News

Ashwin: Suryakumar’s axing will set precedent for future selection calls – অশ্বিনের চাঞ্চল্যকর মন্তব্য

Farhan Malik · · 1 min read

সূর্যকুমার যাদবের বাদ পড়া নিয়ে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের কড়া প্রতিক্রিয়া

ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলকে বিশ্বকাপ জেতানোর মাত্র দুই মাসের মাথায় দল থেকে বাদ পড়েছেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। এই সিদ্ধান্ত কেবল ভক্তদেরই চমকে দেয়নি, বরং ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভারতের অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন মনে করেন, সূর্যকুমারকে ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য আরও কিছুটা সময় দেওয়া উচিত ছিল। এভাবে সরাসরি দল থেকে বাদ দেওয়াটা অত্যন্ত কঠিন একটি সিদ্ধান্ত।

একটি ক্রিকেট ভিত্তিক ভিডিও শো-তে কথা বলার সময় অশ্বিন এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি নিজেকে সূর্যকুমারের জায়গায় বসিয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেছেন। অশ্বিনের মতে, বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে কোনো ধরনের সতর্কবার্তা ছাড়া বাদ দেওয়া ভারতীয় ক্রিকেটে এক নজিরবিহীন ঘটনা।

পরিসংখ্যান এবং সূর্যকুমারের ব্যাটিং ফর্ম

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটার হিসেবে সূর্যকুমার যাদবের পারফরম্যান্স খুব একটা ধারাবাহিক ছিল না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি ১৩৬.৭২ স্ট্রাইক রেটে ২৪২ রান করেছিলেন। এরপর আইপিএলেও তিনি তার চেনা ছন্দ খুঁজে পেতে লড়াই করেছেন, যেখানে ১৪৭.৫৪ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেন ২৭০ রান।

তবে অশ্বিন মনে করেন, শুধুমাত্র ব্যাটিং ফর্ম দিয়ে একজন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে বিচার করা যায় না। তিনি বলেন, ‘আমি জাস্ট সূর্যকুমার যাদবের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে চিন্তা করছি। হ্যাঁ, গত ১৫ বা ১৮ মাস ধরে আমার ব্যাটিং ফর্ম হয়তো খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। আমি আমার সেরা ফর্মে ছিলাম না। কিন্তু তার পরেও তো আমি দেশের জন্য একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় করেছি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘ব্যাটার হিসেবে হয়তো তার বিশ্বকাপটা সবচেয়ে সেরা কাটেনি, কিন্তু দলের কোচ, সহ-অধিনায়ক, সেরা পারফর্মিং ব্যাটার বা সেরা বোলারের মতোই তিনিও দলের সেরা পারফর্মিং অধিনায়ক ছিলেন, তাই নয় কি? তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছেন।’

নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের ভবিষ্যৎ প্রভাব

অশ্বিন বিশ্বাস করেন, এই নির্মম সিদ্ধান্তটি ভবিষ্যতে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা কি দলের অন্য কোনো বড় তারকা খেলোয়াড়কে এই অবস্থানে কল্পনা করতে পারি? এর আগে কি এমন কোনো উদাহরণ আছে যেখানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী কোনো অধিনায়ককে কোনো সতর্কবার্তা বা আলটিমেটাম ছাড়াই দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে?’

যদিও অশ্বিন নিশ্চিত যে নির্বাচকদের পক্ষ থেকে সূর্যকুমারের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল, তবুও তিনি মনে করেন এটি দল নির্বাচনের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী দিন। ভবিষ্যতে যখনই এই ধরনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হবে, তখন এই সিদ্ধান্তটিকে একটি উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

শ্রেয়াস আইয়ারের অধিনায়কত্ব ও নতুন চ্যালেঞ্জ

সূর্যকুমার যাদবের পরিবর্তে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শ্রেয়াস আইয়ারকে। অথচ শ্রেয়াস গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতের হয়ে কোনো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেননি। তবে আইপিএলে তার অধিনায়কত্বের ট্র্যাক রেকর্ড বেশ ভালো। ২০২৪ সালে তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (KKR) শিরোপা এনে দেন এবং ২০২৫ সালে পাঞ্জাব কিংসকে (PBKS) ফাইনালে নিয়ে যান।

শ্রেয়াসের এই প্রত্যাবর্তনকে সাধুবাদ জানালেও অশ্বিন কিছু প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা আলোচনা করছিলাম যে শ্রেয়াসের টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পাওয়া উচিত। আমি অবশ্যই তার পক্ষে। কিন্তু আমি ভাবছি, আমি যদি সেই বিশ্বকাপজয়ী দলের বাকি ১৪ জন সদস্যের একজন হতাম, তবে আমি হয়তো একে অপরের দিকে তাকিয়ে বলতাম— আমরাও তো দীর্ঘদিন ধরে এখানে আছি। আমরা কি অধিনায়ক হওয়ার মতো যথেষ্ট অবদান রাখিনি?’

অশ্বিন মনে করেন, আইপিএলে শ্রেয়াস একজন দারুণ অধিনায়ক হিসেবে নিজের কৌশলগত দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক দলের নিজস্ব কিছু ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি থাকে, যা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

সহ-অধিনায়কত্ব ও দলের অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা

অশ্বিন দলের নেতৃত্ব নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে অক্ষর প্যাটেল যখন সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন তাকে পাশ কাটিয়ে শ্রেয়াসকে অধিনায়ক করায় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়।

অশ্বিন বলেন, ‘অক্ষর প্যাটেল ছিলেন সহ-অধিনায়কের জন্য একটি বড় পছন্দ। এখন সহ-অধিনায়ক যদি অধিনায়কের পদে উন্নীত হতে না পারেন, তবে আমরা আবারও পেছনের দিকে ফিরে যাচ্ছি এবং সেই পুরনো বিষয়গুলো নিয়েই প্রশ্ন তুলতে বাধ্য হচ্ছি।’

সব মিলিয়ে, সূর্যকুমার যাদবের দল থেকে বাদ পড়া এবং শ্রেয়াস আইয়ারের নতুন অধিনায়ক হিসেবে আগমন ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

Avatar photo
Farhan Malik

Farhan Malik writes tactical T20 cricket analysis with a focus on momentum shifts, batting strategies, and death-over performance.