Liam Livingstone answers Lancashire SOS with return to Championship cricket
ল্যাঙ্কাশায়ারের ডাকে সাড়া দিয়ে লাল বলের ক্রিকেটে ফিরছেন লিভিংস্টোন
ক্রিকেট বিশ্বে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এবং সাদা বলের ক্রিকেটের দাপটে যখন লাল বলের ফরম্যাট কিছুটা কোনঠাসা, ঠিক তখনই এক চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নিলেন লিয়াম লিভিংস্টোন। Liam Livingstone answers Lancashire SOS with return to Championship cricket—এই শিরোনামটিই এখন ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেট পাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রায় সাড়ে তিন বছর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার পর ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে মাঠে নামতে চলেছেন এই তারকা অলরাউন্ডার।
কেন এই হঠাৎ প্রত্যাবর্তন?
লিভিংস্টোনের এই ফেরাটি মোটেও পরিকল্পিত ছিল না। চলতি বছরের শুরুতে তিনি ল্যাঙ্কাশায়ারের সঙ্গে শুধুমাত্র টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের চুক্তি করেছিলেন, যা দেখে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে তার রেড-বল ক্যারিয়ার হয়তো শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু ল্যাঙ্কাশায়ারের বর্তমান ইনজুরি সংকট তাকে ফেরাতে বাধ্য করেছে। দলের অধিনায়ক জেমস অ্যান্ডারসন এবং প্রধান কোচ স্টিভেন ক্রফট যখন এসওএস (SOS) বার্তা পাঠান, তখন লিভিংস্টোন না করতে পারেননি। ক্রিস গ্রিন, লুক ওয়েলস, অরব শেঠি, অজিত সিং ডেল, পল কফলিন, ফিল সল্ট এবং মিচেল স্ট্যানলির মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে ল্যাঙ্কাশায়ার এক গভীর সংকটে পড়েছিল।
লিভিংস্টোনের নিজস্ব ভাবনা
বিবিসি রেডিও ল্যাঙ্কাশায়ারের সঙ্গে আলাপকালে লিভিংস্টোন জানান, ‘আমি গত কয়েক বছর ধরে বলে আসছি যে আমি ছন্দ খুঁজে পাচ্ছি না। মাঝপথে ব্যাটিং করার সুযোগ পাচ্ছি না, কারণ আমাকে নিচে নামানো হচ্ছে। এটি আমার কাছে মাঝখানে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ।’ তিনি খোলাখুলিই স্বীকার করেছেন যে, দলের সবাই সুস্থ থাকলে হয়তো তাকে এই ম্যাচে দেখা যেত না। তবে অ্যান্ডারসন এবং ক্রফটের অনুরোধ তাকে এই চ্যালেঞ্জ নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে খুব একটা প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তার নেই, তবুও দলের প্রয়োজনে এই ঝুঁকি নিচ্ছেন তিনি।
সাম্প্রতিক ফর্ম ও চ্যালেঞ্জ
আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে খুব বেশি খেলার সুযোগ না পেলেও, দেশে ফেরার পর লিভিংস্টোন ছন্দে রয়েছেন। ডারহামের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট ম্যাচে মাত্র ৩১ বলে অপরাজিত ৮৫ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি তার সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। এই ফর্মটিই এখন ল্যাঙ্কাশায়ারকে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বাড়তি সাহস জোগাচ্ছে। ল্যাঙ্কাশায়ার বর্তমানে দ্বিতীয় বিভাগের পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানে রয়েছে এবং তাদের সামনে লক্ষ্য এখন কেন্ট ও ডার্বিশায়ারের বিরুদ্ধে জয় তুলে নেওয়া।
দলের নতুন মুখ ও লক্ষ্য
ল্যাঙ্কাশায়ারের স্কোয়াডে শুধুমাত্র লিভিংস্টোন নন, এসেছে আরও কিছু পরিবর্তন। ১৭ বছর বয়সী উইকেটকিপার-ব্যাটার জো মুরস প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন। এছাড়া ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন জেমস অ্যান্ডারসন। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ কেন্ট এই ম্যাচে জ্যাক ক্রলিকে পাচ্ছে না, যিনি নিজের ফর্মের খোঁজে সাময়িকভাবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে বিরতি নিয়েছেন। ল্যাঙ্কাশায়ারের কোচিং প্যানেল এখন আশা করছে, লিভিংস্টোনের অভিজ্ঞতায় ভর করে তারা চলতি মৌসুমে তাদের প্রচারণার আশা টিকিয়ে রাখতে পারবে।
উপসংহার
একজন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটারের এভাবে লাল বলের ক্রিকেটে ফিরে আসা আধুনিক ক্রিকেটে বিরল। লিভিংস্টোনের এই প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র ল্যাঙ্কাশায়ারকে সাহায্য করবে না, বরং তার নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের স্বপ্নকেও হয়তো নতুন করে বাঁচিয়ে তুলবে। ক্রিকেট ভক্তরা এখন তাকিয়ে আছেন ব্ল্যাকপুলের সেই ম্যাচের দিকে, যেখানে লিয়াম লিভিংস্টোন তার চিরচেনা আগ্রাসী ব্যাটিং দিয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের পিচে ঝড় তুলতে প্রস্তুত।
