালে ভারতের বিপক্ষেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই বোলার ৫১ রানে ৫ উইকেট শিকার করে আকিবের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যান।
- প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা: ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যান।
পরিশ্রমের ফল
ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা জানান, উত্তপ্ত আবহাওয়ার মধ্যেও দলের জন্য অবদান রাখতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে সঠিক লেংথ নিয়ে কাজ করছি। বিশেষ করে মরনে মরকেলের পরামর্শ আমার বোলিংয়ে দারুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আজকের এই পারফরম্যান্স সেই প্রস্তুতিরই ফসল।’
প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা আরও স্বীকার করেন যে, প্রচণ্ড গরমের কারণে তিনি কিছুটা ক্লান্ত ছিলেন, কিন্তু দলের প্রয়োজনে বোলিং চালিয়ে যাওয়াটা ছিল তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার এই মানসিকতা এবং স্কিল তাকে আধুনিক ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল পেসার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
কেন এটি বিশেষ?
চিপকের পিচে যেখানে পেসাররা সাধারণত ধৈর্য ধরে বোলিং করতে অভ্যস্ত, সেখানে প্রসিদ্ধের এই স্পেলটি ছিল আগ্রাসী। তিনি ব্যাটসম্যানদের কোনো সুযোগই দেননি থিতু হওয়ার। তার বোলিং ভ্যারিয়েশন এবং গতি আফগান ব্যাটসম্যানদের জন্য ছিল ধাঁধার মতো। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এই ধরণের পারফরম্যান্স খুব কমই দেখা যায়, বিশেষ করে ভারতের মাটিতে যেখানে স্পিনাররা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হন।
উপসংহারে বলা যায়, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার এই অর্জন কেবলমাত্র একটি সংখ্যার রেকর্ড নয়, বরং এটি তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং আধুনিক ক্রিকেটে দ্রুতগতির বোলারদের টিকে থাকার লড়াইয়ের একটি প্রতীক। ক্রিকেট সমর্থকরা নিশ্চিতভাবেই তার কাছ থেকে ভবিষ্যতে আরও এমন বিধ্বংসী স্পেল দেখার প্রত্যাশা করবেন।
