Rainey replaces injured Maqsood in Scotland squad
স্কটল্যান্ড শিবিরে বড় ধাক্কা: ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন আবতাহা মাকসুদ
আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের যাত্রার ঠিক আগ মুহূর্তে বড় দুঃসংবাদ এল দলটির জন্য। দলের প্রধান লেগস্পিনার আবতাহা মাকসুদ হাতের ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ফিল্ডিংয়ের সময় তিনি এই ইনজুরির শিকার হন। তার এই অনুপস্থিতি দলের শক্তির জায়গাটিকে কিছুটা হলেও দুর্বল করে দিল।
হ্যানা রেইনির অন্তর্ভুক্তি
মাকসুদের অনুপস্থিতিতে দলের বোলিং আক্রমণে ভারসাম্য বজায় রাখতে অভিজ্ঞ মিডিয়াম পেসার হ্যানা রেইনিকে দলে নেওয়া হয়েছে। রেইনি বর্তমানে ইংল্যান্ডের ভাইটালিটি ব্লাস্টে ইয়র্কশায়ারের হয়ে খেলছিলেন। স্কটল্যান্ড দলের শনিবারের উদ্বোধনী ম্যাচের আগেই তিনি দলের সাথে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। রেইনির অন্তর্ভুক্তি দলের পেস আক্রমণকে নতুন মাত্রা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আবতাহা মাকসুদের গুরুত্ব ও পরিসংখ্যান
স্কটল্যান্ডের জন্য আবতাহা মাকসুদের অভাব অনুভব করাটা খুবই স্বাভাবিক। তিনি কেবল একজন সাধারণ বোলার নন, বরং তিনি স্কটল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী। নারী টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তিনি ৭৩টি উইকেট নিয়েছেন, যেখানে তার গড় ১৭.৭২ এবং ইকোনমি রেট ৫.৬৩। দলের এমন একজন অভিজ্ঞ বোলারকে পাওয়া যেকোনো দলের জন্যই বিশাল সম্পদ, আর বিশ্বকাপ মঞ্চে তাকে না পাওয়া স্কটল্যান্ডের জন্য বড় ক্ষতি।
কোচের প্রতিক্রিয়া
দলের প্রধান কোচ ক্রেইগ ওয়ালেস মাকসুদের ইনজুরিতে বেশ মর্মাহত। তিনি বলেন, ‘পুরো স্কোয়াড এবং কোচিং স্টাফ আবতাহাকে নিয়ে অত্যন্ত ব্যথিত। আমাদের দলের মাঠের ভেতরে এবং বাইরে, উভয় জায়গাতেই তার অবদান অপরিসীম। তিনি আমাদের দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আমরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি এবং আশা করি তিনি খুব দ্রুতই ক্রিকেটের মূল ধারায় ফিরে আসবেন।’
হ্যানা রেইনির অভিজ্ঞতা
অন্যদিকে, দলে সুযোগ পাওয়া হ্যানা রেইনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন নন। তিনি এর আগেও ৪১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। তার পরিসংখ্যান বলছে, তিনি বল হাতে যথেষ্ট কিপটে এবং কার্যকর। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার সংগ্রহ ২৫টি উইকেট এবং ইকোনমি রেট ৫.৩৯। রেইনির অভিজ্ঞতা দলকে সামনের ম্যাচগুলোতে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
কোচ ক্রেইগ ওয়ালেস আরও যোগ করেন, ‘হ্যানা এখন দলে যোগ দিচ্ছে এবং আমরা তাকে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত। তার আন্তর্জাতিক খেলার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমাদের সামনে যে চ্যালেঞ্জিং সপ্তাহগুলো আসছে, সেখানে এটি তার জন্য নিজেকে প্রমাণ করার একটি চমৎকার সুযোগ।’
বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের সম্ভাবনা
মাকসুদের মতো একজন ম্যাচ উইনারকে হারানো স্কটল্যান্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং রেইনির মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের আগমনে দলটি নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। শনিবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে স্কটল্যান্ড। ক্রিকেট ভক্তদের চোখ থাকবে স্কটিশ নারীদের এই নতুন সমন্বয়ের দিকে। এখন দেখার বিষয়, মাকসুদের শূন্যতা কাটিয়ে রেইনি কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেন এই মহাযজ্ঞে।
বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে ইনজুরি সবসময়ই দলের পরিকল্পনা এলোমেলো করে দেয়। তবে স্কটল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্ট যেভাবে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিয়ে রেইনিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। এখন মাঠের পারফরম্যান্সই বলে দেবে তারা কতটা প্রস্তুত।
